ই-কমার্সে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

ই-কমার্সে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

 ই-কমার্স বাংলাদেশে এখন দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে এখন তিন কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে। এসব ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বেশির ভাগই তরুণ-তরুণী। এরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং ই-কমার্স সম্পর্কে খুবই আগ্রহী। অনেক তরুণ-তরুণী ৯টা-৫টা চাকরি না করে তাদের নিজেদের ই-কমার্স কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের অনেকেই সফল হচ্ছে। দেশে বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে কয়েক শ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়াও প্রায় দুই হাজার প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা করছে।’

দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, এবারের ঈদে অনলাইন ভিত্তিক বাজার ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এসব অনলাইন কেনাকাটার ৬৫% ফেসবুকে সম্পন্ন হয়েছে। গত বছরের ঈদের অনলাইনে প্রায় ১১ কোটি টাকার মতো লেনদেন হয়েছিল। অনলাইনে কেনাকাটার ৭৫% হয় ঢাকায় আর বাকীটা চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, বগুড়াসহ অন্যান্য এলাকায়। এ থেকেই বোঝা যায় যে, দেশে ই-কমার্সের ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল।

ইউরোপে বিভিন্ন দেশে এখন ই-কমার্সের জয়জয়কার। সেখানে ই-কমার্সের প্রসার এত দ্রুত হারে বাড়ছে যে প্রচলিত পদ্ধতির দোকানগুলোর অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশে ই-কমার্স সেক্টরের ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল।

১৯৭১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ই-কমার্স বৃদ্ধি পেয়েছে আনুমানিক ৬%। ১৯৭১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এশিয়ার অন্যান্য দেশের সাথে তুলনার করলে দেখা যাবে যে, বাংলাদেশে ই-কমার্স বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.৭%, পাকিস্তানে বৃদ্ধি পেয়েছে ২৮%, ইন্ডিয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে, ৪০% মানুষ। সে তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।

 

url

ই-কমার্সের প্রকারভেদ:-

ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (B2B): ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। ৮০ শতাংশের (৮০%) মত ইলেকট্রনিক কমার্স ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা প্রকার এর অন্তর্ভুক্ত।

ব্যবসা-থেকে-গ্রাহক (B2C): ব্যবসা-থেকে-গ্রাহক ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকের মধ্যে। এই প্রকারে দ্বিতীয় সর্বাপেক্ষা বেশি ইলেকট্রনিক বানিজ্য সম্পাদন হয়ে থাকে।

ব্যবসা-থেকে-সরকার (B2G): ব্যবসা-থেকে-সরকার ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় খাতের মধ্যে। এটি সাধারনত ব্যবহৃত হয়ে থাকে রাষ্ট্রীয় কেনা/বেচা, লাইসেন্স সংক্রান্ত কার্যাবলী, কর প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে।

গ্রাহক-থেকে-গ্রাহক (C2C): গ্রাহক-থেকে-গ্রাহক ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় একাধিক ব্যক্তি ও গ্রাহকের মধ্যে। ইলেকট্রনিক বাজার ও অনলাইন নিলাম এর মাধ্যমে সাধারণত এই ধরনের বানিজ্য সম্পাদিত হয়।

মোবাইল কমার্স (m-commerce): মোবাইল কমার্স ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় তারবিহীন প্রযুক্তি যেমন মোবাইল হ্যান্ডসেট বা পারসোনাল ডিজিটাল অ্যাসিস্টেন্ট (PDA) এর মাধ্যমে। তারবিহীন যন্ত্রের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের গতি ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই ধরনের বানিজ্য জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

বাংলাদেশে B2B ব্যবসার প্রসার বেশি। এর চাহিদা দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে।

বাংলাদেশের ই-কমার্স এখন শুধু দেশে সীমাবন্ধ না । দেশের বাহিরেরও আমাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গুলোর সাথে যোগাযোগ করে দেখা যায়, বাহিরের দেশে থেকে শতকরা ৫ ভাগ মানুষ এখন বাহিরে থেকে অর্ডার করে থাকে। কিন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় পণ্যে ডেলিভারী দিতে পারছে না । বাংলাদেশ থেকে পৌঁছাতে গেলে ডেলিভারী খরচ পরে প্রচুর।

দেশে ই-কমার্স ওয়েবসাইটের পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু এখনও ততোটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি অনলাইনে কেনাকাটার এই মাধ্যমটি। অনলাইন পেমেন্ট, আর্থিক নিরাপত্তা, বিশ্বস্থতার অভাবসহ নানা কারণে এখনও মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করতে ততোটা আগ্রহী নয়।  কিন্ত প্রয়োজনীয় ডেলিভারী ব্যবস্থা না থাকায়।

উল্লেখ্য এই মাসের ২৫ থেকে ২৭ তারিখ তিন দিন ব্যাপী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ই-কমার্স মেলা এ মেলা আয়োজন করছে কমপিউটার জগৎ।

 

 

About অঞ্জন দেব

একটি উত্তর দিন