চট্টগ্রামে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা শুরু

চট্টগ্রামে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা শুরু

dif1চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় সাইবার সিটি এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) হাইটেক পার্ক করার ঘোষণা দিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রামে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।  চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের অধীনে এ মেলার আয়োজন করে।
চট্টগ্রাম ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম অংশীদার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা। শেখ হাসিনা সরকার চট্টগ্রামের উন্নয়নে আন্তরিক।  তাই চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিগগির বাকলিয়ায় ৯৮ একর জায়গার ওপর দেশের প্রথম সাইবার সিটি করা হবে। তাছাড়া রাউজান উপজেলার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ৩’শ একর জায়গার উপর হাইটেক পার্ক গড়ে তোলা হবে। যা হবে দেশের ডিজিটাল কর্মসূচির অন্যতম অংশীদার।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল শ্রমনির্ভর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার শ্রমনির্ভরের পরিবর্তে মেধানির্ভর অর্থনীতি নির্মাণে কাজ করছেন। ২০০৯ সালের পূর্বে ওয়াইফাই কি জিনিস মানুষ তা বুঝত না।  কিন্তু এখন সরকারি প্রতিটি সেক্টরসহ বিভিন্ন এলাকা ওয়াইফাই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। তরুণরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে দেশের সমৃদ্ধিতে কাজ করছে।
দেশের মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগ তরুণ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণরাই হচ্ছে দেশের চালিকা শক্তি। এ গুরুত্ব উপলব্ধি করে সরকার তরুণদের জন্য লার্নিং আর্নিং প্রকল্প হাতে নিয়েছে।  দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এ প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণদের হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা ঘরে বসে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে।  এতে দেশ ও জাতি সমৃদ্ধ হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে ৫৫ হাজার তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্স  আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেটের ব্যয়বহুলতার কারণে ২০০৯ সালের পূর্বে দেশে হাতেগোনা কিছু মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করত।  কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইন্টারনেটের খরচ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।  ফলে অর্থনীতি নতুনরূপ লাভ করছে।
difআগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব করার ঘোষণা দিয়ে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দেশের সর্বত্র এখন থ্রিজি নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জেও মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।  প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। যা দেশকে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাবে।  তাই আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করা হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞানলাভ করতে পারে।
চট্টগ্রাম জেলার প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা সংসদ সদস্য ওয়াসেকা আয়েশা, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার।  অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন