টাটা ও রিলায়েন্স বাংলাদেশে থ্রিজি মোবাইল সেবা নিয়ে আসতে চায় ! আরও দুটি নতুন অপারেটর!!

টাটা ও রিলায়েন্স বাংলাদেশে থ্রিজি মোবাইল সেবা নিয়ে আসতে চায় ! আরও দুটি নতুন অপারেটর!!

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ বাজারে এবার তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) মোবাইল সেবা নিয়ে আসতে চায় ভারত। বর্তমানে ভারতীয় অপারেটর এয়ারটেল বাংলাদেশের বাজারে দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন সেবা দিচ্ছে।
ভারতেরই আরো দু’টি কোম্পানি এখন বাংলাদেশের বাজারে তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) মোবাইল সেবা দিতে ইচ্ছুক। এ দু’টি কোম্পানি হলো টাটা ও রিলায়েন্স। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বাজারে ব্যান্ডউইথ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান টেরিস্ট্রিয়াল লাইসেন্সপ্রাপ্ত দুটো কোম্পানির সাথে সমঝোতা করেছে। এখন থ্রিজির লাইসেন্স পেলে তারা সে অপারেশনও চালু করতে চান।
বিটিআরসির চূড়ান্ত করা খসড়া নীতিমালার সুযোগ নিয়ে তারা থ্রিজি লাইসেন্স নিয়ে এলটিই (লং টার্ম এভ্যুলেশন) প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান। দু’টি কোম্পানিই ভারতে থ্রিজি সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে টাটার শরিক জাপানের এনটিটি ডকোমো জাপানে এলটিই প্রযুক্তির সেবা চালু করেছে।

সরকারের একজন মন্ত্রী নয়া দিগন্তকে বলেছেন, টাটা অথবা রিলায়েন্সের বাংলাদেশের বাজারে থ্রিজি সেবা নিয়ে আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, এ জন্যই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি থ্রিজির যে নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে তাতে একটি নতুন অপারেটরকে লাইসেন্স দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব: জিয়া আহমেদ বলেছেন, ‘এটি কারা পাবেন সেটি পরে নির্ধারিত হবে।’ এর বেশি তিনি কিছু বলতে চাননি।
জিয়া আহমেদ জানান, চারটি প্রতিষ্ঠানকে থ্রিজি সেবার জন্য লাইসেন্স দেয়া হবে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকা টেলিটক একটি লাইসেন্স পাবে। দুটি পাবে বর্তমান পাঁচটি মোবাইল ফোন অপারেটর থেকে যেকোনো দুটি অপারেটর এবং একটি পাবে বাইরে থেকে।
বিটিআরসি চূড়ান্ত করা নীতিমালাটি আজ রোববার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে। নীতিমালা অনুসারে প্রতি মেগাহার্জ স্পেকট্রামের দাম ধরা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। নিলামের ফ্লোর প্রাইস রাখা হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। এখন মন্ত্রণালয় এটি অনুমোদন করলেই আসছে জুন বা জুলাই মাসে থ্রিজি সেবার জন্য নিলাম ডাকবে বিটিআরসি।২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ারিদের ৭০ শতাংশ শেয়ার নামমাত্র মূল্যে কিনে নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করে ভারতি এয়ারটেল। পাইপলাইনে আছে টাটা ও রিলায়েন্স। রিলায়েন্স ও টাটা বাংলাদেশের বাজারে আসতে চায় মূলত তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন সেবা (থ্রিজি) দিতে।
টাটা কমিউনিকেশন্স ২ এপ্রিল ২০০৮ বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছিল। সে প্রস্তাব সরকার এখন সক্রিয় বিবেচনায় রেখেছে বলে পাওয়া খবরে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব সুনীল কান্তি বোসকে জিজ্ঞেস করা হলে বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
সূত্র মতে, ভারতীয় কব্জায় যাচ্ছে বাংলাদেশের টেলি ও ইন্টারনেট যোগাযোগ। সরকারিভাবে গত বছরের ছয়টি ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল-আইটিসির লাইসেন্স দেয় বিটিআরসি।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করে বলেছে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত অপারেটররা টেরিস্ট্রিয়াল অপটিক্যাল ফাইবার লাইনের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে টেলিযোগাযোগ কোম্পানির সাথে সংযুক্ত হয়ে বিকল্প ব্যবস’ায় বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগব্যবস’ার সাথে যুক্ত করতে পারবে। সেটি প্রমাণিত হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি কোম্পানি ভারতের টাটা ও রিলয়েন্সের সাথে সমঝোতা চুক্তি সই করেছে।
ভারত সঞ্চার নিগমের সাথে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সাথে এখনই একটি টেরিস্ট্রিয়াল ফাইবার লিঙ্ক রয়েছে। সেখানে বেসরকারি উদ্যোগে এসব লিঙ্ক দেশের নিরাপত্তাঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
নিয়ম ভেঙে ছয়টি কোম্পানিকে ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সমিশন ক্যাবল লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করে ফেলেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নিজের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।থ্রিজি লাইসেন্স দেয়ার খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে বিটিআরসি। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক মোবাইল অপারেটরসহ নতুন আরও চারটি অপারেটরকে লাইসেন্স দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে ওই নীতিমালায়। তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) লাইসেন্স দেয়ার সময় পরবর্তী চতুর্থ প্রজন্ম (ফোরজি) এবং লং টার্ম ইভাল্যুয়েশন (এলটিই) প্রযুক্তিও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চূড়ান্ত নীতিমালা এ সপ্তাহেই ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ জনকণ্ঠকে জানান, থ্রিজির খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নীতিমালায় কিভাবে থ্রিজি সার্ভিস চালু করা হবে তার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। নীতিমালাটি এ সপ্তাহেই ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

নীতিমালাটি মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন হয়ে এলে আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী জুনের শেষে অথবা জুলাই মাসের প্রথম দিকে থ্রিজি লাইসেন্স দেয়ার কাজ শেষ করা হবে।
সূত্র জানিয়েছে, সেলুলার মোবাইল ফোন সার্ভিস (থ্রিজি, ফোরজি ও এলটিই) রেগুলেটরি লাইসেন্স গাইড লাইন ২০১২ নামে এ খসড়া নীতিমালায় চারটি অপারেটরকে লাইসেন্স দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বেসরকারী পাঁচ মোবাইল অপারেটরের মধ্যে দুটি অপারেটরকে লাইসেন্স দেয়া হতে পারে। বাকি দু’টি নতুন অপারেটরকে লাইসেন্স দেয়া হবে। এছাড়া রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক এ লাইসেন্স পাবে।
খসড়া নীতিমালায় সব ধরনের তরঙ্গের (স্পেক্টাম) প্রতি মেগাহার্টজের ফি ধরা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। থ্রিজি লাইসেন্স নিলামে প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য ‘ফ্লোর প্রাইস’ থাকবে দেড় হাজার কোটি টাকা। তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল সার্ভিস (থ্রিজি) লাইসেন্স থেকে আনুমানিক ৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোন অপারেটর থ্রিজি লাইসেন্স নেয়ার পর বিটিআরসির অনুমোদন নিয়ে তাদের নেটওয়ার্ক ফোরজি বা এলটিইতে উন্নীত করতে পারবেন। এতে অতিরিক্ত কোন অর্থ না নেয়ার প্রস্তাবও করা হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রয়াত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল এবং সিটিসেল দ্বিতীয় প্রজন্মের (টুজি) সেবা দিচ্ছে। বিশ্বের বহু দেশে টুজির পাশাপাশি থ্রিজি মোবাইল চালু হয়েছে। কিছু দেশে তো ফোরজি মোবাইল সেবা দেয়া হচ্ছে। দ্রুত গতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা থাকায় গ্রাম পর্যায়ে মানুষ ইন্টারনেট সুবিধা পাবে।
বিটিআরসি জানিয়েছে, থ্রিজি প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চগতিতে তথ্য পরিবহন সম্ভব হওয়ায় মোবাইল ফোনেই টিভি দেখা, জিপিএসের মাধ্যমে পথনির্দেশনা পাওয়া, উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারসহ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেয়া সম্ভব হবে। থ্রিজির পরের ধাপের প্রযুক্তি হচ্ছে ফোরজি। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য ফোরজিকেই লং টার্ম ইভাল্যুশন (এলটিই) বলছেন। এলটিই প্রযুক্তিতে থ্রিজির চেয়েও বেশি গতিতে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। আধুনিক প্রযুক্তির এই ফোনে একজন অন্যজনকে দেখে কথাও বলতে পারবেন। এমনকি ভিডিও কনফারেন্সও করা যাবে। এ ছাড়া ইন্টারনেটে ব্রাউজিং, মোবাইল টিভি দেখা, ভিডিও কনফারেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা সম্ভব হবে। থার্ড জেনারেশন (থ্রিজি) ফোন চালু হলে প্রাহক বিশ্বকে পেয়ে যাবে হাতের মুঠোয়। থ্রিজির লাইসেন্স উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে দেয়া হবে। থ্রিজি হচ্ছে তারবিহীন ইন্টারটে ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তি। আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল থ্রিজি এখন পৃথিবীর অনেক দেশেই চালু হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ যখন থ্রিজির লাইসেন্স প্রক্রিয়া নিয়ে চিন্তা করছিল, তখন অস্ট্রেলিয়াতে থ্রিজি ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে বাজারে আসে। সেই সময় যদি থ্রিজির লাইসেন্স দেয়া হতো তাহলে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে দেশের মানুষের তাল মেলাতে সহজ হতো। থিজি লাইসেন্সে নিলামে দেশী বা বিদেশী যে কোন প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের জুনের মধ্যেই টেলিটক থ্রিজি প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেলিটক এ সুবিধা পাবে। ৬ মাসের জন্য টেলিটককে বাণিজ্যিকভাবে এ সেবা চালুর সুযোগ দেয়া হবে।
এদিকে, থ্রিজি চালু হলে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইন্টারনেট কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক এবং ব্রডব্র্যান্ডের অত্যাধুনিক পণ্যের দেখা মিলবে এখানে। চায়না কম-এর আগে সাংহাই টেলিকম নামে দীর্ঘ সাত বছর ধরে দেশের টেলিকম ও ইন্টারনেট সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে।

About blogger - ব্লগার

একটি উত্তর দিন