তিন বছরের কর অবকাশ সুবিধা পেল হাইটেক পার্ক

তিন বছরের কর অবকাশ সুবিধা পেল হাইটেক পার্ক

hitechবাংলাদেশ হাইটেক পার্কে বিনিয়োগকৃত কোম্পানিগুলোকে প্রথম ৩ বছরে কর অবকাশের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে চতুর্থ থেকে ১০ম বছর পর্যন্ত ক্রম-হ্রাসমান হারে আয়কর দিতে হবে। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ৪৪ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০ এর ২২ ধারার বিধান অনুযায়ী আদেশ জারি করেছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে সম্প্রতি এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এনবিআর থেকে জারি করা পৃথক দুটি পরিপত্রে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগকৃত ডেভেলপারদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম হতে অর্জিত সব ধরনের আয়ে প্রযোজ্য করের ক্ষেত্রেও ১০ বছর পর্যন্ত ১০০ শতাংশ অব্যাহতির সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে ১১তম বছর ও ১২তম বছরে ডেভেলপারদের জন্য ৭০ ও ৩০ শতাংশ হারে কর অব্যাহতির সুবিধা প্রযোজ্য হবে। উভয় ক্ষেত্রে কোম্পানি ও ডেভেলপারদের কিছু শর্ত মানতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে কর শনাক্তকারী নম্বর (টিআইএন) গ্রহণ করা এবং হিসাব সংরক্ষণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল অন্যতম। এই সুবিধা কোম্পানি ব্যবসা শুরুর সময় থেকে কার্য্কর হবে। এনবিআর বলছে, বাংলাদেশ হাইটেক পার্কে পণ্য উৎপাদন বা সেবা প্রদানে নিয়োজিত কোম্পানিকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম হতে উদ্ভূত সব আয়ের ওপর প্রদেয় কর ১ম, ২য় ও ৩য় বছর পর্যন্ত ১০০ শতাংশ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে ৪র্থ বছর থেকে ক্রম-হ্রাসমান হারে করের আওতায় আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে ৪র্থ বছরের জন্য ৮০ শতাংশ, ৫ম বছরের জন্য ৭০ শতাংশ, ৬ষ্ঠ বছরের জন্য ৬০ শতাংশ, ৭ম বছরের জন্য ৫০ শতাংশ, ৮ম বছরের জন্য ৪০ শতাংশ, ৯ম বছরের জন্য ৩০ শতাংশ্ এবং সর্বশেষ ১০ম বছরের জন্য ২০ শতাংশ হারে কর অবকাশ সুবিধা অব্যাহত থাকবে।
প্রায় ১৫ বছর আগে হাইটেক পার্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানান জটিলতায় তা আটকে ছিল। তবে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিশেষ উদ্যোগে এটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। এ জন্য গত মাসে বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ এবং ভারতের ইনফিনিটির যৌথ কনসোর্টিয়াম সামিট টেকনোপলিস কোম্পানি দুটির সাথে চুক্তি করেছে আইসিটি ডিভিশন। এরফলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাভুক্ত পার্কটি হবে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে। সেখানে হাইটেক পার্ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে সফটওয়্যার ও হার্ডঅয়্যার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, কলসেন্টার এবং টেলিযোগাযোগ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। এখানে তৈরি হবে বিশ্বমানের পণ্য। দেশীয় সফটওয়্যার দিয়েই চলবে ব্যাংক, বিমা, কলকারখানা, অফিস-আদালত।
চুক্তির মাধ্যমে হাইটেক পার্কের ২ এবং ৫ নং ব্লকে ডেভেলপার নিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের। আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ এবং ভারতের ইনফিনিটির যৌথ কনসোর্টিয়াম সামিট টেকনোপলিস মূলত দু’টি ব্লকে ভবন তৈরির কাজ করবে। আগামী ৪০ বছর তাদের ব্যবস্থাপনায় এই দু’টি ব্লকে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে জায়গা বরাদ্দ সংক্রান্ত কাজ পরিচালিত হবে সামিট টেকনোপলিস’র অধীনে। হাইটেক পার্কের আরও দু’টি ব্লকের কাজ করবে মালয়েশিয়ান একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের সঙ্গেও শিগগিরই চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি অনুয়ায়ী সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে কাজ শুরুর কথা থাকলেও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক চুক্তির পর পরই এসআইএমসিএল-ইনফিনিটিকে নির্মাণকাজ শুরু করতে বলেছেন। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এই হাইটেক পার্কের ২ এবং ৫ নম্বর ব্লকের অবকাঠামো উন্নয়ন করবে এ কনসোর্টিয়াম। পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নের পর ৪০ বছর এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে এসআইএসসিএল-ইনফিনিটি। প্রতিষ্ঠানটি হাইটেক পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। সূত্র জানায়, তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। বর্তমান সরকার মতা থাকালীন ১৯৯৯ সালে হাইটেক পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। মাঝখানে বিএনপি সরকার মতায় থাকায় সে উদ্যোগের অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার এতদিনে একটি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করতে যাচ্ছে।
এর আগে জুনাইদ আহমেদ পলক দেশের সবচেয়ে বড় এই হাইটেক পার্ক নির্মাণে ১৪ বছর ধরে জমে থাকা নানা জটিলতা মিটিয়ে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরুর উদ্যোগ নেন। ২০১৪ সালের মার্চ-এপ্রিল থেকে প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় পার্কটির নির্মাণ প্রক্রিয়া এগিয়ে ঠিকাদার অনুমোদন ও চুক্তি স্বাক্ষরের অবস্থায় ঠেকে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে ভেটিংয়ের অপেক্ষায় বিলম্বিত হচ্ছিল এই নির্মাণ চুক্তি। সাপোর্ট টু ডেভেলপমেন্ট অফ কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক প্রকল্পের পরিচালক এএনএম সফিকুল ইসলাম জানান, ভেটিংসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত মাসের শেষ দিকে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটি এসআইএমসিএল-ইনফিনিটিকে হাইটেক পার্কের নির্মাণ অনুমোদন দেয়। হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এই কনসোর্টিয়ামকে কার্যাদেশ প্রদানের অনুমতির জন্য মন্ত্রিসভার কমিটিতে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিল। এদিকে হাইটেক পার্ক ডেভেলপার ও বিনিয়োগকারীরা বিদ্যুৎ বিল ও জোগানদার সেবার ক্ষেত্রে কর মওকুফ পাচ্ছেন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী এ কর মওকুফের প্রস্তাব করেন। এছাড়া হাইটেক পার্কের ডেভেলপার এবং এ সব অঞ্চল বা পার্কে বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগও গ্রহণ করছে সরকার।

 

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন