জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিসিএসআইসিটিওয়ার্ল্ড ২০১১-এর সমাপনী অনুষ্ঠান

জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিসিএসআইসিটিওয়ার্ল্ড ২০১১-এর সমাপনী অনুষ্ঠান

গতকাল (২৮ নভেম্বর) ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিসিএস আইসিটি ওয়ার্ল্ড ২০১১-এর সমাপনী অনুষ্ঠান। ‘ডিজিটাল শিক্ষাই ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি’ এই শ্লোগান নিয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২১ থেকে ২৫ নভেম্বর পাঁচ দিনব্যাপী বিসিএসআইসিটিওয়ার্ল্ড ২০১১ অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, এমপি। তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করব। সেই কাজে সরকার অনেক দূর এগিয়েছে। এই লক্ষে সরকার গত তিন বছরে অনেক কাজও করেছে। তিনি বলেন, সরকার ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি করার জন্য সাবমেরিন ক্যাবল শক্তিশালী করা ছাড়াও বিকল্প সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন ও ইন্টারনেটের খরচ কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছেন। খুব শিগগিরই ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করার উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিসিএস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, ১৯৮৭ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি প্রতিষ্ঠার সময় এর সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ১১ জন। আর আজ এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা সহস্রাধিক। তিনি জানান এই মেলা থেকে বিসিএস তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য একজনকে স্বর্ণপদক দিচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে বিসিএস অনেক ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য এ বছর ফ্লোরা লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এন ইসলামকে বিসিএস স্বর্ণপদক-২০১১ প্রদান করা হয়। বানিজ্য মন্ত্রী ফারুক খান এম এন ইসলামকে এই পদক তুলে দেন।

মেলার সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির কম্পিউটার মেলা বিসিএসআইসিটিওয়ার্ল্ড ২০১১-এর আহবায়ক কাজী আশরাফুল আলম বলেন, সকলের অক্লান্ত পারিশ্রমে ও সহযোগিতায় এবারের মেলা সফল হয়েছে। এ জন্য তিনি মেলার পৃষ্ঠপোষক, ক্রেতা, বিক্রেতা, আয়োজক সহযোগী ও বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীসহ মেলার সাথে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়াও সমাপনী অনুষ্ঠানে তাইওয়ান ট্রেড সেন্টার বাংলাদেশের পরিচালক মি. উডি ওয়াং, ইনজেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু ইউসফ জাকারিয়া বক্তব্য রাখেন।

মেলায় সেরা প্যাভিলিয়ানের পুরস্কার পেয়েছে ক্রিয়েটিভের পরিবেশক সোর্স এজ লিমিটেড। সেরা স্টল নির্বাচিত হয়েছে স্যামসাং-এর পরিবেশক স্মার্ট টেকনোলজি লিমিটেড।

তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য এটিএন বাংলার অনুষ্ঠান উপদেষ্টা নওয়াজেস আলী খানকে বিশেষ সম্মান সূচক পদক প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের ত
থ্যপ্রযুক্তি বিকাশে সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রথম আলোর উপ-ফিচার সম্পাদক পল্লব মোহাইমেনকে বিশেষ সম্মান সূচক পদক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয় এবারের মেলায় এ প্রদর্শনীতে তথ্যপ্রযুক্তির ৫০টি দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান এবারের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে। প্রায় ৫০,০০০ বর্গফুট স্থান জুড়ে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে ছিল ৭০টি স্টল এবং ৩০টি প্যাভিলিয়ন।

বিসিএস আয়োজিত দেশের সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী বিসিএসআইসিটিওয়ার্ল্ড ২০১১-এ প্রতিদিনই মিডিয়াবাজারে তথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং , বাংলাদেশের সফট্ওয়্যার প্যাটেন্টের ক্ষেত্রে ট্রিপস এগ্রিমেন্টের প্রভাব, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা : বৈশ্বিক প্রবণতা ও বাংলাদেশের বাস্তবতা’, ‘বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মাল্টিমিডিয়া টেকনোলজি ও ক্রিয়েটিভ আর্টসের সম্ভাবনা’ নিয়ে সেমিনারের আয়োজন ছিল। এ সব সেমিনারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রীপরিষদ সদস্য, সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের গুরুতবপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য, দেশি-বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, বিশেষজ্ঞ, কর্মী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও অনুরাগী ব্যক্তিবর্গ এবং স্পন্সর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া প্রদর্শনীর প্রতিদিনই ইভেন্ট কর্নারে সেলিব্রেটি আড্ডায় দর্শককদের প্রাণ ভরিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু, বিজরী বরকত উল্লাহ, জুয়েল আইচ,শুভ্র দেবেরর মত বিখ্যাত তারকারা। আর প্রোডাক্ট শো এবং সঙ্গীতানুষ্ঠানও মাতিয়েছে আগত দর্শনার্থীদের। এছাড়া মেলা উপলক্ষে সমান্তরালে চলমান ওয়েব ফেয়ারেও বহুসংখ্যক ভিজিটরকে মঙ্গলবার তাদের পছন্দের পণ্য খুঁজে নিতে দেখা গেছে। এ ফেয়ার উপলক্ষে প্রতিদিন দেয়া হচ্ছে ২০টির বেশি আকর্ষণীয় তথ্যপ্রযুক্তিপণ্য পুরস্কার।

মেলায় বাংলালায়নের সৌজন্যে চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট ফ্রি ব্যবহারের সুযোগ ছিল দর্শনার্থীদের। পাশাপাশি অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং, আইপি টিভি, অনলাইন রেডিও, ইন্টারনেট গেমিং ইত্যাদি ব্যবহারের ব্যবস্থাও ছিল। আলাদা একটি গেমিং জোনের ব্যবস্থা থাকায় প্রদর্শনী পেয়েছিল একটি ভিন্ন মাত্রা।

এবারে মেলার বাড়াতি নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন স্থানে ক্লোজ সার্কিট(সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এর ফলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেই গোটা মেলা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

প্রদর্শনীতে অংশ নেয়ার পাশাপাশি এবারই প্রথমবারের মত যে কেউ মেলার সমান্তরালে চলমান ওয়েব ফেয়ারেও (www.bcsictworld.com.bd) অংশ নিতে পেরেছেন। শুধুমাত্র এ ওয়েবসাইটটি ভিজিট করেই ভিজিটররা জিতে নিয়েছেন হোম থিয়েটার, মোবাইল ফোন, ওয়াইম্যাক্স মডেম, পেনড্রাইভসহ ১০৫টি আকর্ষণীয় পুরস্কার। ওয়েবসাইটি এখন থেকে সক্রিয় থাকবে ও প্রতিনিয়ত আপডেট করা হবে। আর ওয়েব ফেয়ারে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিন ২০টির বেশি আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলার প্লাটিনাম সপন্সর, বাংলালায়ন কমিউনিকেশন্স লিমিটেড, গোল্ড স্পন্সর, হিটাচি, মাইক্রোসফট ও ইউনাইটেড কম্পিউটার সেন্টার (ইউসিসি), সিলভার স্পন্সর, ডেল প্রিন্টার, মারকারী এবং ইকারাস ইনফোটেক লিমিটেড, ইভেন্ট স্পন্সর ক্যাসপারস্কি, টিকেট স্পন্সর, টেকভ্যালী ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড, টিকেট কাউন্টার স্পন্সর, কনিকা মিনোলটা ও এওসি, ভলান্টিয়ার ড্রেস স্পন্সর ডেল প্রিন্টার, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার স্পন্সর গ্রীন পাওয়ার ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স, মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলা, সমকাল ও রেডিও টুডে-কে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠান সুরের জাদুতে মাতিয়ে রাখেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ন্যান্সি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

About mehdi

একটি উত্তর দিন