ডোলেন্সার..ও একটি শুভ্র মুলো…

ডোলেন্সার..ও একটি শুভ্র মুলো…

বহুদিন ধরে ডোলেন্সার শব্দটি আমাদের চারপাশে কাকের কর্কশ কা..কা.. ধ্বনির মতো বাজছে। “বাজছে তো কার কি ? যেখানে আছে ছাই উড়াইয়া দেখো তাই পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য…”

আমাদের এক প্রতিবেশী সাইফুল। একটা দূর্বল এনজিও প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী পদে চাকরি করেন। দুই সন্তান তার। প্রত্যেকেই লেখাপড়া করে। যে বেতন পান স্বাভাবিক ভাবেই সংসারে অভাব খুব সহজ ছিল। তবু প্রতি মাসে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্ত্রীর কাছে জমা রাখতেন একটা নির্দিষ্ট অংকের টাকা। একদিন কোন শুভ মুহূর্তে তার বন্ধু তাকে ডোলারেন্স-ক্লিক ব্যবসার খবর জানিয়েছ জানি না। তবে রাতারাতি সম্পদশালী হওয়ার লোভ বা তাড়না থেকে খবরটি গোপন রেখেছেন তিনি বুঝতে পেরেছি। পাশাপাশি হয়ত অনেক স্বপ্নের জাল বুনেছেন, মনে মনে কলা খাওয়া যাকে বলে। তারপর একদিন জমানো টাকায় একটি পুরাতন কম্পিউটার কিনলেন। তার কম্পিউটার কেনা দেখে আমি একটু ভড়কে গেছি। তিনি সাধারণত টেকনোলজির প্রতি আগ্রহী নন। তার দুই দিন পর দেখলাম একটি মডেম কিনেছে। বাহ চমৎকার! আমি তার এই উন্নতি দেখে কিঞ্চিত আশংকা করছিলাম অন্য কোন ব্যাপার আছে। যদিও তা জানার আগেই তার প্রাপ্য তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে ডোলেন্সার আউটসোর্সিং কোম্পানি গুলো। প্রায় ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে তাকে এই গরমে একটি চমৎকার শুভ্র মুলা ধরিয়ে দিলো।

এ রকম কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেল ডোলারেন্স কোম্পানিগুলো না সরকার তাদের কোন আইনের আওতায় আনতে পেরেছে না সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। তবে আমাদের প্রত্যেকের উচিত জনমনে এ বিষয়ে সচতনতা তৈরি করা। তথ্য প্রযুক্তিতে সেবা প্রদানকারী আমাদের প্রতিষ্ঠান  প্রাণন লি:  এবং আমাদের সিইও, নাহিদুল ইসলাম রুমেল  এ লক্ষ্যে খুলনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আউট সোর্সিং কর্মশালা আয়োজন করে যাচ্ছেন। আমাদের উচিত যে যার জায়গা থেকে তার পাশের মানুষটিকে এইসব প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা।

About sultanratan

একটি উত্তর দিন