জাতীয়ভাবে হবে আইসিটি অলিম্পিয়াড

জাতীয়ভাবে হবে আইসিটি অলিম্পিয়াড

Hour of Code_Closing1‘প্রোগ্রামিং যে কতটা আনন্দের ও আনন্দময় সেটা আগে জানতাম না। তবে এখন জানি।’ আওয়ার অব কোড সম্পর্কে বলতে গিয়ে এমনটাই জানান ভিকারুননিসা স্কুলের শিক্ষার্থী ফারিহা নূর। তার মতো অনেকেই নিজেদের প্রথম প্রোগ্রামিং করার অভিজ্ঞতা জানালো বাংলাদেশে অনুষ্টিত ‘আওয়ার অব কোড’ আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বিষয়ে সচেতনতামূলক এ আয়োজন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, বগুড়া ও জামালপুরের ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত আয়োজনে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এসব আয়োজনে ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) ও দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন।
আজ সোমবার ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সমাপনী আয়োজনে প্রধান অতিথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এইচটিএমএল এ একটি কোড করে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ লেখা একটি ওয়েবপেজ তৈরি করে দেখান। তিনি বলেন, ‘অন্য অনেক দেশ থেকে বাংলাদেশী মেধাবীদের সংখ্যা অনেক বেশি। এ মেধাকে কাজে লাগিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে অনেক সামনে এগিয়ে নেয়া যাবে।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা ক্ষেত্রেও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এর ফলাফলও ভালো হবে ভবিষ্যৎতে।’ জনপ্রিয় মাসিক ম্যাগাজিন কিশোর আলো’র সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, ভবিষৎতে এ ধরনের যে কোন আয়োজনে আমরা সঙ্গে থাকবো। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবির, বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের সহ-সভাপতি তরিক রহমান, দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তামিম শাহরিয়ার সুবিন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিদ রাফিসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে ডিসেম্বর মাস থাকা অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা থাকে। তাই আলাদাভাবে দেশে জাতীয় ভাবে আইসিটি প্রোগ্রামিং সপ্তাহ উদযাপন ও আইসিটি অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হবে।
উল্লেখ্য, আওয়ার অব কোড উদ্যোগে ঘন্টাব্যাপী আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে নিজেরাই বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। চলতি বছর সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনে সারাবিশ্বে মোট ৭ কোটি ৪৬ লাখ শিক্ষার্থী প্রায় ৫০০ কোটি লাইনের কোড লিখেছে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) ও মাসিক ম্যাগাজিন কিশোর আলো। এছাড়া সহযোগী হিসাবে ছিলো বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম ও জিরো টু ইনফিনিটি।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন