নেইমার বনাম প্যালেস্টাইন

নেইমার বনাম প্যালেস্টাইন

নেইমার ফুটবল বিশ্বের আরেক আপকামিং লিজেন্ড। খুব বেশী খেলা দেখিনা বলেই নেইমারের খেলা কমই দেখেছি। সকলের মত আমারও ভাল লেগেছে তার খেলা। ব্রাজিলিয়ান এই তারকা নেইমারের পায়েও জাদু রয়েছে। নেইমার যখন কমরে আঘাত পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পরে তখন আমারও খারাপ লেগেছিল। ইমোশনাল হয়ে একটা স্টাটাসও দিয়েছিলাম। চোখের পানি না পরলেও খুব কস্ট লেগেছিল বারবারই ভাবছিলাম অনৈতিক ভাবে এই আঘাতের জন্য শাস্তি পাওয়াটাই উচিৎ ছিল।

নেইমার বনাম প্যালেস্টাইন, নেইমার, ফুটবল, ব্রাজিলিয়ান, ইহুদি এজেন্ট নেইমার, ইজরাইল,

এই ছিল ব্রাজিল আর ফুটবল নিয়ে মেতে থাকা দেশগুলার অবস্থা। কিন্তু পৃথিবীর অপর প্রান্ত ফিলিস্তিনে তখন চলছে আক্রমন, নির্বিচারে হত্যা করা হল নারী-শিশুসহ সাধারণ নাগরিকদের। নেইমারের মত ওরকম একজনের কমরের আঘাতের জন্য লক্ষ কোটি মানুষ কাঁদলেও ফিলিস্তিনী শত শত প্রানের জন্য যেন কাঁদার কেও নেই। আর আহতের সংখ্যা? তা অনেক আগেই হাজার পেরিয়েছে। এক মহান ব্যাক্তির কমরের আঘাতের জন্য লক্ষ কোটি মানুষ কাঁদলেও, হয়ত শত মানুষও কাঁদেনি সেই হাজার মানুষের আহতের সংবাদ শুনে।
এতে নেইমারের দোষ নেই, তা আমি বলছিও না। তখন স্বাভাবিক ভাবেই ফিলিস্তিনি ভিবিন্ন পেজ, গ্রুপ, ইভেন্ট, ইত্যাদি-তে সমবেদনা জানাতে এবং তাৎক্ষনিক খবরা খবর জানতে ঘুরাঘুরি শুরু করি। কিন্তু সেই সময় এমন কিছু তথ্য, চিত্র, ভিডিও দেখতে পাই যার অন্যতম কেন্দ্র চরিত্রে এই মহা নায়কও রয়েছেন।

নেইমার বনাম প্যালেস্টাইন, নেইমার, ফুটবল, ব্রাজিলিয়ান, ইহুদি এজেন্ট নেইমার, ইজরাইল,

ফিলিস্তিনি ভিবিন্ন পেজ, গ্রুপ, ইভেন্ট, ইত্যাদি-তে যখন আক্রমেনের বৈধতার প্রস্ন নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ঠিক তখনি দেখা যায় মেসি, নেইমার সহ পুরা বার্সেলোনা দলের একটি ভ্রমন কাহিনী চিত্র। তাতে দেখা যায় ইসরাইলের, জেরুজালেমে অবস্থিত একটি দেওয়ালের পাসে তারা ইয়াহুদিদের সাথে প্রার্থনারত। স্বাভাবিক ভাবেই জেরুজালেমে অবস্থিত এই দেওয়াল সম্পর্কে জানতে আগ্রহ বেরে যায়। তথ্যের জন্য ভিবিন্ন ইয়াহুদি ধর্মিয় এবং ইসরাইলী সাইট ঘাটাঘাটি শুরু করি। (প্রার্থনা রত নেইমারের ভিডিও  http://www.youtube.com/watch?v=2JqckdwtaPM)

ঘাটাঘাটির এক পর্যায় জানতে পারি ইহা সাধারন কোন ইহুদিদের প্রার্থনালয় নয় বরং উক্ত স্থানটিতে বিশেষ ভাবে ইসরাইলের দীর্ঘ আয়ু কামনা করা হয় যা থেকে । ফলে উক্ত স্থানে প্রার্থনার মাধ্যমে শুধু ইয়াহুদি ধর্ম নয় বরং ইসরাইলের প্রতি সমর্থনেরই বহির প্রকাশ করা হয়। উক্ত স্থানটিতে প্রার্থনা করা আর সাধারন ইহুদিদের প্রার্থনালয় প্রার্থনা করার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। কারন ইহুদিদের প্রার্থনালয় প্রার্থনা করার মাধ্যমে ইয়াহুদি ধর্মের প্রতি সমর্থন জানান আর । উক্ত স্থানটিতে প্রার্থনা করার স্পস্ট অর্থ ইয়াহুদি ধর্মের প্রতি সমর্থন এবং ইসরাইলের প্রতি সমর্থন। অথচ ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্রের পক্ষে সমর্থনের মানেই হচ্ছে স্বাধীন প্যালেস্টাইনের বিরোধিতা করা। (ঐ দেয়াল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন এখানে  https://www.facebook.com/OfficialRussianJews/posts/10151792087936955)
আমি আবারও ব্যাপারটা স্পস্ট করার জন্য আলোচনা করছিঃ উনারা খ্রিস্টান খ্রিস্টান চার্জে যাবে এটাই তো শ্বাভাবিক তা নিয়ে আমার দ্বিমত নেই, কিন্তু উনারা ইহুদিদের প্রার্থনালয়ে শুধু ভ্রমনই করেননি বরং সেখানে প্রার্থনাও করেছে। তাও না হয় মেনে নিলাম উনারা ইয়াহুদি ধর্ম অবলম্বী হতেই পারে, কিন্তু ঐ প্রার্থনালয় ইয়াহুদিদের সাধারন কোন প্রার্থনালয় না বরং উক্ত স্থানটিতে বিশেষ ভাবে ইসরাইলের দীর্ঘ আয়ু কামনা করা হয় এবং উক্ত স্থানটিতে উনারা ঠিক সেই রীতি মেনেই প্রার্থনা করেছেন। যা আজ ইয়াহুদিরা পক্ষে একটা বড় হাতিয়ার হয়ে গিয়েছে। যা আজ কথায় কথায় ইসরাইল সমর্থক পেজ, গ্রুপ, ইভেন্ট গুলো শেয়ারের মাধ্যমে তাদের সমর্থনের পক্ষে মত ভারী করে। যা প্যালেস্টাইনের মুসলিমদের জন্য অবশ্যই বড় ধরনের কস্টের এবং হুমকির কারন হয়ে দারিয়েছে। ( ফিলিস্তিনি একটি পেইজের স্ট্যাটাস লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/IsraelWC/photos/a.333013306789497.74117.333012743456220/658190020938489/?type=1&relevant_count=1 )

নেইমার বনাম প্যালেস্টাইন, নেইমার, ফুটবল, ব্রাজিলিয়ান, ইহুদি এজেন্ট নেইমার, ইজরাইল,

অনেকেই বলবে এইটা ইউনিসেফের একটি শান্তি ট্যুর ছিল। বার্সলনার সকলকে নিয়ে গিয়েছিল। এতে এদের দোষের কিছু নেই। উনারা কি করবে, ইত্যাদি ইত্যাদি…। তাদের উত্তরে আমি বলব হুম্মম পৃষ্ঠার অপর পিঠও রয়েছে। যাদের উপর টীম প্রধানের চাপ কেন দেশের প্রধানমন্ত্রীও চাপ প্রয়োগ কুরিয়ে সমর্থন আদায় করতে পারেনি ইসরাইল। তার উদাহরন আমি পরের পোস্টেই দিব।
এবার অনেকেই বলবে নেইমারের মাথায় ইয়াহুদিদের টুপি তাতে কি? তাদের জন্য একটা প্রশ্ন করিঃ যদি নেইমারের মাথার এই টুপিটা ইয়াহুদিদের না হয়ে মুসলমানের হত তবে কি আপনি বেশী খুশি হতেন না? আপনি কি গর্বের সাথে তা শেয়ার করতেন না? আপনি কি বিশ্ব বাসীর কাছে প্যালেস্টাইনের পক্ষে সমর্থন অর্জনের জন্য তা প্রমান হিশাবে উপাস্থাপন করতেন না? ঠিক তেমনটাই আজ করছে আজ ইয়াহুদি পন্থী সংবাদ মাধ্যম থেকে শুরু করে সোশ্যাল পেজগুলা। যার মাধ্যমে ঢাকা দেওয়া হচ্ছে শত শত প্রানের আত্য চিৎকার।
সেদিন তাদের উপস্থিতে সেদিন জেরুজালেমের সালতিতে কিছু মানুষ বিদ্রোহও করে, এতে মেসি কে নিয়ে কিছু বিকৃত প্লাকার্ড বানিয়ে তারা সেখানে অংশগ্রহন করে। সেই বিদ্রোহ সম্পর্কে দুটি সংবাদ পঞ্চম এবং ছস্ট মন্তব্যে শেয়ার করলাম। তারপরও আরও কিছু ছবি আমি পরবর্তি মন্তব্যগু-লোতে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করছি। সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন ।

নেইমার বনাম প্যালেস্টাইন, নেইমার, ফুটবল, ব্রাজিলিয়ান, ইহুদি এজেন্ট নেইমার, ইজরাইল,

আমার কাছে মনে হয়েছে এটা সবার সাথে শেয়ার করা উচিৎ শুধুমাত্র সেই চিন্তা থেকেই শেয়ার করলাম। ভাল লাগা, খারাপ লাগা একান্তই আপনার ব্যাপার। আম জানি অনেকেই সব দেখেও মানবেন না এতে আমার দুঃখ নেই, আবার অনেকেই বলবেন ধর্ম ধর্মের জায়গায় খেলা খেলার জায়গায় তাদের জন্য বলব তাহলে তারা কেন খেলার সাথে ধর্ম জরায়? তারা কেন খেলার মাধ্যমে আমাদের সাপোর্ট যোগাড় করে আমাদেরই বিরুদ্ধে ঐক্যমত গঠন করে?

সব শেষে আবারও বলব শত্রুমি কিংবা কোন প্রকার রাগের থেকে নয় বরং যারা আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের হত্যাকারী ইসরাইলের প্রতি সাপোর্ট দিচ্ছে এবং দিবে তাদের আমি ঘিন্যা করি, ঘিন্যা করি এবং ঘিন্যা করি। এতে যদি আপনি আমাকে ঘিন্যা করেন আমার কিছুই করার নেই। এতে যদি আপনি আমাকে উগ্র পন্থী মুসলিম বলেন অথবা জংগি তাতেও আমার দুঃখ নেই। আমার কাজ ছিল এই মেসেজটা আপনার কানে পৌছে দেওয়া আর আমি তা পৌছে দিলাম। ভাল লাগা মন্দ লাগা একান্তই আপনার। যদি বিন্দু পরিমান কস্ট দিয়ে থাকি অবশ্যই ক্ষমা করবেন

About Mehedi Menafa

Mehedi Menafa

একটি উত্তর দিন