টেলিটকের “থ্রিজি” (তৃতীয় প্রজন্ম) মোবাইল সেবা আসলেই কতটুকু প্রস্তুত

টেলিটকের “থ্রিজি” (তৃতীয় প্রজন্ম) মোবাইল সেবা আসলেই কতটুকু প্রস্তুত

অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়াসহ হাজারো অসম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করছে রাষ্ট্রায়ত্ব মোবাইল অপারেটর টেলিটকের “থ্রিজি” (তৃতীয় প্রজন্ম) মোবাইল সেবা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেবার উদ্বোধন করলেও গ্রাহকেরা থ্রিজি সুবিধার অনেক সেবাই পাবেন না। টেলিটকের গ্রাভিটি রেজিস্ট্রেশন করা গ্রাহকের বেশিরভাগ থ্রিজি সেবা পাচ্ছেন না। উদ্বোধনের শুধুমাত্র করপোরেট ব্যক্তিরা এ সেবা পাচ্ছেন। টেলিটক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ৬টি মোবাইল অপারেটরের মধ্যে টেলিটকের গ্রাহকই সবচেয়ে কম। বিটিআরসি’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৭ হাজার। কিন্তু টেলিটক যে প্রস্তুতি নিয়েছে এ গ্রাহকের অর্ধেককে ২০১৩ সালের মধ্যে টেলিটকের থ্রিজি সেবার আওতায় আনা সম্ভব।

আগামী বছরের শুরুর দিকে থ্রিজি নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেলিটকের থ্রিজি পাওয়ার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত হয়েছে। তাই আগে ভাগে গ্রাহক ধরতে তড়িঘড়ি করেই এ সেবা চালু করলো টেলিটক।

কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কামকা ওয়াস্তে চালু হচ্ছে থ্রিজি। টেলিটক থ্রিজি করছে বিষয়টি জানার পর গত এক দেড় মাসে রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকরা সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। মোবাইল ফোনের থ্রিজি (তৃতীয় প্রজন্ম) চালু হলেই মানুষ মুঠোফোনে ভিডিও কল করা, টিভি দেখাসহ অনেক সেবা পাওয়ার কথা। কিন্তু এ ধরনের কোনো সেবাই পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা। শুধু তাই নয়, টেলিটকের গ্রাভিটি রেজিষ্ট্রেশন করা গ্রাহকেরাও থ্রিজি সেবা পাচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেলিভিশন দেখতে টিভি চ্যানেলগুলোর সঙ্গে লিংক পুরো কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। এ কাজ শেষ হতে আরও প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। ঢাকায় স্থাপিত ৬০টি বেইজ ট্রান্সভার স্টেশন (বিটিএস) এখনও বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আসেনি। এছাড়া ৩২৮টি বিটিএসে নতুন প্রযুক্তি বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র।কিন্তু এগুলো কার্যকরি হতে সময় লাগবে। প্রথম পর্যায়ে শুধু করপোরেট ব্যক্তিরাই এ সংযোগ পাচ্ছেন। আর গ্র্যাভিটি ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে যারা মাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ টাকা খরচ করেছেন- এ ধরনের সদস্যরাই শুরু থেকে থ্রিজি সেবা পাবেন।

পরবর্তীতে ৫ লাখ গ্রাহক যাতে এ সেবা পায় সেজন্য কাজ করছে টেলিটক। এ সংখ্যার গ্রাহকদের কাছে সেবা পৌছে দিতে প্রায় এক বছর সময় লেগে যাবে।

শুধু তাই নয় আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর সঙ্গে লিংক শেয়ার, কনটেন্ট প্রোভাইডারদের সঙ্গে চুক্তির বিষয়গুলোও সম্পন্ন হয়নি। তাই গ্রাহকেরা বিদেশি চ্যানেলগুলোও দেখতে পাবেন না।থ্রিজি সেবা দিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ২১১০ থেকে ২১৬০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সি) মধ্যে ১০ মেগাহার্টজ বরাদ্দ দিয়েছে টেলিটককে।

টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। শিক্ষাসেবা, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাবে সহজেই। সেই সঙ্গে অর্থ লেনদেনসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক সেবাই যাওয়া যাবে।

About blogger - ব্লগার

একটি উত্তর দিন