ত্রিপুরাতে সাইবার ক্রাইমের ধরন ও গতিপ্রকৃতি

ত্রিপুরাতে ফেসবুকে ও অরকূটে মেয়েদের ভূয়া ছবি দিয়ে প্রোফাইল, ই-মেইলে হুমকি প্রদান, পাসওয়ার্ড চুরি, হ্যাকিং, অশ্লীল ছবি/ভিডিও হোস্ট করাসহ অনেক সাইবার অপরাধই ইদানীং ঘটছে। এতে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উঠতি বয়সীরা ও শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে। ৬ মাস আগেও এক স্কুলছাত্রীর অশ্লীল ছবি/ভিডিও ছবি মোবাইল এবং ইন্টারনেটে প্রচারের দায়ে পাঁচ যুবককে আটক করে ত্

রিপুরা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল । দিন দিন এর মাত্রা যেন বেড়েই চলেছে, তথাপিও এই অপরাধ প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয়ভাবে তেমন কোন উদ্যোগে নিচ্ছে না ডিজিটাল ভারত বাস্তবায়নের দাবিদার সরকার। ভারতের চলমান সাইবার ক্রাইম ও এর বাস্তবতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন।

সাইবার ক্রাইম কী?

সাইবার ক্রাইম শব্দটি শুধু ত্রিপুরাতেই নয়, উন্নয়নশীল প্রতিটি দেশের প্রান্তিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারকারীর কাছে স্বল্প পরিচিত কথা হলেও এটি অতি পরিচিত ও ভীতিকর একটি শব্দ। এ বিষয়ে জানা থাক বা না থাক, এর শিকার হচ্ছে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ। তবে সাইবার অপরাধ বিশ্বে নতুন ধরনের কোনো অপরাধ নয়, শুধু মাধ্যমটি ভিন্ন।
অন্যান্য সাধারণ অপরাধ (যেমন—তথ্য চুরি, তথ্য বিকৃতি, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, অর্থ চুরি ইত্যাদি) তথ্যপ্রযুক্তির মাধমে করা হলে সেগুলোকে সাধারণ ভাষায় সাইবার অপরাধ বলা হয়। অন্য ভাষায় সাইবার ক্রাইম মূলত কম্পিউটারে ব্যবহৃত কর্মকাণ্ড, যার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী ক্রাইম পরিচালিত করে থাকে অপরাধীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সাইবার অপারাধীদের অভ্যন্তরীণ লোক (Insiders), অনুপ্রবেশকারী (Hackers), ভাইরাস লেখক (Virus Writers) ও অপরাধী চক্র (Criminal Groups)—এই চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন।

ত্রিপুরাতে যতগুলো সাইবার ক্রাইমের ঘটনা জনসমক্ষে এসেছে, তার বেশিরভাগই হয়েছে শৌখিন ও কাঁচা হ্যাকার/ক্র্যাকারদের দ্বারা। বেশ কিছুদিন আগে ত্রিপুরার গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শ্রী জীতেন্দ্র চৌধুরীর ই-মেইল হ্যাক হয়ে গেছিল, যার খবর আমরা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখেও ছিলাম । কিন্তু এই ঘটানার পরও দুষ্টু এই সাইবার অপরাধীদের দৌরাত্য কমেনি । ৪-৫ মাস আগের কথা হটাৎ একদিন আমারই এক পুলিশ দাদা আমাকে ফোন করে বলে উনার এক পরিচিত দাদার মেয়ের ফেসবুকে অনেক সব আপত্তিকর ছবি, সাথে অনেক কমেন্টস্ও । মেয়ের বাবা পুলিশ দাদার সাহায্য চেয়েছেন । যাক দাদার কথা অনুসারে সাধারন কিছু ইনফরমেশান নিয়ে ঘটনার শেষ অবধি গেলাম আমি এবং অপরাধীকেও বের করলাম, কিন্তু লোক লজ্জার ভয়ে অপরাধীকে আমার পুলিস দাদা এবং মেয়ের পরিবার থেকে শেষবারের মত বুঝিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো । ত্রিপুরাতে এই রকম আরো ৭-৮ টি ঘটনার সাথে আমাকে পড়তে হয়েছিল । এছাড়াও প্রায়শই বিভিন্ন বন্ধু-বান্ধব ও রিপো্র্টার দাদাদেরও ই-মেইল হ্যাক,ফেসবুক হ্যাক নিয়ে অনেক খবর শুনি, যদি পারি তো ওদের সাহায্য করতে চেষ্টা করি ।

প্রচলিত সাইবার ক্রাইমের মধ্যে আছে ফ্রড কিংবা প্রতারণা, ক্রেডিট কার্ডের নাম্বার চুরি, ব্ল্যাকমেইল, পর্নোগ্রাফি, হয়রানি, অনলাইনের মাধ্যমে মাদক পাচার/ব্যবসা প্রভৃতি। আবার জাল সার্টিফিকেট তৈরি, জাল টাকা বা জাল পাসপোর্ট, বিভিন্ন ধরনের দলিল-দস্তাবেজ কম্পিউটারের মাধ্যমে তৈরির ঘটনা অহরহ উদ্ঘাটিত হচ্ছে।

সাইবার ক্রাইম ত্রিপুরাতে এই মুহূর্তে একটি বড় আইনগত সমস্যা না হলেও ত্রিপুরা যে গতিতে তথ্য-প্রযুক্তির সুপার হাইওয়েতে ভ্রমণ শুরু করেছে, তাতে অচিরেই এটি একটি বড় সমস্যা রূপে আবির্ভূত হবে। যেহেতু সাইবার ক্রাইমের কোনো সীমারেখা নেই তাই বহির্বিশ্ব থেকে এদেশে এবং এদেশ থেকে বহির্বিশ্বের অন্য দেশেও এ ধরনের অপরাধ সম্পন্ন হতে পারে। তাই বিষয়টি ভাবতে হবে বাস্তবতার আলোকে সময়ের নিরিখে।

About অভিজিৎ মিত্র

একটি উত্তর দিন