নতুন দায়িত্বে বেসিস আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশ শীর্ষে!

নতুন দায়িত্বে বেসিস আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশ শীর্ষে!

     গত ২ জুলাই বাংলাদেশের সফটওয়্যার খাতের শীর্ষ সংগঠন বেসিসের ২০১২-১৪ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন কমিটির মধ্যে পদ বণ্টনও সুসম্পন্ন হয়েছে।

এবারে তাই বেসিসের সাবেক সভাপতি মাহবুব জামানের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিলেন নতুন সভাপতি একেএম ফাহিম মাশরুর। আর এ আয়োজনটি সম্পন্ন হলো ভিন্নধর্মী আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাবির্ক মানোন্নয়ন এবং সম্ভাবনা বাস্তবায়নের স্বার্থে সাবেক এবং বর্তমান দুটো নির্বাহী কমিটি একযোগে কাজ করবেন বলেও দৃঢ় অঙ্গীকার করেন।

নতুন কমিটির এমন শপথ, আর পুরনো কমিটির বিদায়ের মধ্যে দিয়ে আগামী দু বছরের জন্য নতুন নির্বাহী কমিটি পেল বেসিস। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, অচিরেই ঢাকার ২৪ হাজার সরকারি প্রতিষ্ঠানে ই-সার্ভিস চালু করা হবে। আর এসব কাজ বাস্তবায়নে বেসিস সরাসরি সরকারকে কারিগরি সহায়তা দেবে। এ কারণে বেসিসের দায়িত্বও অনেক বাড়বে।

এ ছাড়াও আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশব্যাপী ই-সার্ভিস চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আইসিটি পরিবারের শীর্ষ সংগঠন বেসিস, বিসিএস, বিসিসি একসঙ্গে কাজ করলে এ লক্ষ্য অর্জন খুব বেশি কঠিন হবে না।

সদ্য বিদায়ী বেসিস সভাপতি মাহবুব জামান নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এগোচ্ছে। আর তার প্রমাণ দেশের আউটসোর্সিং সম্ভাবনার বিকাশ। ভবিষ্যৎ আইসিটি খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তবে সঠিক দিকনির্দেশনাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

ভবিষ্যৎ আউটসোর্সিং খাতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে মাহবুব জামান পাঁচটি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। এর মধ্যে জনসংখ্যার বিন্যাস, ভৌগলিক সময়ের সুবিধা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, নীতিমালা আর ঐতিহ্য এমন পাঁচটি শক্তি সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই এগিয়ে যাবে।

এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৬৫ ভাগেরই বয়স ২০ বছরের নিচে। অর্থাৎ পুরো বাংলাদেশই তারুণ্যনির্ভর। বিশ্বের খুবে কম দেশেরই এ ‘তারুণ্য জনশক্তি’ আছে। দেশের ৫৯ ভাগ মানুষ এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। দেশের পুরো জনসংখ্যার ২০ ভাগ (৩ কোটি ২০ লাখ) মানুষ এখন নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। আর এ সংখ্যা দ্রুতই বাড়ছে।

এ কারণে বিশ্ব অঙ্গনেও বাংলাদেশ আজ আউটসোর্সিং ব্যবসার অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় আউটসোর্সিং বাজার ওডেস্কের হয়ে ৭ লাখ ২০ হাজার ঘণ্টা কাজ করার রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশের মেধাবী তরুণরা।

এজন্য ২০১০ সালে আইসিটি খাতের নির্ভরযোগ্য গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গার্টনারের পরিসংখ্যানে বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম এসেছে। এ ছাড়াও ওডেস্কের বিশ্ব জরিপে বাংলাদেশ এখন আউটসোর্সিং তালিকার শীর্ষ তিনে অবস্থান করছে। অচিরেই আরও ওপরে আসার দৃঢ় সম্ভাবনা হাতছানি এখন বাংলাদেশের সামনে।

বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) নীতিমালায় ৩০৬টি কার্যকর অ্যাকশন প্ল্যানের পরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট করা আছে। অপেক্ষা শুধু তা বাস্তবায়নের। এসব নীতিমালার অধীনে কাজ হলে পুরো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চেহারাই বদলে যাবে। বাংলাদেশ হয়ে উঠবে ‘নলেজ ইকোনমি’ এর বিশ্ব মডেল। এসব উৎসাহমূলক তথ্য দিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন মাহবুব জামান।

এদিকে নতুন দায়িত্ব নিয়ে বেসিস সভাপতি একেএম ফাহিম মাশরুর বলেন, এটি শুধু দায়িত্ব পরিবর্তনের রীতি। একটি টিম ওয়ার্ক না থাকলে কোনো লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই বেসিস পুরনো আর নতুন দুয়ের যৌথ সমন্বয়েই কাজ করবে। প্যানেলভিত্তিক বিজয় তিনি দায়িত্বের বাড়তি চাপ হিসেবে তুলনা করেন। কারণ এ ধরনের বিজয়ের ফলে সদস্যদের প্রত্যশ্যা অনেক বেশি থাকে। আর তা পূরণে করাটাও বড় চ্যালেঞ্জ।

এ দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে পুরনো কমিটি নতুন কমিটিকে ক্রেস্ট আর ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। আর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা জন্য স্বদেশ রঞ্জন সাহা, কে. আতিক-ই-রাব্বনী, বীরেন অধিকারী, এ তৌহিদ, কামরুল ইসলাম এবং এ সবুর খানকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ডিসিসিআই সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, নতুন দায়িত্ব মানেই প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকার। আর বেসিসের নতুন কমিটি বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করে টাইগার আইটি।

এবারে ৩৬০ ডিগ্রি প্যানেলের নেতৃত্বে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন একেএম ফাহিম মাশরুর। এ প্যানেলের অন্য সদস্যদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শামীম আহসান, সৈয়দ আলমাস কবীর সহ-সভাপতি, রাসেল টি আহমেদ মহাসচিব, এম রশীদুল হাসান যুগ্ম মহাসচিব, নাভিদ-উল-হক পরিচালক, শাহ ইমরুল কায়েস পরিচালক, এবিএম রিয়াজুদ্দিন মোশারফ পরিচালক এবং উত্তম কুমার পাল কোষাধ্যক্ষ পদের দায়িত্ব নিয়েছেন।

About বিদ্যুৎ বিশ্বাস

একটি উত্তর দিন