কমপিউটার জগৎ এর প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আবদুল কাদেরের দশম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

কমপিউটার জগৎ এর প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আবদুল কাদেরের দশম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

আজ মাসিক কমপিউটার জগৎ এর প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আবদুল কাদের এর দশম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৩ সালের ৩ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর৷ সে হিসেবে তাঁর যাপিত জীবন ছিল মাত্র ৫৩ বছর ৬ মাস ৩ দিনের৷ তাঁর এই ৫৩ বছরের যাপিত জীবনকে তিনি যে কত সুন্দর ও অনুসরণীয় করে রাখার চেষ্টায় ছিলেন সচেষ্ট, সে বিষয়টি তাঁর মৃত্যুর পর আরো বেশি করে স্পষ্ট হয়ে ওঠে৷

শিক্ষাঃ
মরহুম আবদুল কাদের ১৯৬৪ সালে ঢাকা ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন৷ এইচএসসি পাস করেন ১৯৬৬ সালে ঢাকা কলেজ থেকে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রী নেন যথাক্রমে ১৯৬৮ ও ১৯৭০ সালে৷ তিনি জীবনের বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু প্রশিক্ষণ কোর্স সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করেন৷ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে : ঢাকার বিএমডিসি থেকে পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট কোর্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্ব ব্যাংকের কমপিউটার ম্যানেজমেন্ট কোর্স, ঢাকার সাভারে বিপিএটিসি থেকে উন্নয়ন প্রশাসন কোর্স৷ এছাড়া নিয়েছেন কমপিউটারবিষয়ক ২০টি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামের ওপর প্রশিক্ষণ৷ শিখেছিলেন বেশ কটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজও৷

Professor_Abdul_Kader_Poto_111

কর্মজীবনঃ
মরহুম আবদুল কাদের কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৭২ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে প্রভাষক হিসেবে৷ তখন কলেজটি ছিল বেসরকারি৷ ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর কলেজটি সরকারি করা হয়৷ ১৯৯২ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত তিনি এ কলেজে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷ পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে এ কলেজে ছিলেন ১৯৯৫ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত৷

এরপর সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে পাঠানো হয় সরকারি পটুয়াখালী কলেজে৷ সেখানে কর্মরত ছিলেন ১৯৮৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত৷

সেখান থেকে তাঁকে নবায়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কমপিউটার সেলের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়৷ সেখানে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ১৯৯৭ সালের ২ জুলাই পর্যন্ত৷

এরপর তিনি দায়িত্ব পান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্বাচিত সরকারি কলেজে কমপিউটার কোর্স চালুকরণ ও শিক্ষক প্রশিক্ষ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে৷ সে দায়িত্ব পালন করেন ২০০০ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত৷

২০০০ সালের ১৮ এপ্রিল থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি অসুস্থতার জন্য ছুটি কাটান৷ ছুটি শেষে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷

সর্বশেষ দায়িত্ব হিসেবে তিনি মৃত্যুর আগে পর্যন্ত শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ)হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন৷ অসুস্থতার কারণে সেপ্টেম্বর, ২০০৩-এ তিনি অবসর নেবেন- এমন সিদ্ধান্তের কথা তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন৷

স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জীবনে বেশ কিছু অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছিলেন৷ এগুলোর মধ্যে ছিল : কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশে দীর্ঘ দিন বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল-এ (বিসিসি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কমপিউটারবিষয়ক বেশ কয়েকটি কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং কমপিউটারের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বেশ কয়েকটি সেমিনার ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন৷

তিনি তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক নানাধর্মী লেখালেখির সাথেও জড়িত ছিলেন৷ তার প্রকাশিত প্রবন্ধ ও প্রতিবেদনের সংখ্যা ৩৫টির বেশি৷ ১৯৬৪ সালের দিকে টরেটক্কা নামে বাংলা ভাষায় প্রথম প্রকাশিত বিজ্ঞানবিষয়ক ছোটদের পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হবার গৌরবেও গৌরবান্বিত তিনি৷
তিনি বেশ কিছু দেশ সফর করেন৷ এসব দেশের মধ্যে রয়েছে : যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, নেপাল, ভুটান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, হংকং, মালয়েশিয়া ও আরো কয়েকটি দেশ৷

তবে তার জীবনের সবচেয়ে আলোচিত দিকটি হলো, তিনি ছিলেন এদেশের তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের পথিকৃত্৷ তিনি আজ দেশে এ পরিচয়েই সমধিক পরিচিত৷ মাসিক কমপিউটার জগত্কে হাতিয়ার হিসেবে যথাস্থানে যথার্থভাবে কাজে লাগিয়ে তিনি এদেশের তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যান৷ সে কারণে আজ তাঁর অবর্তমানে দেশের মানুষ তাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধাভরে, একজন আদর্শ অনুসরণীয় মানুষ হিসেবে।

About কমজগৎ ডেস্ক

একটি উত্তর দিন