ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সম্মেলন শুরু

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সম্মেলন শুরু

ictড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে দু’দিনব্যাপী “১৭তম কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন-২০১৪” (আইসিসিআইটি-২০১৪) আজ সোমবার রাজধানী ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে। ইন্সটিটিউট অব ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারস এর কারিগরি সহ-পৃষ্ঠপোকতায়, সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও রবি এক্সিয়টা লিমিটেডের ‘রবি’র প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় এবারের সম্মেলন হচ্ছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি ডিভিশনের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাষ্টিজের চেয়ারম্যান মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম লুৎফর রহমান। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রাম কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আলাবামা’র অধ্যাপক মোহাম্মদ এস আলম, অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. সৈয়দ আকতার হোসেন এবং রবি’র ডিজিটাল সার্ভিসের প্রধান মনজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, বাংলাদেশকে একটি ডিজিটাল দেশ হিসাবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি ২০২১ সাল নাগাদ সে লক্ষ্য পূরণ হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সে স্বপ্ন পূরণে দেশের শিক্ষিত মেধাবীদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। “কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন” এমনই একটি প্ল্যাটফর্ম যা তথ্যপ্রযুক্তির নতুন নতুন উদ্ভাবনী সমূহকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়। তিনি বলেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আমাদের দেশে অন্যতম ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি হিসেবে সুপরিচিত এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের আশুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে আইসিটি ইনকিউবেটর স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। আমি আজ আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি যে, বাংলাদেশ সরকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে। বাংলাদেশ সরকার ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিটি ইনকিউবেটর স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাইভেট কোন বিশ্ববিদ্যালয় এ প্রকল্পের অর্ন্তভূক্ত ছিল না। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিকে আজ আইসিটি ইনকিউবেটর প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত করার ঘোষণা দেন এবং মন্ত্রনালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
“১৭তম কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০১৪” এর প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয় “ICCIT For Innovation”। বিশ্বের বেশ কিছু নামী-দামী বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় এ বছর আইসিসিআইটি-২০১৪ এর গর্বিত অংশীদার হিসাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এরমধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ভূক্ত দেশ সমূহের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের এমিটি ইউনিভার্সিটি ও কলিঙ্গ ইন্সটিটিউট অব ইন্ডাষ্ট্রিয়াল টেকনোলজি (KIIT) উল্লেখযোগ্য। একাডেমিক পার্টনারের পাশাপাশি ইন্ডাষ্ট্রি পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (BCS), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন  সার্ভিসেস(বেসিস), সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইলেক্ট্রনিক সোসাইটি এবং বাংলাদেশ ওমেন ইন আইটি ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমির মধ্যে সমন্বয় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে  আইসিসিআইটি-২০১৪ এর সাথে যুক্ত হয়েছে।
সম্মেলন ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের মাধ্যমে এবছর সম্মেলনে ২৮টি দেশ থেকে মোট ৩৬৭টি মৌলিক গবেষণা পত্র জমা পড়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে রেকর্ড সংখ্যক গবেষণা পত্র জমা পড়েছে যা দেশের ইতিহাসে এই প্রথম। আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা,  অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত, বাংলাদেশ, ফিজি, চীন, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলংকার প্রায় শতাধিক নিরীক্ষক এসকল গবেষণাপত্র পুননিরীক্ষণ করেন। ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রাম কমিটির চেয়ারম্যান আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব মাসাচ্যুসেট ডার্টমাউথ এর প্রভোস্ট এবং নির্বাহী উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ আতাউল করিম এবং কো-চেয়ারম্যান হিসাবে আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আলাবামার প্রফেসর মোহাম্মদ এস আলম নিরীক্ষণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেন। গবেষণাপত্রসমূহ সফলভাবে পুননিরীক্ষণ কার্য সম্পাদনের পর ৩৬৭টি গবেষণাপত্রের মধ্যে ১০০টি গবেষণাপত্র “১৭তম কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০১৪ এ মৌখিক উপস্থাপনার জন্য গৃহীত হয় যার গ্রহণের হার হচ্ছে ২৭% যা এ অঞ্চলের জন্য সর্বনিম্ন গৃহীত হার হিসেবে বিবেচিত। এবারের সম্মেলনে গৃহীত ১০০ টি গবেষণাপত্র মোট ৯টি দেশ থেকে জমা পড়ে যার ৮৪ ভাগই বাংলাদেশ থেকে গৃহীত হয়েছে।
“১৭তম কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০১৪” এ চারটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে। মূল প্রবন্ধসমূহ উপস্থাপন করবেন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিউ টার্ক, যুক্তরাজ্যের বর্নমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হোয়াংনিয়ান ইউ, আমেরিকার ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারেক এম সোভ ও আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ফ্লোরিডার প্রফেসর মোহাম্মদ এইচ রশিদ।
সম্মেলনে কারিগরি কৌশলপত্র নিয়ে আলোচনা করবেন ভারতের এমিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর বালভিন্দর শুকলা ও প্রফেসর সুনীল কুমার ক্ষাত্রী, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগ্যারির ড. আনিসুল হক, জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটির ড. ইকুশিয়া মিটসগামী এবং আমেরিকার উইনানো স্টেট ইউনিভার্সিটির ড. এমদাদ আহমেদ।
এ আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনে গেইম ক্যাম্প, কম্পিটিটিভ লার্নিং সেশান, মোবাইল অ্যাপস ফোরাম এবং বিভিন্ন কর্মশালার সমন্বয়ে বিশাল প্রযুক্তিবিষয়ক অনুষ্ঠানমালার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী ও প্ল্যানারি সেশানের অব্যাবহিত পরেই ইন্ডাস্ট্রি, একাডেমি ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক কর্তাব্যক্তিদের অংশগ্রহণে “বাংলাদেশে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির  ভবিষ্যত : সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক একটি একাডেমিক ইন্ডাস্ট্রি গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রফেসর ম্যাথিও টার্ক মোবাইল ভিশন পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের উপর একটি বৈজ্ঞানিক কর্মশালা পরিচালনা করেন।
সম্মেলনস্থলে ইন্টর‌্যাক্টিভ পার্টিসিপেশনের জন্য ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে রবি এক্সিয়টা লিমিটেড একটি অভিজ্ঞতা কেন্দ্র স্থাপন করে। এর পাশাপাশি রবি এমার্জিং প্ল্যাটফরম হিসাবে তরুণ ও মেধাবী যুবকদের চিন্তা, মেধা ও মননকে পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল এপস্ ডেভেলাপমেন্টের দিকে আকৃষ্ট করতে একটি টেকনিক্যাল সেশান পরিচালনা করে।
সম্মেলনে আইইইই বাংলাদেশ শাখা বাংলাদেশে আইইইই’র পরিচালিত ও গৃহীত বিভিন্ন কর্মকান্ডের উপর একটি উপস্থাপনা তুলে ধরে। সম্মেলনে বাংলাদেশ ওমেন ইন আইটি এবং বাংলাদেশ ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং একটি মিনি সেমিনারের আয়োজন করে। সম্মেলনে বেসিস মোবাইল মানডে’র আয়োজন করে। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব প্রোবলেম সেটারস অংশগ্রহনকারীদের জন্য একটি কম্পিটিটিভ লার্নিং সেশান এবং বুট প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সিটিও ফোরাম বাংলাদেশও আইএসপি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহায়তায় একটি সেমিনারের আয়োজন করে।
এবারের সম্মেলনে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রথমবারের মত CSE/SWE/MTCA ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের জন্য “শিক্ষার্থী সম্মেলন” এর সূচনা করেছে যাতে শিক্ষার্থীরা ফেকাল্টি মেম্বারদের সহায়তায় ও তত্ত্বাবধানে গবেষণাপত্র লেখার কৌশল সম্পর্কে শিক্ষা লাভ এবং জ্ঞানার্জন করতে পারে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ৪০টি গবেষণাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জমা পড়েছে এবং ফ্যাকাল্টি মেম্বারদের দ্বারা পুননিরীক্ষিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গৃহীত গবেষণাপত্র সমূহ শিক্ষার্থীদের সম্মেলন পর্বে শিক্ষার্থীদের দ্বারা উপস্থাপতি হয়।
এবারের সম্মেলনে ড. ফাতেমা রশিদের নামে বেস্ট পেপার এওয়ার্ড প্রদান করা হবে। আইইইই বাংলাদেশ শাখাও সম্মেলনে বেস্ট পেপার এওয়ার্ড প্রদান করবে। এছাড়া সম্মেলনে মৌখিক উপস্থাপনার উপর ভিত্তি করে আরো একটি বেস্ট পেপার এওয়ার্ড  প্রদান করা হবে।
২৩ ডিসেম্বর সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম খান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে রবি এক্সিয়টা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুপন বীরা সিংহে উপস্থিত থাকবেন।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন