“কৃত্রিম রক্ত” বিজ্ঞানের আরও একটি বিস্ময়কর আবিষ্কার ।।

“কৃত্রিম রক্ত” বিজ্ঞানের আরও একটি বিস্ময়কর আবিষ্কার ।।

একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের ‘কৃত্রিম রক্ত’ ধারণাটি তার দ্বিতীয় দশকে এসেই অনেকটা সফলতা পেয়ে গেছে । ১৯৮০ সালের দিকে গবেষণার শুরু, এইচআইভি এইডস ভয়াবহ রূপ ধারণ করে এই সময়ে এবং তখন থেকেই কৃত্রিম রক্তের উপর গবেষণা প্রাধান্য পেতে থাকে । দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম দিকের দেশগুলোর মাঝে অন্যতম যারা কৃত্রিম রক্ত ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করে । তারা Hemopure নামক বিকল্প রক্তের প্রোডাক্ট ব্যবহারের অনুমোদন দেয় । Fluosol- DA ছিল প্রথম অনুমোদিত কৃত্রিম রক্ত তবে সীমিত সাফল্য ও বিভিন্ন জটিলতার কারনে ১৯৯৪ সালে এই প্রকল্প প্রত্যাহার করা হয় ।

মূলত অক্সিজেন পরিবহনে কতটা কার্যকর সেই বিষয়টা প্রাধান্য দিয়ে এই কৃত্রিম রক্ত নিয়ে গবেষণা চলছে । এই বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এদের দুটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছেঃ

(১) Hemoglobin Based Oxygen Carrier (HBOC)
(২) Perfluorocarbon Based Oxygen Carrier (PFBOC)

যে নির্দিষ্ট Perflurocarbon রাসায়নিক যৌগগুলো অক্সিজেন পরিবহন এবং ছেড়ে দিতে পারে তাদের মাঝে একটি হলো Perfluorodecalin । অন্যটি হলো Hemoglobin যা মানুষ, অন্যান্য প্রাণী, রিকম্বিনেন্ট প্রযুক্তি এবং স্টেম সেল থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে । এই প্রযুক্তিতে উৎপাদিত Polyheme তেমন সাফল্য পায়নি, বরং ব্যর্থই হয়েছে বলা যায় ।

হিমোগ্লোবিনকে মানবদেহের রক্তপ্রবাহে সহজে প্রবেশ করানো সম্ভব নয় । হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণিকায় কোষঝিল্লীর মাঝে থাকে । কিন্তু কৃত্রিম হিমোগ্লোবিন পৃথক অবস্থায় থাকে । এদের গাঠনিক কাঠামো শক্ত হতে হয় যেন এরা রক্তে ভেঙে না যায় । হিমোগ্লোবিন তৈরিতে যে পদ্ধতিগুলো ব্যাবহার করা হয় তার মাঝে আছে Cross-lingking, polymerization, conjugation। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এর জন্য কৃত্রিমভাবে সংশ্লেষিত আবরণ তৈরি করার চেষ্টা করছেন লিপিড, কোলেস্টেরল এবং ফ্যাটি এসিড ব্যবহার করে । এর মাঝে পলিইথিলিন গ্লাইকল থেকে Mp4 নামক একধরণের কৃত্তিম আবরণ তৈরি করা হয়েছে ।

HBOC এর কার্যকরণ লোহিত রক্ত কণিকার মতোই । এরা ফুসফুসে অক্সিজেনের সাথে বন্ধন তৈরি করে এবং টিস্যুর কৈশিক জালিকায় গিয়ে অক্সিজেন ছেড়ে দেয় । এর প্রধান অন্তরায় হলো এর আয়ুষ্কাল সীমিত । এছাড়া এটি নাইট্রিক অক্সাইডের সাথে বন্ধন তৈরি করে যেটি Vasodialator । এটি রক্তবাহিকার প্রসারণে সহায়তা করে । ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায় । HBOC ব্যবহারে মানবমৃত্যুর মূল কারণ এটাই ।

স্টেম সেল প্রযুক্তি বর্তমানে কৃত্রিম রক্ত নিয়ে গবেষণায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে । University of Edinburgh এবং Scottish National Blood Transfusion Service এর তত্ত্বাবধানে এ ধরণের একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে । তারা ‘ও নেগেটিভ’ গ্রুপের রক্ত তৈরি করছেন যেটি হলো সার্বজনীন দাতা গ্রুপ । পূর্ণবয়স্ক দাতার রক্তের ফাইব্রোব্লাস্টের De-differentiation এর মাধ্যমে এটি করা হচ্ছে । কোষগুলোকে রি-প্রোগ্রাম করে Induced Pluripotent Stem Cells (IPSC) এ রুপান্তরিত করা হয় এবং তারপর Bone Marrow-এর মতো পরিবেশে কালচার করা হয় । সুস্থ ও রোগমুক্ত কণিকা পৃথক করা সম্ভম হয় এক মাস পর কালচার মিডিয়াম থেকে । তবে এই প্রযুক্তিটি বেশ ব্যয়বহুল । প্রচুর পরিমাণ ব্লাড সেল তৈরি করা সম্ভব হলেই প্রযুক্তিটি আমাদের জন্য সুখবর বয়ে আনতে পারবে । ২০১৬ সালের দিকে এই পদ্ধতিতে তৈরি রক্ত কয়েকজন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছেন ।

বিস্তারিত এবং এই সম্পর্কিত আরও বিষয় জানতে  ভিসিট  করুন ।

 

About Ashiqur Rahman

Ashiqur Rahman

একটি উত্তর দিন