তথ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নতুন নতুন মোবাইল অ্যাপস

তথ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নতুন নতুন মোবাইল অ্যাপস

মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের (অ্যাপস) মাধ্যমে তথ্যসেবা মানুষের কাছে দ্রুত পেঁৗছে দেওয়া সম্ভব। প্রযুক্তিকে হাতের মুঠোয় এনে মানুষের প্রয়োজনীয় ও সহজে ব্যবহার উপযোগী ‘মোবাইল অ্যাপস’ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে; নিয়ে আসতে হবে নতুন নতুন আইডিয়া। এ সুবিধা কীভাবে দেওয়া যাবে, তার জন্য প্রয়োজন প্রস্তুতির। মোবাইল অ্যাপস তৈরিতে আইডিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো আইডিয়া দিয়ে আয় হতে পারে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানও হতে পারে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ভবনে আইসিটি মন্ত্রণালয় ও সমকাল আয়োজিত ‘মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট আইডিয়া’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে আইসিটি খাতের বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে গুগল ইনকরপোরেটেডের কান্ট্রি কনসালট্যান্ট কাজী মনিরুল কবির ও গ্রামীণফোন আইটি লিমিটেডের ম্যানেজার শোয়েব মোহাম্মদ আবদুল্লাহহিল কাফি।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ এমপি ও বিশেষ অতিথি সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার।

ICT_SAMAKAL

আইসিটি সচিব নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কাজী মোহাইমেন-আস-সাকিব, ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. রোকনুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিলীপ কুমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এটুআইর পরিচালক ড. আবদুল মান্নান, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শ্যামা পদ বেপারী ও সুশান্ত কুমার সাহা, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব গাজী মিজানুর রহমান, বেসিসের সভাপতি একেএম ফাহিম মাশরুর, নকিয়া বাংলাদেশের প্রোডাক্ট ম্যানেজার ইফতেখার হোসেন, এমসিসির প্রধান নির্বাহী আশরাফ আবীর, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মাহবুবু হাসান শাহীন প্রমুখ। গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন সমকালের নির্বাহী সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব আলাওল কবীর ও সমকালের ইভেন্ট ম্যানেজার ইমরান কাদির।

বৈঠকে আইসিটি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির চাহিদা যেমন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রমবর্ধমান হারে প্রযুক্তিপণ্যগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে একজন মোবাইল গ্রাহক তার মোবাইলকে শুধু কথা বলার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন; কিন্তু বর্তমানে মোবাইল শুধু কথা বলার মাধ্যমই নয়, এর সাহায্যে ক্ষুদে বার্তার আদান-প্রদান, ইন্টারনেট ব্যবহার, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগ, জিপিএস, ভিডিও কলিং, মোবাইল ব্যাংকিং, কৃষিতথ্য, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে অসংখ্য প্রয়োজনীয় কাজে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে মোবাইল মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য একটি পণ্যে পরিণত হয়েছে। এর সুযোগ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ডেভেলপাররা সিস্টেমনির্ভর অ্যাপস তৈরি করছেন এবং সেই অ্যাপস বিক্রি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ এমপি বলেছেন, মানুষের প্রয়োজনে প্রযুক্তিকে সহজ ও সুলভ করে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। প্রযুক্তিকে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বর্তমান সরকার দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে এখন মোবাইল নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। প্রায় ১১ কোটি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করছে। তাই মোবাইল ফোনভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপস তৈরি করে সব ধরনের সেবা মানুষের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন অ্যাপসের নতুন নতুন আইডিয়া উদ্ভাবন। এটি অনুধাবন করে আইসিটি মন্ত্রণালয় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে অ্যাপস তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, আমরা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়াতে সুযোগ-সুবিধা দিতে চাই। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বিপণন গুরুত্বপূর্ণ, তাই বিপণন প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। প্রযুক্তিকে বিস্ময়করভাবে ব্যবহার করে গণমাধ্যম দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের মানুষের উপযোগী, প্রয়োজনীয় ও সহজে ব্যবহারযোগ্য মোবাইল অ্যাপস তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। আগামী দিনে বাংলাদেশ যাতে আইটি সেক্টরে নেতৃত্ব দিতে পারে, সে লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য আইসিটি মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ছাড়া বর্তমান বিশ্বে এখন টিকে থাকা সম্ভব হবে না।

আইসিটি সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, যে কেউ আইডিয়া দিতে পারেন। তবে সবার আইডিয়া এক জায়গায় নিয়ে এসে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা দরকার। প্রয়োজনে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আইডিয়া শেয়ারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মানুষের জন্য প্রয়োজন ও বিনোদননির্ভর আইডিয়া থেকে বিদেশি ডলার আয় করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ তথ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এই বঞ্চিত মানুষের কথা ভেবে কাজ করতে পারলে দেশের পরিবর্তন হবে। সে জন্য প্রয়োজন ভালো আইডিয়া। তিনি বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশ যাতে আইটি সেক্টরে নেতৃত্ব দিতে পারে, সে লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে তিন হাজার ৭০০ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যাপস তৈরিতে গবেষণা করতে হবে, যাতে করে আগামী দিনের পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে আমাদের নাগরিকরা খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।

গুগল ইনকরপোরেটেডের কান্ট্রি কনসালট্যান্ট কাজী মনিরুল কবির বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে যদি গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনের পরিবর্তন কাজে লাগানো না যায়, তবে এ প্রযুক্তি অসাড়। কীভাবে প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নেওয়া যায়, সে উদ্ভাবন প্রয়োজন।

বেসিসের সভাপতি একেএম ফাহিম মাশরুর বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটি ৮২ লাখ। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে ৯৫ শতাংশই মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। তাই মোবাইল ফোনভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপস তৈরি করতে হবে, যাতে যে কেউ যে কোনো স্থান থেকে অ্যাপসের সুবিধা পেতে পারে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যাপস তৈরিতে গবেষণা করতে হবে, যাতে করে আগামী দিনের পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে আমাদের নাগরিকরা খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলেই সবার অংশগ্রহণ আশা করা যায়।

কম্পিউটারবিষয়ক পত্রিকা কমজগৎ (comjagat.com) ও অনলাইন মিডিয়া বাংলা-নিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম বৈঠকটি সরাসরি ওয়েবকাস্ট করে। অনলাইনে বিভিন্ন স্থান থেকেও আগ্রহীরা অংশ নেন। কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও আইটি গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।- সমকাল

About কমজগৎ ডেস্ক

একটি উত্তর দিন