থ্রি-জি’র তরঙ্গ ও অন্যান্য ফি দিতে হবে ডলারে, আনতে হবে বিদেশ থেকে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে। স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া যাবে না

থ্রি-জি’র তরঙ্গ ও অন্যান্য ফি দিতে হবে ডলারে, আনতে হবে বিদেশ থেকে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে। স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া যাবে না

তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রি-জি) মোবাইল প্রযুক্তির তরঙ্গ ফি এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিনিয়োগ বিদেশ থেকে আনতে হবে। এবং তা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমেই আনতে হবে। কোনো অবস্থায় স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থ্রি-জি’তে বিনিয়োগ করা যাবে না। বরং মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো যে বিদেশ থেকে ডলার আনছে তার প্রমাণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাড়পত্রও বিটিআরসিতে জমা দিতে হবে।

গত বুধবার (২৮ মার্চ, ২০১২) টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশন (বিটিআরসি) প্রণীত থ্রি-জি প্রযুক্তির খসড়া নীতিমালায় এ বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। বিটিআরসি বলছে, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি করতেই এমন উদ্যোগ। নীতিমালার এই অংশ শেষ পর্যন্ত থাকবে দাবি করেছে বিটিআরসি।

3G

তাহলে বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেলের কেউ থ্রি জি’র লাইসেন্স পেলে তাদের বিনিয়োগের পুরো পয়সা বিদেশ থেকে ডলারে আনতে হবে। তিনটি অপারেটরেরই শতভাগ মালিকানা পাঁচ দেশের পাঁচ কোম্পানির। বাংলালিংক পুরো মালিকানা রয়েছে মিসরের ওরাসকমের হাতে। রবি’র ৭০ শতাংশের মালিকানা মালয়েশিয়ার আজিয়াটা এবং বাকি ৩০ শতাংশ জাপানের এনটিটি ডকোমোর হাতে। অন্যদিকে এয়ারটেলের ৭০ শতাংশের মালিকানা ভারতী এয়ারটেলের হাতে। আর বাকি ৩০ শতাংশ দুবাইয়ের ওয়ারিদ টেলিকমের রয়ে গেছে।

অন্যদিকে দেশের গ্রাহক সেরা অপারেটর গ্রামীণফোনের ৫৫ দশমিক ৮০ শতাংশের মালিকানা রয়েছে নরওয়ের টেলিনরের হাতে। বাকি ৩৪ দশমিক ২০ শতাংশ গ্রামীণ টেলিকম এবং ১০ শতাংশ পুঁজিবাজারে রয়েছে।

এর আগে খসড়া নীতিমালায় পাঁচটি অপারেটরকে থ্রি-জি প্রযুক্তির লাইসেন্স দেওয়ার সুবিধা রাখা হয়েছে। যেখানে একেকটি অপারেটর ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ পাবে, যার উন্মুক্ত নিলামের প্রতি মেগাহার্টজের ফ্লোর প্রাইস ৩০ মিলিয়ন ডলার। একেকটি অপারেটরের দশ মেগাহার্টজ তরঙ্গের ফ্লোর পাইস দাঁড়াবে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বা আড়াই হাজার কোটি টাকা। ফলে নিলামের সময় অন্তত দশ হাজার কোটি টাকার সমপরিমান ডলার দেশে আসবে। জানা গেছে, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় পর্যায়ক্রমে অর্থ মন্ত্রনালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বহুল আলোচিত এই নীতিমালা চূড়ান্ত করবে।

বিটিআরসি’র একাধিক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারের একেবারে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার পরে তারা এ বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভূক্ত করেন। যার ফলে নীতিমালা যখন চূড়ান্ত হবে তখন এই বিষয়টি তা থেকে বাদ পড়বে না।

বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, দ্বিতীয় প্রজন্মের লাইসেন্স নবায়নের নীতিমালায় ডলারে বিনিয়োগের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে তখন চারটি অপারেটর (গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও সিটিসেল) তাদের লাইসেন্স ফি’র সব টাকাই দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নিয়ে বিটিআরসিকে দিয়েছে। তারা বলছেন, এক দিকে অপারেটররা দেশ থেকে লাভ হিসেবে ডলার নিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে আবার স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরী করছে। সে কারণেই এবার আগেভাগে ব্যবস্থা নিতে এমন পন্থা বের করা হয়েছে।

তবে থ্রি জি’র নীতিমালা বিষয়ে মোবাইল ফোন অপারেটররা নানা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও অনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নতুন অপারেটর টু জি’র তরঙ্গ ছাড় পাবে:

খসড়া নীতিমালায় একটি নতুন অপারেটরকে থ্রি জি’র সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যারা একই সঙ্গে টু-জি সেবাও দিতে পারবে। তাদের টু জি তরঙ্গের মূল্য প্রতি মেগাহার্টজ ৫০ কোটি টাকা করে কম রাখার প্রস্তাব করেছে বিটিআরসি। ইতিমধ্যে নতুন অপারেটরটির জন্যে ১৮’শ ব্যান্ডে সাড়ে ১২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ খালি করা হয়েছে। এর আগে অন্য অপারেটররা ১৮’শ ব্যান্ডের তরঙ্গ প্রতি মেগাহার্টজ দেড়শ’ কোটি টাকায় কিনলেও নতুন অপারেটর সেটি ১’শ কোটি টাকায় পাবে।

ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চাটিকে নতুন থ্রি-জি অপারেটর খেয়ে নিবে:

মোট ৫টি প্রতিষ্ঠানকে থ্রি-জি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে সরকারি টেলিটক ১টি লাইসেন্স পাবে, এবং নতুন একটি অপারেটরকে থ্রি-জি লাইসেন্স দেয়া হবে। ফলে, বর্তমানে ৪টি জিএসএম অপারেটর (গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক এবং এয়ারটেল) থেকে ১ টি অপারেটর থ্রি-জি লাইসেন্স পাবে না। আবার নতুন থ্রি-জি অপারেটরকে টু-জি সেবা দেয়ার অনুমতি দেয়া হবে। তাই ইচ্ছে করেই বর্তমানের টু-জি অপারেটরগুলোর ১টিকে থ্রি-জি দেয়া হবে না। থ্রি-জি’র লাইসেন্স না পেলে ওই অপারেটরটি ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চায় পরিনত হবে। এবং নতুন থ্রি-জে অপারেটর যেন টু-জি অপারেশনে কোনও সমস্যা না হয় সেটা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন থ্রি-জি অপারেটরকে নতুন করে আর ইন্ফ্রাষ্ট্রাকচার তৈরী করতে হবে না। তারা দূর্বল ওই টেলিকমটিকে সহজেই অধিগ্রহন করে খুব দ্রুত সেবায় চলে আসতে পারবে।

নতুন সেই অপারেটরকে আনার জন্য যাবতীয় পথ পরিষ্কার করা সহ, তাদেরকে যেন অযাচিত প্রতিযোগিতার মুখোমুখি পড়তে না হয়, তার সকল ব্যবস্থাই রাখা হচ্ছে। বিগত বিএনপি সরকারের সময়ও ওয়ারিদ টেলিকমকে বাংলাদেশে আনার জন্য প্রায় একই রকম পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে ওয়ারিদ সুবিধা করতে না পেরে বিক্রি হয়ে গিয়েছে।

তত্থসুত্রঃ প্রিয়.কম 

About blogger - ব্লগার

একটি উত্তর দিন