দেশে প্রথমবার উদ্বোধন হলো মোবাইল অ্যাপস্টোর- ইএটিএল অ্যাপস

দেশে প্রথমবার উদ্বোধন হলো মোবাইল অ্যাপস্টোর- ইএটিএল অ্যাপস

উদ্বোধন হলো মোবাইল অ্যাপস্টোর- ইএটিএল অ্যাপস  বাংলাদেশে প্রথমবারের মত মোবাইল অ্যাপস্টোর ‘ইএটিএল অ্যাপস’ এর যাত্রা শুরু হলো। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক সেবা প্রতিষ্ঠান এথিক্স অ্যাডভান্সড টেকনোলজি লিমিটেড (EATL) নতুন এই অ্যাপস স্টোর প্রতিষ্ঠা করল। ইএটিএল অ্যাপসের ওয়েবসাইট (eatlapps.com) থেকে যে কেউ সহজে এই সকল অ্যাপস ডাউনলোড এবং আপলোড করতে পারবে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ১০ কোটি লোক মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। বিশ্বব্যাপী মোবাইল নির্ভর ইন্টারনেটের ব্যবহার ও নির্ভরতা বাড়ছে প্রতিদিন। বর্তমান প্রযুক্তির বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় মোবাইল অ্যাপস একটি জনপ্রিয় বিষয়।

প্রযুক্তি বাজারে এ সেক্টরটি এখন সবচেয়ে বেশি প্রসারমান। বিশ্বের নামিদামি স্মার্টফোন কোম্পানির মোবাইল অ্যাপস স্টোরের ভূবনে যোগ দিল দেশীয় মোবাইল অ্যাপস স্টোর “ইএটিএল অ্যাপস” নামে –যা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ব্যবসাহিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সহয়াতা হয়ে দাঁড়াবে।

ফ্রিল্যান্সার মোবাইল অ্যাপস নির্মাতাদের জন্য EATL সাইটটি মার্কেট প্লেসের মত কাজ করবে। যেকেউ তাদের তৈরি মোবাইল অ্যাপস এই সাইটের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবেন। রুপসী বাংলা হোটেলে আয়োজিত ইএটিএল অ্যাপসের যাত্রা শুরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ।

এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য, পরিবার ও সমাজ কল্যান বিষয়ক উপদেষ্টা প্রোফেসর ডাঃ সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রোফেসর গওহর রিজভী ও এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রোফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরি। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক নিলুফার আহমেদ এবং অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রোজেক্টের পরিচালক ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক কবির বিন আনোয়ার।

বাংলাদেশ মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট পেশা হিসেবে যথেষ্ট সম্ভাবনাময়। অনেক তরুনকে এ পেশায় আগ্রহী হয়ে উঠাকে সম্ভবনা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ জানান, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুন উদ্যোক্তারদের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে ইএটিএল। বাংলাদেশের বাজারে নতুন মোবাইল মার্কেট প্লেসের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করল ইএটিএল অ্যাপস।‘

অন্যদিকে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরি তরুন প্রজন্মের মেধাকে কাজে লাগানোর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘এই দেশের মেধাবি তরুনদের মোবাইল প্রযুক্তি ভুবনে কাজের সুযোগের জন্য দরকার উৎসাহ, উদ্দীপনা। ইএটিএল অ্যাপসের এমন আয়োজন তরুনদের উৎসাহিত করবে এবং বাংলাদেশ উন্নয়নের কর্মকাণ্ড ও ব্যবসাহিক প্রসার ঘটাবে। সম্মানিত অথিতিরাও এই উদ্যোগকে সময় উপযোগী এবং প্রসংশনীয় বলে অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন।

দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইএটিএল অ্যাপসের মাধ্যমে যেকেউ তাদের তৈরি অ্যাপস অনলাইনে বিক্রয় করতে পারবে। অ্যান্ড্রয়েড ও জাভা প্রকৃতির মোবাইলের জন্য বেশ কিছু অ্যাপস তৈরি করেছে ইএটিএল। সহজে ডিজিটাল কনটেন্ট সাধারন মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য কাজ করছে ইএটিএল।

ইএটিএলের প্রধান নির্বাহী ডাঃ নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশে মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারকারীদের পরিসংখ্যান এবং ইএটিএল অ্যাপসের কাজের পরিধি ও বিস্তৃতির চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘মোবাইল অ্যাপসের সাথে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ব্যবহারিক সেবা প্রদানের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং আগামী প্রজন্ম ও সাধারন জনগনের সংপৃক্ততার কথা বলেন –‘যেন মানুষের সেবা তার হাতের মাঝেই পৌঁছে যেতে পারে’।

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে ইএটিএলের ব্যবস্থাপক পরিচালক এম এ মুবিন খান জানান, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকেও অ্যাপ্লিকেশন নির্ভর বিশ্বমানের কাজ হচ্ছে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টে বাজার সময়ের সাথে সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশের মোবাইল অ্যাপস নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক বাজারের সম্পৃক্ত করতেই ইএটিএল অ্যাপস তৈরি করেছে নতুন সুযোগ। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মানে সরকারকে সহায়তা ও ইন্টারনেটে বাংলা ভাষাকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কাজ করছে বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল অ্যাপস সাইট ইএটিএল অ্যাপস।‘

তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তিতে বাংলা কনটেন্টের অপ্রতুলতা আছে। এই অপ্রতুল কনটেন্টের মান ও সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে ইএটিএল। ইএটিএল কৃষি,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক যোগাযোগের উপর বিভিন্ন অ্যাপস নির্মানের উদ্দেশ্য নিয়েই চালু করল ‘অ্যাপস স্টোর’।

আয়োজকরা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথমবারের মত ‘মোবাইল অ্যাপস’ নির্মান প্রতিযোগিতা আয়োজনের ঘোষনা করে। ‘ইএটিএল অ্যাপস’ আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে এই প্রতিযোগিতায় পুরষ্কার হিসেবে প্রথম বিজয়ীকে ৫ লাখ টাকা, দ্বিতীয় বিজয়ীকে ২ লাখ টাকা এবং ৩য় বিজয়ীকে ১লাখ টাকা প্রদান সহ প্রথম দশজনকে স্মার্টফোন পুরষ্কার প্রদান করা হবে। প্রতিযোগিতা থেকে সম্ভবনাময়ী অ্যাপস নির্মাতাদের সরাসরি ইএটিএল অ্যাপসে কাজের সুযোগ দেয়া হবে বলে ঘোষনা করা হয়।


About বিদ্যুৎ বিশ্বাস

একটি উত্তর দিন