তিন বছরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনে বছরে আয় হবে পাঁচশ কোটি টাকা

তিন বছরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনে বছরে আয় হবে পাঁচশ কোটি টাকা

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারলে বছরে ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ সাশ্রয় হবে। সেই সঙ্গে দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে এখান থেকে সরকার বছরে ৫০ মিলিয়ন বা ৫ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় করতে পারবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১০ সালে স্যাটেলাইট থেকে বিশ্বে বিভিন্ন দেশের আয়ের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসপিআইয়ের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এ উপলক্ষ্যে বিটিআরসিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নানা সম্ভবনার কথা জানান পরামর্শক ও সরকারের পদস্থ ব্যক্তিরা। শুধুমাত্র স্যাটেলাইটের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব বলেও দাবি করেন তারা।

বিটিআরসি’র পক্ষে চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ এবং এসপিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রুস ডি ক্রাসিলসকি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুসারে তিন বছরের মধ্যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের জন্যে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা এবং অন্যান্য সকল আয়োজন করবে এসপিআই। এ জন্যে তারা পাবে সাড়ে ৮২ কোটি টাকা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, টেলিযোগাযোগ সচিব সুনীল কান্তি বোস, বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেন মাজেনা, বিটিআরসি’র কমিশনার সুধীর চন্দ্র মল্লিক ও এসপিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রুস ডি ক্রাসিলসকি বক্তৃতা করেন।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল (এসপিআই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, এই খাত থেকে ব্যাপক রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে। সফলভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারলে বাংলাদেশেরও এই খাত থেকে বিপুল রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

এক হিসাব থেকে দেখা গেছে, দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, টেলিফোন ও রেডিও বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়ায় ব্যবহার করে। এতে প্রতি বছর ভাড়া বাবদ বাংলাদেশকে ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার গুনতে হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু করতে পারলে দেশে শুধু বৈদেশিক মুদ্রারই সাশ্রয় হবে না, সেই সঙ্গে অব্যবহৃত অংশ নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের মতো দেশে ভাড়া দিয়ে প্রচুর রাজস্ব আয় করা সম্ভব হবে।

বিটিআরসির বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওড়-বাওর, পাহাড় এবং সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকা, উপকূলীয় দ্বীপগুলোসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় এখন পর্যন্ত সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্ক পর্যাপ্ত নয়। এসব ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি কাজে লাগবে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসপিআইকে দিতে হবে প্রায় ৯০ কোটি টাকা। এটি উৎক্ষেপণে সময় লাগবে তিন বছর।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেন, আশা করবো তিন বছর নয়, দু’ বছরের মধ্যে স্যাটেলাইটটি সফলভাবে উৎক্ষেপিত হবে। বাংলাদেশের জন্য আজকের এই দিনটি ঐতিহাসিক। দেশকে সত্যিকার ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে তৈরি করতে হলে স্যাটেলাইটের বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের অপর একটি উপস্থাপনায় দেখানো হয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১০২ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত হবে। প্রতিঘন্টায় যা ৬ হাজার ৭’শ মাইল গতিতে পৃথিবীকে প্রদক্ষিন করবে। চুক্তি অনুসারে ২০১৪ সালের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন সম্পন্ন হওয়ার কথা। মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু অবশ্য প্রত্যাশা করেন নির্ধারিত সময়ের আগেই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন শেষ হবে। অন্যদিকে সচিব সুনীল কান্তি বোস মনে করেন, নির্ধারিত সময়ের চেয়েও আরো এক বছর বেশী সময় লাগতে পারে। তবে সময় যতোটাই লাগুক না কেনো গুণগত মান নিয়ে কোনো আপোশ করা হবে না বলে এসপিআইকে হুশিয়ার করে দেন তিনি। সচিব আরো বলেন, অনেক দেশ নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করেও তা দিয়ে কোনো কাজ করতে পারেনি। বরং মহাকাশে সেগুলো মুখথুবড়ে পড়ে আছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রে তেমনটি মেনে নেওয়া হবে না।

হাসানুল হক ইনু বলেন, এই সরকার সমুদ্রে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এখন মহাকাশেও আমাদের উপস্থিতি এবং অধিকার নিশ্চিত করবে। তিনি মনে করেন, বর্হিবিশ্বে দেশের সুনাম বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্যে এই কার্যক্রম অত্যন্ত ইতিহবাচক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন, ‘পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চুক্তি স্বাক্ষরের আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক। বিটিআরসি যুক্তরাষ্ট্রের এসপিআই কোম্পানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে হিসেবে বেছে নেওয়ায় সঠিক কাজটি করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে এই উদ্যোগ কাজে লাগবে।’

About blogger - ব্লগার

একটি উত্তর দিন