জাপানে “বাংলাদেশ নেক্সট” ইভেন্ট

জাপানে “বাংলাদেশ নেক্সট” ইভেন্ট

বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় সফ্টওয়্যার ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পে বিনিয়োগে জাপানী আইটি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে অনুষ্ঠিত হলো জমকালো ‘বাংলাদেশ নেক্সট’ ইভেন্ট। গত ১৫ নভেম্বর ২০১৩, টেকিও শেরাটন মিয়াকো হোটেলে ‘বাংলাদেশ নেক্সট- ইয়োর নেক্সট আইটি ডেসটিনেশন’ শীর্ষক এ ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে ও টোকিও চেম্বার অব কমার্স (টিসিসিআই) এবং জাপানে কর্মরত বাংলাদেশী আইটি পেশাজীবীদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে জাপানের শতাধিক আইটি কোম্পানীর উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাপানের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

Bangladesh Next Tokyo 05
উদ্বোধনী বক্তৃতায় জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জানান, ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকার বদ্ধপরিকর।  তিনি বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করতে জাপানের আইটি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের সফ্টওয়্যার ও আইটি খাতের বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফ্টওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি শামীম আহসান। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বাংলাদেশের আইটি খাতে ব্যবসায় বিদ্যমান সুযোগ সুবিধার কথা তুলে ধরেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আইটি খাত থেকে বেসিস ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানী আয়ের লক্ষমাত্রা অর্জনে কাজ শুরু করেছে। তন্মধ্যে জাপান থেকেই ২০০ মিলিয়ন ডলার আয় হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। উপস্থিত জাপানী আইটি উদ্যোক্তাগণ বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে তাদের আন্তরিক সদিচ্ছা ও আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যের সাথে সহমত প্রকাশ করে বিশিষ্ট আইটি পেশাজীবী, জেটিএস-এর রেজওয়ানুর কবির বাংলাদেশে জাপানের আইটি বাজার সম্প্রসারণে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের আইটি পেশাজীবীদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বেসিস সভাপতির মূল উপস্থাপনার পর আরো চারটি পৃথক উপস্থাপনা ছিল অনুষ্ঠানে। গুগল জাপানের প্রাক্তন সভাপতি নোরিয়ো মুরাকামি, বিএনআই এর সুনিচি নাকামুরা, বিজেআইটির নবুহিরো হায়াশি এবং বাংলাদেশ বিজনেস পার্টনার লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরু ওকাজাকি জাপানী বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন। তারা বাংলাদেশে ব্যবসার বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন। মি: মুরাকামি তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, জাপানের আইটি খাত যথেষ্ট ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে, এখন আমাদের উচিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসা সম্প্রসারণ করা এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশও তাতের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অংশ্রগহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ম্যাথওয়ার্কস-এর ড. এম. মেজবাহ উদ্দিন ও ড. মোহাম্মদ মুকিত এবং কেডিডিআই এর রনি সাইদুল পারভেজ।  কিয়ুশো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আশির আহমেদ এসময় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাইকা, জেট্রো, এমইটিআই-এর প্রতিনিধিবর্গও উপস্থিত ছিলেন। জাপানে গেমিং-এর বৃহৎ প্রতিষ্ঠান গ্রি’র নিলুফা ইয়াসমিন সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জাপানে বাংলাদেশের আইটি পেশাজীবী কাজী এনামুল হক। বেসিস-এর প্রাক্তন সভাপতি মাহবুব জামানও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

About বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন

একটি উত্তর দিন