ইন্টারনেট ব্যবহারে ভারত, পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

ইন্টারনেট ব্যবহারে ভারত, পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইন্টারনেট ব্যবহারে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বিশ্বের উদীয়মান ও উন্নয়নশীল ৩২টি দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের ওপর পরিচালিত এ জরিপ গত ১৯ মার্চ প্রকাশিত হয়। এসব দেশের প্রাপ্তবয়স্ক ৩৬ হাজার ৬১৯ জন ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। জরিপে বাংলাদেশের এক হাজার মানুষের মতামত স্থান পেয়েছে।
পিউ রিসার্চের জরিপে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের ৫৯ শতাংশ ইন্টারনেট গ্রাহক প্রতিদিন অন্তত একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এদিক থেকে ভারতের (৫৪ শতাংশ) চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। এদিকে বাংলাদেশের ৭৬ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। অর্থাৎ ২৪ শতাংশ মানুষের কোনো মোবাইল ফোন নেই। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের মাত্র ৬ শতাংশের নিজস্ব স্মার্টফোন আছে। আবার দেশের ১১ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিংবা তাদের স্মার্টফোন আছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে আছে পাকিস্তান (৮ শতাংশ)। কেন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন- এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তরদাতাদের ৬৯ শতাংশ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ, ৫৬ শতাংশ রাজনৈতিক খবরাখবর এবং ২৬ শতাংশ সরকারি সেবার তথ্য জানতে এটি ব্যবহার করেন বলে জানান। জরিপ বলছে, ৬২ শতাংশ ব্যবহারকারী চাকরি খুঁজতে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এ ক্ষেত্রেও ভারতের (৫৫ শতাংশ) চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে। বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক ইন্টারনেট গ্রাহকদের ৭৬ শতাংশই সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে। এ ক্ষেত্রেও ভারতের (৬৫ শতাংশ) চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বেশি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করেন ফিলিপাইনের মানুষ, ৯৩ শতাংশ। শিক্ষা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, অর্থনীতি, রাজনীতি ও নৈতিকতা- এই পাঁচ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহার কেমন প্রভাব ফেলে- জানতে চাওয়া হয়েছিল জরিপে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের কাছে। এ ক্ষেত্রে দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৫৬ শতাংশ শিক্ষায়, ৪৮ শতাংশ ব্যক্তিগত সম্পর্কে, ৫০ শতাংশ অর্থনীতিতে, ৩৮ শতাংশ রাজনীতিতে এবং ২৯ শতাংশ নৈতিকতায় ইন্টারনেট ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন। পিউ রিসার্চ বলছে, বাংলাদেশের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর ৬৫ শতাংশই মোবাইল ফোনে ছবি তোলা কিংবা ভিডিও ধারণ করে থাকেন। ভেনিজুয়েলা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে (৭৫ শতাংশ)। বিভিন্ন দেশের মানুষ খুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠানো কিংবা চ্যাট করার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন বেশি ব্যবহার করলেও বাংলাদেশে এ হার কম (৬৭ শতাংশ)। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে ফিলিপাইন (৯৮ শতাংশ)। জরিপ বলছে, দেশের ৬ শতাংশ মানুষের নিজের স্মার্টফোন আছে। বাংলাদেশের চেয়েও পিছিয়ে আছে পাকিস্তান (৪ শতাংশ) ও উগান্ডা (৫ শতাংশ)। উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যে বেশি নিজস্ব স্মার্টফোন ব্যবহার করে চিলির মানুষ, ৫৮ শতাংশ। আবার বাংলাদেশের ৭৬ শতাংশ মানুষের যেখানে নিজস্ব মোবাইল ফোন আছে, সেখানে পাকিস্তানের ৪৭ শতাংশ মানুষের নিজের মোবাইল ফোন আছে। পিউ রিসার্চের তথ্যমতে, দেশে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট বেশি ব্যবহার করেন ১৮-৩৫ বছর বয়সী ব্যক্তিরা। এ হার ১৫ শতাংশ। এর বেশি বয়সী গ্রাহক ৬ শতাংশ। ঘরে বসে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন মাত্র ৮ শতাংশ মানুষ। মাধ্যমিকের চেয়ে বেশি পড়াশোনা করেছেন, এমন মানুষই বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, ২৪ শতাংশ। এর চেয়ে কম পড়াশোনা করেছেন কিন্তু ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এমন মানুষ ৫ শতাংশ। ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারেন এমন ১৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। আর ইংরেজি না জানার পরও ৫ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবে দেশে ৪ কোটি ২৭ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। অন্যদিকে ১২ কোটি ১৮ লাখ মানুষের মোবাইল ফোন সংযোগ রয়েছে। আর মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে দেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করে।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন