ডিজিটাল বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ধারাবহিকতা: পলক

ডিজিটাল বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ধারাবহিকতা: পলক

Palak_ict“বঙ্গবন্ধুকে একটি গোষ্ঠী বরাবরই সীমাবদ্ধ করতে সচেষ্ঠ। তারা যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলে। পৃথিবীর কোন দেশে জাতির পিতার ছবি নামানো হয় না। তারা যখন ক্ষমতায় যান, তখন বঙ্গবন্ধুর নামও উচ্চারণ করা হয় না। পৃথিবীর কোন দেশে এমন চর্চা নেই। বঙ্গবন্ধুকে বর্তমান সরকার সার্বজনিন করেছে, যারা নিতে পারেনি এটা তাদেরই সংকীর্ণতা, তাদেরই সীমাবদ্ধতা।” আজ বৃহস্পতিবার সকালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী বেগম তারানা হালিম এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আপনারা যারা সরকারি চাকুরী করেন, তারা রাজনীতি করতে পারেন না, কিন্তু বঙ্গবন্ধু আমাদের রাজনীতির উর্দ্ধে। তিনি কোন দলের নয়, তিনি আমাদের সকলের। তিনি আমাদের জাতির পিতা। তাঁকে যথাযথ সম্মান দিলেই তবে তার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হয়। তাই, জাতির পিতার অবদানের সাথে ও জাতির পিতার সাথে অকৃতজ্ঞতা করবেন না। আসুন সবাই মিলে আমরা লক্ষ মানুষের রক্তের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের আবির্ভাব সার্থক করে তুলি।”
তিনি আরো বলেন, “বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ঋণ করা টাকায় দেশ কখনো আগাতে পারে না। আজ আমরা তারই প্রতিফলন দেখছি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি, হাতিরঝিল প্রকল্প করেছি, আমরা তারই দেখানো পথে ছিটমহল বিনিময়ে সফল হয়েছি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, “বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, প্রয়োজনে তিনি দেশের মানুষের জন্য জীবন বিসর্জন দেবেন এবং সত্যিই তিনি দেশের মানুষের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়ে গেছেন। আমরা যারা ৭৫ এর পর জন্মগ্রহণ করেছি তাদের কৈশর, শৈশবে আমাদের মানস পটে বঙ্গবন্ধু অনুপস্থিত। বঙ্গবন্ধুকে, মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে উপস্থাপন না করে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কারণ তার দেশপ্রেম, ভালোবাসার কাছে ষড়যন্ত্র্রকারীরা অসহায় ছিলেন।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তিনি হাজার বছরের গ্লানিকে মুছে দিয়ে তিনি আমাদেরকে মুক্ত করার জন্য উল্কার মত সারাদেশে চষে বেড়িয়েছেন। তিনি সংগঠন গড়ে তুলে একটি নিরস্ত্র জাতিকে নিয়ে ৭ মার্চে ডাক দিলেন স্বাধীনতার। স্বাধীনতা অর্জনের পর আমাদের কিছুই ছিল না। ব্রিজ, কালভার্ট, ব্যাংক, বীমা, স্কুল কিছুই ছিল না। তিনি পর্যায়ক্রমে সব পুর্নগঠন করে আমাদের অর্থনীতিকে দাঁড় করিয়ে গেছেন। তাঁর উদ্যোগেই ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ আইটিইউ’র সদস্যপদ গ্রহণ করেছিল। আজ আমরা আইটিইউ’র পরপর দুবার কাউন্সিল সদস্য নির্বাচিত হয়েছি।”
তিনি আরো বলেন, “ অনেকেই মালয়েশিয়া, সাউথ আফ্রিকা, চীন, ভারতের উদাহরণ দেন। সেসব দেশে যারা দেশকে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারা অন্তত দুই দশক রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে ৩ বছর। তিনি যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে হয়তো আজ আমরা উন্নত জাতি হিসেবে বিশ^ দরবারে পরিচিত হতাম। হয়তো উন্নয়নের নতুন কোন দিশা পেতাম। তার অবর্তমানে তারই সুযোগ্য কন্যা আমাদেরকে উন্নত জীবনদানে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আজ যে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে, তা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নেরই ধারাবাহিকতা । তার নেতৃত্বেই আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব।”
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিটিআরসি’র চেয়ার সুনীল কান্তি বোস, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো: ফয়জুর রহমান, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: জসিমউদ্দিন, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের এমডি বেগম হোসনে আরা, কন্ট্রোলার অব সার্টিফায়িং অথরিটিজের কন্ট্রোলার আবুল মনসুর মো: সফর উদ্দিন, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খতিব উদ্দিন প্রমুখ। সবশেষে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন