ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে গ্লোবাল আউটসোর্সিং নিয়ে সেমিনার

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে গ্লোবাল আউটসোর্সিং নিয়ে সেমিনার

ict semরাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫’। মেলার দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় ‘দ্য গ্লোবাল সোর্সিং মার্কেট ইন ২০১৫: বাংলাদেশ ইন দ্য কম্পিটিটিভ ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেমিনার। আইটিসির এনআইএফটি’র বাংলাদেশ প্রজেক্ট ম্যানেজার মার্টিন লবির সঞ্চালনায় সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলে ডেনমার্ক ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মিরাকল-এর বিজনেস ম্যানেজার রিনি এইচ ম্যাডসেন, সামা গ্রুপের প্রোডাক্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট বার্ব চ্যাং, নেদারল্যান্ডের উদ্যোক্তা মিকিয়েল ইসমা, উগান্ডা বিজনেস প্রোসেস আউটনোর্সিং কাউন্সিলের মহাসচিব রজারস কারিবি, বেসিসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ, অ্যাসিসিও প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ এইচ কাফি। সেমিনারে বক্তারা বৈশ্বিক আউটসোর্সিং মার্কেট, এই খাতের চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
আব্দুল্লাহ এইচ কাফি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে অধমরা অঅগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক বিলিয়ন রফতানির লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করেছি। আশা করি দেশের মেধাবী তরুণ প্রজন্মের কাজের মাধ্যমে তা অর্জন করা সম্ভব হবে।
রাসেল টি আহমেদ বলেন, দেশে পিপিপি’র মাধ্যমে আইসিটি সেক্টরে অনেক কাজ হচ্ছে। সরকারের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। দেশের আইটি কোম্পানিগুলো কাজের মানের সাথে কোন আপস করে না। আমরা তুলনামূলক কম খরচে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে আইসিটি খাতে কারছি। এখন প্রয়োজন দেশের কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং। আইসিটি খাতে এক বিলিয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ, ইন্টারনেট সেবাসহ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এলআইসিটি প্রকল্প শুরু করেছে। এডিবির সহায়তায় বেসিস এই খাতে কাজ করছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম গ্রাফিক ডিজাইনে বিশ্বমানের কাজ করছেন। আমাদের ইংরেজি দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে কাজ করতে হবে। গ্লোবাল সোর্সিং মার্কেটে আমাদের সমস্য ও সম্ভাবনা আমরা চিহ্নিত করেছি। এখন এগুলো বিবেচনায় নিয়ে সামনে এগোতে হবে।
রজারস কারিবি বলেন, উগান্ডাতে আইসিটি খাত নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেছে। এই খাতে এখন সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা কাজ হচ্ছে। বেশকিছু ট্রেনিং প্রোগ্রাম, ট্রেইনার তৈরি করে আইসিটি সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে আমরা কাজ করছি। আমাদের দূতাবাসগুলো এই খাতে বিদেশে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে। আশা করি অদূর ভবিষ্যতে উগান্ডা আইসিটি সেক্টরে বিশ্বে পরিচিতি পাবে।
রিনি এইচ ম্যাডসেন বলেন, আউটসোর্সিং খাতটি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই খাতে এখন কোয়ালিটি এবং প্রাইসিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের উচিত আইসিটি খাতের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা। পাশের দেশ ভারত যেভাবে প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
মিকিয়েল ইসমা বলেন, একসময় বাংলাদেশ অতি দরিদ্র, সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক শিল্পের মাধ্যমে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে আইসিটি ক্ষেত্রেও বিশ্বে পরিপিতি পেতে শুরু করেছে। বাংলাদেশে না এলে এটি ভালোকরে বুঝতাম না। বাংলাদেশের সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে প্রযুক্তি খাত দ্রুত এগিয়ে যচ্ছে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে ইউরোপ, আমেরিকান অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশি আইটি কোম্পানির সেতুবন্ধন তৈরি হবে। আউটসোর্সিং খাতে সবার জন্য দরজা খোলা আছে, শুধু দক্ষতা দিয়ে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন