আসুন শীতার্ত মানুষের পাশে দাড়াই আমরা একসাথে

আসুন শীতার্ত মানুষের পাশে দাড়াই আমরা একসাথে

শীতার্ত মানুষ, শৈত্যপ্রবাহ শব্দগুলো দেখছি প্রতিদিন। দেখছি প্রতিদিন সংবাদপত্রে, টিভিতে এই তীব্র শৈত্যপ্রবাহে শিশু, বৃদ্ধ সহ অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। প্রতিদিন ঘর থেকে বের হলে শীতের ঝাঁকুনিটা খেলে উপলব্ধি করছি কি প্রবল শীত পরেছে, কত মানুষ কষ্টে আছে।তখন মনে হয় এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো দরকার।তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়ানো দরকার।কিন্তু ব্যস্ত দিনশেষে বাসায় ফিরে কম্বলের ভিতরে ঢুকে গেলে ভুলে যাচ্ছি সকালের উপলব্ধিটা, কিন্তু শীতার্ত ঐ মানুষগুলো কিন্তু তখনো আপনার অপেক্ষায় আছে।আশায় আছে শহরের এই মানুষগুলো নিশ্চয় তাদের পাশে এসে দাঁড়াবে, তার শিশুটিকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাবে।যেই মানুষগুলো ঠিক মত দুই বেলা খাবার যোগার করতে পারে না, শীতবস্ত্র কেনার মত যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের পাশে নিশ্চয় আমরা এসে দাঁড়াবো।আর এই দিকে আমরা নিশ্চুপ বসে দেখে যাচ্ছি তাদের এই দুরভোগ।অনেকে হয়ত এরই মধ্যে শীতার্ত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে গিয়েছে, অনেকে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সময়ের জন্য এগিয়ে যেতে পারছে না, আর অনেকে আমরা শুধুই বসে দেখে যাচ্ছি।

তাই আমরা কমজগত পরিবার থেকে এই ছোটো একটা উদ্যোগ নিয়েছি,  এবার শীতে যেসব নিঃস্ব মানুষ ঠাণ্ডায় কষ্ট পাবে তাদের পাশে আমরা সাধ্যমত পাশে থাকবো।আমরা আমাদের এই কার্যক্রম পরিচালনা করব কম্পিউটার জগত এর ফ্যান দের পক্ষ থেকে।কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং প্রচারাভিযজানা। আমরা বস্ত্র সংগ্রহ করছি এবং তা পৌঁছে দিব শীতার্ত মানুষগুলোর কাছে। আপনার আমার বাতিল হয়ে যাওয়া একটা সুয়েটার বা জ্যাকেট, একটা নষ্ট হয়ে যাওয়া কম্বল বা চাদরই হতে পারে তাদের কাছে মহামূল্যবান বস্তু, শীতের হিমের সাথে লড়াই করার অস্ত্র।

আমরা আশা করছি নতুন বছরের প্রথম দিনটি আমরা এই শীতার্ত মানুষগুলোর সাথে কাটাবো ,কম্পিউটার জগত এর সকল ফ্যান দের সাথে করে নিয়ে। আমরা তাদের কাছে পৌঁছে দিব তাদের প্রতি অনেক মানুষের ভালোবাসা। অনেকেই হয়ত বলবেন আমরা প্রচার করছি, জি আমরাও বলছি আমরা প্রচার করছি।, আমরা প্রচার করছি আমরা একটি ছোট প্রতিষ্ঠান হয়েও, আমরা অনেক মানুষের ভালোবাসা সাথে নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছি শীতার্ত মানুষগুলোর কাছে, আমাদের সাধ্যমত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি তাদের প্রতি। আমরা বিশ্বাস করি এ দেশের বিত্তবান প্রতিটি মানুষ তাদের প্রতিদিনের বাড়তি খরচ থেকে ১টি করে টাকা দিলেও এই শীতার্ত মানুষগুলো আর বস্ত্রহীন থাকে না। এ দেশের সরকারি, বেসরকারি ছোট বড় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে আমাদেরকে আর শুনতে হত না তীব্র শীতে শিশু মারা যাচ্ছে । আমাদের এই প্রচারনা সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষকে জানিয়ে দেয়ার জন্য, আহবান করার জন্য, আসুন আমরা একসাথে আমাদের মানবিক উষ্ণতা দিয়ে শীতার্ত মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখি।তাই আসুন আমরা এই শীতে শীতার্ত মানুষগুলোর পাশে দাড়াই । পারি আর না পারি অন্তত চেষ্টা করি ।

***********************************************************************************************************************

যেভাবে শীতার্ত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবেন আপনি :

১. আমরা ডিসেম্বরএর ৩০ তারিখ পর্যন্ত সবার পর্যন্ত সবার কাছ থেকে নতুন অথবা ব্যবহার উপযোগী সোয়েটার,কম্বল অথবা যেকোনো শীতবস্ত্র সংগ্রহ করবো ।আমরা কোনো অর্থ সংগ্রহ করছি না।আপনারা আপনাদের শীতবস্ত্র পাঠাতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, প্রয়োজনে আমরা আপনার বাসা থেকে শীতবস্ত্র সংগ্রহ করব।

২. আমাদের প্রচারনায় অংশগ্রহন করে।( আমাদের ফেসবুকের এই পেজে এসে আপনার নাম entry করে যান এবং অংশগ্রহন করুন আমাদের সাথে)।

বিপুল পরিমান মানুষের অংশগ্রহনের মাধ্যমে আমরা সমাজের বিত্তবান মানুষ, সরকারি – বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান এর কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই যে, আজও আমরা একতাবদ্ধ হয়ে মানুষের পাশে দাড়াতে পারি।আমরা তাদের কাছে আমাদের আহবান পৌঁছে দিতে চাই যে- “আসুন শীতার্ত মানুষের পাশে দাড়াই আমরা একসাথে। “আমাদের এই প্রচারাভিযানকে সফল করতে ও বেগবান করতে আপনার নাম এন্ট্রি করে আমাদের সাথে যোগদান করতে সবাইকে আহবান জানাচ্ছি।

নাম এন্ট্রি করতে ও বিস্তারিত জানতে ও আমাদের সাথে যোগদান করতে এই পেজে আসুনঃ শীতার্ত মানুষের জন্য

 

আমাদের ইভেন্ট পেজঃ এই ঠিকানায়

কাদের কাছে আপনারা সোয়েটার, কম্বল পাঠাবেন এবং যে কোন কিছু বিস্তারিত জানতে পারবেন-চাইলে প্রশ্নবানে জর্জরিত করতে পারবেন, এছাড়া যারা আমাদের সাথে শ্রম দিয়ে কাজ করতে চান তারাও যোগাযোগ করুন :

১।০১৮১৯২৮৪৯৩৯

২।০১৬৭২৭৯৬৭৯৩

************************************************************************************************************************

গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে প্রবল শৈত্যপ্রবাহ , মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ।ছাউনিহীন, বস্ত্রহীন মানুষ একটুকরো গরম কপড়ের জন্য ছুটছে হন্যে হয়ে। প্রচণ্ড শীতে হাস্যোজ্জ্বল শিশুমুখগুলো থেকে হারিয়ে গেছে হাসি। এই যখন অবস্থা এর উল্টো চিত্রও আছে। এই বাংলাদেশেই। শীত উপভোগে ভ্রমণ, পার্বণ কত কত আয়োজন। আমরা তাদের সে আনন্দ-উৎসব বন্ধ করতে বলছি না বা তাদের উৎসবের সঙ্গী করতেও বলছি না। শুধু বলতে চাই – আপনাদের উৎসব দেখে তাদের যেন কান্না না পায় সেই ব্যবস্থাটা তো করতে পারেন।

তীব্র এই শীতে মা তার সন্তানকে উষ্ণতায় জড়িয়ে ধরে ওম দিবে কিংবা স্ত্রী তার স্বামীকে উষ্ণ চাদরে জড়িয়ে কাপুনির তীব্রতা বুঝতে দিবে না । যারা ভালো আছে তাদের জন্য শীত মানে নতুন কিছু নয় ঋতুর পরিবর্তন মাত্র কিংবা বিনোদন ও উৎসব পর্ব । কিন্তু বাঙলাদেশের যারা ভালো থাকে না তাদের জন্য ঋতুর এই পরিবর্তন শীত হচ্ছে ঠাণ্ডার সাথে যুদ্ধ করা । যাদের কাছে ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাদ্য জোগাড় করাই মূল বেঁচে থাকা সেখানে শীত থেকে বাঁচার কোন অস্ত্র তাদের নেই । তাই বাঙলাদেশের সেই সব দরিদ্র, নিঃস্ব মানুষগুলো শীতে শারীরিক কষ্ট পায়- যা আমরা দেখি পথে চলতে, টিভির পর্দায় কিংবা পত্রিকায় । বাঙলাদেশের নিঃস্ব এই মানুষগুলোর কষ্ট শুধু দেখলে আর জানলেই হবে ? তাদের পাশে কি দাঁড়াবো না ? অবশ্যই দাঁড়াবো আমরা সবাই মানুষ । বাঙলাদেশের এই সব নিঃস্ব মানুষগুলোর দুঃখ কষ্ট আমাদের শুধু কাঁদবে না বরং জাগাবে, চেতনার দুয়ার খুলে দিবে । যদিও এই নিঃস্ব মানুষগুলো বাঙলাদেশেরই নাগরিক ।আপনাদের সকলের অংশগ্রহন একান্তভাবে কামনা করছি।

About blogger - ব্লগার

একটি উত্তর দিন