ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে ভাসমান আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে ভাসমান আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

ictতথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, বিস্তীর্ণ চর ও হাওড়াঞ্চলে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি সেবা অপ্রতুল। ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে এই সব অঞ্চলে ভাসমান আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ নেই। তাই হাওড়াঞ্চলের পানিবন্দি মানুষকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিতে ভাসমান আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকার একটি হোটেলে নেদারল্যান্ডের ফ্লোটিং সিটি অ্যাপসের সাথে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের এক সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিগত সাড়ে ৬ বছরে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যু জাতীয় গ্রিডে যোগ হলেও এখনো ৩০ শতাংশের বেশি মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছেনি। তাছাড়া বিস্তীর্ণ চর ও হাওড়াঞ্চলে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি সেবা অপ্রতুল। তাই সেসব প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধা এখনো অকল্পনীয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদেরকে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল বৈষম্য দূর করে সেই সব এলাকার মানুষকেও তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি তাদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। এই অপার সম্ভাবনা তৈরি করতে হলে ভাসমান আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছাড়া আর কোন কার্যকর বিকল্প নেই। তাই বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধাবিহীন হাওড়া, চর এবং পানিবন্দি মানুষকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ফ্লোটিং সিটি অ্যাপস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সমঝোতা স্মারককে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মাইলফলক আখ্যা দিয়ে পলক আরো বলেন, শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশে সমাজের সব অংশের অংশিদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। সবাই তথ্যপ্রযুক্তির সুফল ভোগ করবে। সবাইকে নিয়ে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব। বাংলাদেশে ডিজিটাল বৈষম্য হবে ন্যূনতম।
তিনি আরো বলেন, নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর থেকে অত্যন্ত উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নেদারল্যান্ডস আমাদের বন্ধুত্বকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। তারই ফসল আজকের এই সমঝোতা স্মারক।
এ সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডসের অবকাঠামো ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী মিস মিলানি শুল্টজ ভেন হাইগেন, বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত গারবেন ডি জং, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম, ফ্লোটিং সিটি অ্যাপসের বোর্ড সদস্য ফ্রাঙ্ক বান ব্যান আকের, ন্যাশনাল ডেটা সেন্টারের প্রকল্প পরিচালক তারেক বরকতউল্লাহ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপ-সচিব মিনা মাসুদুজ্জামানসহ নেদারল্যান্ডস হাই-কমিশন ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ে দেশের চারটি প্রত্যন্ত এলাকায় ভাসমান অবকাঠামোর মাধ্যমে এই সুবিধা প্রদান করা হবে, যেখানে ইন্টারনেট ও সোলার প্যানেল সুবিধাসহ ২০টি ল্যাপটপ থাকবে। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী নেদারল্যান্ডস ভাসমান অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদান করবে।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন