কমপিউটার জগৎ-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল কাদেরের চতুর্দশ মৃত্যু বার্ষিকী আজ

কমপিউটার জগৎ-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল কাদেরের চতুর্দশ মৃত্যু বার্ষিকী আজ

pro_abdul_kaderআজ সোমবার (৩ জুলাই) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং মাসিক কমপিউটার জগৎ-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল কাদেরের চতুর্দশ মৃত্যু বার্ষিকী। কমপিউটার জগৎ পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিদেহী আত্মার প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।
অধ্যাপক আবদুল কাদেরের জন্ম ঢাকার লালবাগ, নবাবগঞ্জে, ১৯৪৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর। মৃত্যু ২০০৩ সালের ৩ জুলাই। বাবা মরহুম আবদুস সালাম ছিলেন লালবাগের স্থায়ী অধিবাসী। মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান ছিলেন তিনি। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। পড়াশোনা ঢাকার লালবাগের নবাবগঞ্জ, নবাববাগিচা প্রাইমারি স্কুল, ওয়েস্ট অ্যান্ড হাই স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি নেন। তিনি কর্মজীবনে অংশ নেন বেশ কিছু প্রশিক্ষণ কোর্সে : ঢাকার বিএমডিসি থেকে পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট কোর্স, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্বব্যাংকের কমপিউটার ম্যানেজমেন্ট কোর্স, ঢাকার সাভারের বিপিএটিসি থেকে উন্নয়ন প্রশাসন কোর্স। এছাড়া নিয়েছেন কমপিউটার-বিষয়ক ২০টি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামের ওপর প্রশিক্ষণ। শিখেছিলেন বেশ কয়েকটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজও।
কর্মজীবন শুরু ১৯৭২ সালের ১ অক্টোবরে, ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে। ১৯৮৪ সালের ৩১ নভেম্বর কলেজটি সরকারি করা হয়। ১৯৯২ সালের ২ আগস্ট পদোন্নতি পেয়ে হন সহকারী অধ্যাপক। ১৯৯৫ সালের ২ আগস্ট তাকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে বদলি করা হয় পটুয়াখালী সরকারি কলেছে। সেখানে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৫ সালের ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর দায়িত্ব পান নবায়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-পরিচালক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের কমপিউটার সেলের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার। সেখানে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ১৯৯৭ সালের ২ জুলাই পর্যন্ত সময়ে। এরপর দায়িত্ব নেন একই অধিদফতরের নির্বাচিত সরকারি কলেজে কমপিউটার কোর্স চালুকরণ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে। ২০০০ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এরপর কিছুদিন ছুটি কাটিয়ে আবার কাজে যোগ দিয়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর কয়েক মাস আগে তিনি ৩ জুলাই ইন্তেকাল করেন।
কিন্তু তার এসব কর্মকান্ডের সবকিছুকে ছাপিয়ে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠেছিল কমপিউটার জগৎ-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ হিসেবে। ১৯৯১ সালের মে মাসে তিনি মাসিক কমপিউটার জগৎ প্রকাশনা শুরু করেন মূলত তথ্যপ্রযুক্তিসমৃদ্ধ এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকল্প মাথায় রেখে। ‘জনগণের হাতে কমপিউটার চাই’ স্লোগান নিয়ে তিনি শুরু করেন এই স্বপ্নকল্প পূরণের অভিযাত্রা। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি বাংলাদেশে সূচনা করেন অন্যরকম এক তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের, যে আন্দোলনের তিনি ছিলেন মধ্যমণি। আর সেই সূত্রেই তার হয়ে ওঠা এ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ।
অধ্যাপক আবদুল কাদের জাতিকে ‘কলসেন্টার’, ‘ডাটাঅ্যান্ট্রি’, ‘সফটওয়্যার উন্নয়ন’সহ বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করেছেন। প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন। আজ যে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা শোনা যাচ্ছে এর অগ্রণী ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে কমপিউটার জগৎ-এর প্রথম সংখ্যা (১৯৯১ মে) প্রকাশিত হয়েছিল একটি স্লোগানকে কেন্দ্র করে- ‘জনগণের হাতে কমপিউটার চাই’। তিনি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতেন দেশের দারিদ্র্য বিমোচন তথা অর্থনীতির উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। জনগণ তথ্যপ্রযুক্তিতে যত বেশি সংশ্লিষ্ট হবে, ততই দেশের অর্থনৈতিক মঙ্গল হবে। অধ্যাপক কাদের ছিলেন নিভৃতচারী মানুষ। তার স্বভাব ছিল অন্তর্মুখী। এ অন্তর্মুখী মানুষ কী করে সামাজিক আন্দোলনের ভিত তৈরি করেছেন, তা বিস্ময়ের ব্যাপার। শুধু তাই নয়, তিনি যে আন্দোলনের সূচনা করেছেন তার ঢেউ এখনও প্রবাহিত হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন