কল আদান-প্রদানে শর্ত আরোপ বিটিআরসির

কল আদান-প্রদানে শর্ত আরোপ বিটিআরসির

ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) প্রতিষ্ঠানগুলোর কল আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বকেয়া আদায়ের স্বার্থেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্র জানিয়েছে।

শর্ত অনুযায়ী, সম্পূর্ণ লাইসেন্স ফি ও রাজস্ব ভাগাভাগির ৫০ শতাংশ বকেয়া পরিশোধ করলে সংশ্লিষ্ট আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান দৈনিক ৫০ লাখ মিনিট কল আদান-প্রদানের সুযোগ পাবে। আংশিক লাইসেন্স ফি ও রাজস্ব ভাগাভাগির ৫০ শতাংশ পরিশোধ করলে এ হার হবে দৈনিক ৩০ লাখ মিনিট। লাইসেন্স নবায়ন ফি জমা না দিলে ও রাজস্ব ভাগাভাগির ৫০ শতাংশ পরিশোধ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দৈনিক ১০ লাখ এবং বকেয়া রাজস্ব ভাগাভাগির ৫০ শতাংশের কম অর্থ পরিশোধ করলে কল আদান-প্রদান করা যাবে ১ লাখ মিনিট। তবে ব্যাংক গ্যারান্টির চেয়ে বকেয়ার পরিমাণ কম হলে বিটিআরসির নির্ধারিত মাত্রায় কল আদান-প্রদান করতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো।

BTRC_logo_433416544

নিয়মিত অর্থ পরিশোধ না করায় গত বছরের অক্টোবরে নীতিমালা সংশোধন করে বিটিআরসি। সংশোধিত নীতিমালায় আইজিডব্লিউগুলোকে ব্যাংক গ্যারান্টির বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়। গ্যারান্টি হিসেবে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম সাড়ে ৭ কোটি টাকা রাখতে বলা হয়। এ অর্থের চেয়ে পাওনার পরিমাণ বেশি হলে প্রতিষ্ঠানের কল আদান-প্রদান বন্ধ করার কথা বলা হয়। আর বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক গ্যারান্টি থেকে তা কেটে রাখার বিধানও এতে সংযোজন করা হয়।
তার পরও রাজস্ব ভাগাভাগির অংশ ও লাইসেন্স ফি বাবদ ডিসেম্বর শেষে আইজিডব্লিউগুলোর কাছে সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৯৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব ভাগাভাগির অংশ বাবদ পাওনা ৮২৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বকেয়া রাজস্ব পরিশোধে আইজিডব্লিউগুলোকে একাধিক চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে এতেও সাড়া না পাওয়ায় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কল আদান-প্রদান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় গত ডিসেম্বরে চার প্রতিষ্ঠান মসফাইভটেল, এসএম কমিউনিকেশন, ফার্স্ট কমিউনিকেশন ও সেল টেলিকমের কল আদান-প্রদান বন্ধের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। এর আগে একই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল আরো ছয় প্রতিষ্ঠানকে। এগুলো হলো— ভিশনটেল, বেসটেক টেলিকম, রাতুল টেলিকম, টেলেক্স, কেএওয়াই টেলিকমিউনিকেশন্স ও অ্যাপল গ্লোবালটেল কম লিমিটেড। সব মিলিয়ে ১০টি আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানের কল আদান-প্রদান বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি।
তবে কল আদান-প্রদান পুরোপুরি বন্ধ না করে সীমিত করার বিষয়ে বেশ কয়েকটি আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি বিটিআরসির কাছে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি কল আদান-প্রদানের ওপর এ শর্ত আরোপ করেছে।
বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, আইজিডব্লিউগুলো নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করছে না। এতে বকেয়া অর্থের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। পাওনা আদায়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে আইজিডব্লিউ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৯টি। আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান করছে তারা। আর আইজিডব্লিউর মাধ্যমে আসা কল গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছে অপারেটররা। বিটিআরসির হিসাবে, প্রতিদিন বৈধ পথে আন্তর্জাতিক কল আসছে গড়ে সাড়ে ৪ কোটি মিনিট।

About বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন

একটি উত্তর দিন