তথ্য সেবা পৌঁছে ‍দিতে জাতীয় হেল্পডেস্ক

তথ্য সেবা পৌঁছে ‍দিতে জাতীয় হেল্পডেস্ক

palokজাতীয় পর্যায়ে মোবাইল ফোনভিত্তিক একটি হেল্পডেস্ক চালু করতে যাচ্ছে। ‘ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক’ নামের এই সেবার জন্য চালু করা হবে একটি শর্টকোড। এটি হলো ২০৪১।
মনে রাখুন একটি নম্বর’ স্লোগানকে নিয়ে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এটি চালু করতে যাচ্ছে। এখানে ফোন করে মানুষ দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা পাবেন। সোমবার বিকেলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এসব জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
এতে নাগরিক সমস্যার সমাধান চাওয়া যাবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রমকে আরো বেগবান করতে আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। উন্নত অনেক দেশে এই সেবা থাকলেও বাংলাদেশে এতোদিন এই সেবা ছিল না। জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে সর্বস্তরের জনগণের জন্য মেবাইল ফোনভিত্তিক হেল্পডেস্ক বাস্তবায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আইসিটি ডিভিশন। এই বিভাগের নিজস্ব বিভিন্ন সেবা হেল্পডেস্ক থেকে ভয়েসকলের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারবেন। যেমন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনস্থ কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজ, বাংলাদশে কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ, অনুদান, ছাত্রবৃত্তি, প্রকল্প, সাপোর্ট অ্যান্ড সার্ভিস, জরুরি যোগাযোগ, সাইবার সিকিউরিটি ইত্যাদি বিষয়ে ভয়েস কলের মাধ্যমে জনগণকে সেবা দেয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সারা বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারভিাবে ১৭টা কলসেন্টার সেবা নম্বর রয়েছে। এতাগুলো নম্বর কারো পাক্ষে মনে রাখা সম্ভব না। যেমন একজন লিফটে আটকা পড়েছে। তখন আমাদের ২০৪১ নম্বরে কল দিলে আমরা সাথে সাথে সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করবো। একইভাবে জরুরি সেবা হিসেবে ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সের সাথে যোগাযোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের যে কোন থানার নম্বর সহজে পাওয়া যাবে।
প্রযুক্তির সহজলভ্যতার জন্য তিনি বলেন, ভয়েস কল ছাড়াও জাতীয় হেল্পডেস্কের মাধ্যমে এর সেবা পর্যায়ক্রমে সাধারণ জনগণ যেন সহজে পেতে পারেন এ জন্য মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবপোর্টাল, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমেইল, টুইটার, ফেসবুক মাধ্যামেও চালু করা হবে। ভয়েস কলের সাথে সোথে ভিডিওকলের মাধ্যমেও জনগণ এই সেবা নিতে পারবেন। আর এই সমস্ত সেবা সম্পূর্ণ টোলফ্রি বা স্বল্পমূল্যে জণগণকে দেয়া হবে।
কবে নাগাদ এই সেবা চালু করা হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় হেল্পডেস্ক কার্যক্রম ইতিমেধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে আশা করছি আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে পুরোপুরিভাবে চালু করতে পারবো।
এই সেবাটি কি শুধুই আইসিটি ডিভিশন পরিচালনা করবে জানতে চাইলে এ ব্যাপারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ বলছে, সমঝোতার মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সেবা প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় হেল্প ডেস্কে সম্পৃক্ত করা হবে।
এসময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর পরিচালিত কলসেন্টারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, কৃষিকল সেন্টার, বিটিসিএল, স্বাস্থ্য বাতায়ন, ঢাকা ওয়াসা, জাতীয় মহিলা সংস্থা পরিচালিত কলসেন্টার তথ্য আপা, দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিপ্তর, চাইল্ড হেল্পলাইন, বাংলাদেশে ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মহিলা ও শিশু বিষয়কল সেন্টার, ঢাকা মহানগর পুলিশের জরুরি হেল্পলাইন ইত্যাদি হেল্পডেস্কের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন