চার দিনব্যাপী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড শুরু

চার দিনব্যাপী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড শুরু

digital-worldবঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চারদিনব্যাপী ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৫’ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করেন। দেশের তথ্যপ্রযুক্তির সবচেয়ে বড় আয়োজন ডিজিটাল–২০১৫ শুরু হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির নানা আয়োজন রয়েছে এই মেলায়। উদ্বোধনী বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেসিস সভাপতি শামীম আহসান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দেশের সবখানে প্রযুক্তির ব্যবহার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষে আরো ব্যাপক পরিমানে মোবাইল, ল্যাপটপসহ প্রযুক্তি ডিভাইসের ব্যবহার বাড়াতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে মোবাইল মনোপলি ভেঙ্গে দেওয়ার পরই দেশের টেলিকম অপারটের গুলো প্রতিযোগিতা শুরু করে। বর্তমানে ১৬ কোটির দেশে ১২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে দেশের আইটির ব্যবহার সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ৫ হাজারের ও বেশি জিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে দেশের মানুষ ২০০ ধরনের সরকারি সেবা পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টি দেশে আইটি সফটওয়্যার সেবা রপ্তানির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলায় জেলায় হাইটেক পার্ক করে তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বেকাররা চাকরির পেছেনে না ছুটে যেন উদ্যেক্তা হতে পারে সেজন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকার জামানতবিহীন লোনেরও ব্যবস্থা করেছে সরকার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বর্তমানে সরকারের ৭৫ শতাংশ সেবা ডিজিটাল হয়েছে। আগামী ৪ বছরের মধ্যে এটি শতভাগে নিয়ে যাওয়া হবে। এক সময় দেশে আইটি ইন্ড্রাস্টি বলতে কিছু ছিলো না। কিন্তু গত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দেশে আইটি ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপক ব্যাপ্তি পেয়েছে। তিনি বলেন, দেশের সর্বত্র ইন্টারনেটের বিস্তৃতি ঘটানো হয়েছে। এমনকি ভারতের সাথেও ৩টি ফাইবার অপটিক্যালে যুক্ত হয়েছি। অদূর ভবিষ্যতে সার্কভূক্ত দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশ সংযুক্ত হবে বলেও জানান জয়।
জয় বলেন, সরকার দেশে দূর্নীতি কমাতে ই-টেন্ডারিং চালু করেছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি মন্ত্রণালয় এই পদ্ধতি চালু করেছে। খুব শিগগির সকল মন্ত্রনালয় ই-টেন্ডারিং চালু করবে যার মাধ্যমে দেশে টেন্ডারবাজি বন্ধ হবে।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এ সরকারের আমলে বাংলাদেশ শ্রম র্নিভর অর্থনীতি থেকে মেধা নির্ভর অর্থনীতিতে প্রবেশ করেছে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার প্রচলনের মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রাপ্তি, বিদেশ যাত্রা, আয়কর, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়াসহ নানান সেবা জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।
মেলায় ভাষার মাসের মর্যাদায় ভাষা শহীদদের নামে ৫টি জোন রয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে মিনিস্টারিয়েল কনফারেন্স।
এবারের সম্মেলনে বিপিএম, আউটসোর্সিং, ই-কমার্স এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্ব পাচ্ছে। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে আইটি ক্যারিয়ার।
সম্মেলনে প্রথমবারের মতো টেক রকারস হবে। বিদেশী বিনিয়োগে বিদেশী উদ্যোক্তারা এতে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বাজারে বিনিয়োগ চুক্তি করবে।
তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক সেবা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা উপস্থাপনে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৫’-এ থাকছে চারটি পৃথক প্রদর্শনী। আয়োজনে প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে বেসিস সফট এক্সপো, ই-গভর্নেন্স এক্সপো, মোবাইল ইনোভেশন এক্সপো এবং ই-কমার্স এক্সপো।
এছাড়া ই-কমার্স জোন, বিপিও ফোরাম, ডেভেলপারস ফোরাম, আইটি ক্যারিয়ার কনফারেন্স এবং আউটসোর্সিং ফোরামের মতো নানা উদ্ভাবনী উদ্যোগের পসরা নিয়ে হাজির থাকছে তরুণ প্রযুক্তিবিদরা।
প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের ৫টি দেশের মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে থাকছে ‘মিনিস্টেরিয়েল কনফারেন্স’। বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া থেকে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা।
আয়োজনের দ্বিতীয় দিন সকাল ১০টায় মিডিয়া বাজার অনুষ্ঠিত হবে ৪ ঘণ্টাব্যাপী এই কনফারেন্স। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব হোউলিন ঝাও। থাকছে ২০টি সেমিনার, ১১টি কনফারেন্স এবং ১৩টি টেকনিক্যাল সেশন, সিএক্সও নাইট এবং ক্লাউড ক্যাম্প। সেমিনারের মধ্যে ব্যবসা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ১১টি, ই-গভর্নেন্স নিয়ে ১১টি এবং ৩টি স্পেশাল সেশন রয়েছে।
আয়োজনে এবার ২৫টিরও বেশি দেশ থেকে যোগ দিচ্ছেন ৮৫ জন আইটি বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তা। তথ্যপ্রযুক্তির নিয়ে আয়োজিত সেমিনার ও টেকনিক্যাল সেশনে অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন তারা।
এসব ছাড়াও বিশেষ আয়োজন হিসেবে থাকছে প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণে টেক উইমেন কনফারেন্স, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কনফারেন্স অন আইটি ক্যারিয়ার, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের নিয়ে ‘টাইটেনিয়াম কনফারেন্স’।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের(বেসিস) যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড। সহযোগি হিসেবে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রাম(এটুআই) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল(বিসিসি)
ফিউচার ইজ হিয়ার স্লোগানে টাওয়ার্ডস নলেজ বেইজড সোসাইটি মূল প্রতিপাদ্যে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ফেব্রুয়ারির ৯ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এ মেলা চলবে।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন