পর্ব -২ : থ্রিজি বিতর্ক এবং বাংলাদেশ। কোন পথে যাচ্ছে থ্রিজি?

পর্ব -২ : থ্রিজি বিতর্ক এবং বাংলাদেশ। কোন পথে যাচ্ছে থ্রিজি?

আজকের পর্বে শেয়ার করব গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া থ্রিজি নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের কথা-কয়েকটি অপারেটর এখনই থ্রিজির বিপক্ষে,থ্রি জি ও ফোর জি’র স্পেকট্রাম একই নিলামে নীতিমালার খসড়া বিটিআরসির নিয়ে আলোচনা করা হবে এই পর্বে ।

বিশেষ সংযোজনঃপুর্ববর্তী পর্ব ( থ্রিজি বিতর্ক এবং বাংলাদেশ। কোন পথে যাচ্ছে থ্রিজি? পর্ব – ০১) পরতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুনঃ

থ্রিজি বিতর্ক এবং বাংলাদেশ(পর্ব – ০১)

জানুয়ারিঃ

কয়েকটি অপারেটর এখনই থ্রিজির বিপক্ষেঃ

বাংলাদেশে থ্রিজি প্রযুক্তি না থাকলেও পাশ্ববর্তী ভারত-শ্রীলংকা বেশ আগেই থ্রিজি’র সেবা চালু করেছে। থ্রিজি প্রযুক্তি মূলত দ্বিতীয় প্রজন্মের সঙ্গে গতিতে বড় পার্থক্য তৈরী করবে। টুজিতে যে কাজ করতে অনেক বেশী সময় প্রয়োজন থ্রিজি’র মাধ্যমে তা করা যাবে অনেকগুন বেশি দ্রুততার সাথে ।এখনই তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রি জি) মোবাইল প্রযুক্তির সেবা উন্মুক্ত করার পক্ষে নয় কয়েকটি মোবাইল ফোন অপারেটর।শীর্ষ এক অপারেটরের একজন কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, জুনে থ্রিজি’র জন্যে কয়েক হাজার কোটি টাকা দিয়ে পরে ২০১৪ সালে আবার ফোর-জি বা “লং টার্ম ইভ্যালুয়েশনের” (এলটিই) জন্যে আরো একবার টাকা দিতে পারবেন না তারা। সে কারণে প্রয়োজনে থ্রিজি’র নিলাম আরো কিছুদিন ঠেকিয়ে রাখা হবে।

বিটিআরসি ২০০৮ সাল থেকে জরুরী অবস্থার মধ্যেই থ্রিজি’র বিষয়ে নীতিমালা প্রনয়নের কাজ করছে। কিন্তু নানা কারণে এখনো তারা নীতিমালা চূড়ান্ত করেনি। তবে তারা বলছেন, জুনের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করে নিলাম অনুষ্ঠান করা সম্ভব হবে।তার আগে ২০১১ এর শেষের দিকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ,” মুঠোফোন অপারেটরদের রাজস্ব ভাগাভাগি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ।তরঙ্গের মেগাহার্জপ্রতি ফি ১৮০০ ও ৯০০ উভয় ব্যান্ডের জন্য একই অর্থাত্ ১৫০ কোটি টাকা এবং ৮০০ মেগাহার্জের জন্য ১০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

থ্রি জি ও ফোর জির স্পেকট্রাম একই নিলামে নীতিমালার খসড়া বিটিআরসিরঃ

তৃতীয় প্রজন্ম (থ্রি জি) এবং চতুর্থ প্রজন্মের (ফোর জি) মোবাইল প্রযুক্তির লাইসেন্স এবং স্পেকট্রামের নিলাম একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করে  বিটিআরসি। বিটিআরসির শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানায় এ সময়,থ্রি জি’র নীতিমালায় নতুন একটি অপারেটরকে সুযোগ দেওয়ার কথা বলা থাকবে। তাছাড়া থ্রি জি’র স্পেকট্রাম পেলেও ওই অপারেটরটি যাতে একই সঙ্গে দ্বিতীয় প্রজন্মের নূন্যতম সেবাও দিতে পারে তার জন্যে নীতিমালায় বলে দেওয়া থাকবে। এর আগে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল জিয়া আহমেদও জানিয়েছেন, থ্রি জি’র স্পেকট্রামের নিলামে যাতে সরকার ক্ষতিগ্রস্থ না হয় তার জন্যে নতুন একটি অপারেটরকে সুযোগ দেওয়া হবে।ফলে বাংলাদেশে বর্তমানে ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটর থাকলেও অদূর ভবিষ্যতেই তা সাতটিতে চলে যাবে। তবে থ্রি জি’র অনুমোদন পাওয়া নতুন অপারেটরটি যদি বিদ্যমান কোনো অপারেটরের সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে অবশ্য অপারেটরের সংখ্যা বাড়বে না। এমন একটি গুজবের কথাও শোনা যায়।কিন্তু জানা যায় যে, মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলো থ্রি-জি এবং ফোর-জি’র জন্য দু’বার স্পেকট্রাম ও লাইসেন্স ফি তারা দিতে চাইছে না। ফলে, তারা এমন একটি খেলা খেলতে চাইছে যেন থ্রি-জি’র টাকায় এক বারেই ফোর-জি লাইসেন্স পেয়ে যাওয়া যায়। এবং এই বিষয়টি নিয়ে লবি করার জন্য বেশ কিছু গনমাধ্যমকেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ সংযোজনঃপরবর্তী পর্ব ( থ্রিজি বিতর্ক এবং বাংলাদেশ। কোন পথে যাচ্ছে থ্রিজি? পর্ব – ০৩) পরতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুনঃ

থ্রিজি বিতর্ক এবং বাংলাদেশ(পর্ব – ০৩)

লেখাটি ভালো লাগলে আমাদের ফেসবুক পেজ এ লাইক করুনঃএখানে ক্লিক করুন 

About blogger - ব্লগার