কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয় এবং ক্ষতিকারক ধাতু

কম্পিউটারে বিভিন্ন উপাদানে ব্যবহার হওয়া রাসায়নিক পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শে আমাদের স্বাস্থের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর ও মারাত্মক হুমকিস্বরুপ।

১) সীসা : কম্পিউটারে ব্যবহার হওয়া এই উপাদান আমাদের মস্তিষ্ক স্নায়ুকে আক্রান্ত করে। বয়ঃসন্ধিকালে এই উপাদান শিশুদের শরীরের বিভন্ন অর্গানকে বিষাক্ত করতে পারে। যদি কোনো ব্যক্তি নিয়মিতভাবে প্রতিদিন শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে গুঁড়া মীসা বা সূক্ষ্ কনা গ্রহন করে অথবা সীসা গলাধঃকরন করে, তাহলে তার বেশকিছু শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হবে, যেমন মাথা ব্যাথা, বধিরতা, নিদ্রাহীনতা, স্মৃতিভ্রষ্টতা এবং আইকিউ কমে যাবে।

২) পারদ : কম্পিউটারে ব্যবহার হওয়া পারদ মস্তিষ্কের বেশ ক্ষতি করে। গর্ভবতী মায়ের ভ্রুন নষ্টও করতে পারে। এর ফলে শিশু ভুমিষ্ঠ হতে পারে বিকলাঙ্গ, মস্তিষ্ক বিকৃতি বা স্মৃতিসংক্রান্ত সমস্যায়। যদি গর্ভবতী মহিলা বিপুল পরিমান উন্মুক্ত অর্গানিক পারদ নিয়ে নিয়মিতভাবে কাজ করেন, তাহলে ভুমিষ্ঠতব্য শিশুর ব্রেন ড্যামেজ হতে পারে।

৩) ক্যাডমিয়াম : এর প্রভাবে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও জ্বরবোধ হয়, শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে, পেশী ব‌‌্যথা করে, যা ক্যাডমিয়াম ব্লু হিসাবে পরিচিত। শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে ক্যাডমিয়াম গুঁড়া গেলে শ্বাসতন্ত্রে ও কিডনির ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, এমনকি ধমনী কার্যকারিতা হারাতে পারে। ব্যাপক পরিমাণে ক্যাডমিয়াম দেহে ঢুকে পড়লে অনেক সময় তাৎক্ষনিকভাবে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। এতে করে লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যেতে পারে।

৪) বেরিয়াম : বেরিয়ামের বিশেষ যৌগ যেমন বেরিয়াম কার্বনেট, বেরিয়াম ফ্লোরাইড প্রভৃতির প্রভাবে পাকস্থলী সংক্রান্ত সমস্যা যেমন বমি বমি ভাব, অ্যাবডুমিনাল পেইন, ডায়রিয়া ইত্যাদির প্রকোপ দেখা দিতে পারে।

৫) ক্রোমিয়াম : শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে উচ্চমাত্রায় ক্রোমিয়াম শরীরে ঢুকলে নাকে বিরক্তিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়। হাঁচি, ঠান্ডা, কাশি, আলসার, নাকে রক্তক্ষরন, নাকে ক্ষত প্রভৃতি সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ীভাবে উন্মুক্ত ক্রোমিয়ামের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুস ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকে।

৬) তামা : যদিও কপার বা তামা জীবজন্তু ও বৃক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তথাপি অতিরিক্ত কপার গ্রহনের ফলে বাতব্যাধি, মাংসপেশী সংক্রান্ত ব্যথা ইত্যাদি লক্ষন দেখা দিতে পারে।

About বিদ্যুৎ বিশ্বাস

একটি উত্তর দিন