আল্লাহ্‌র অপার রহমতের বরকতময় জমজম কূপ ও তার ইতিহাসঃ ২য় পর্ব!
আল্লাহ্‌র অপার রহমতের বরকতময় জমজম কূপ ও তার ইতিহাসঃ ২য় পর্ব!

আল্লাহ্‌র অপার রহমতের বরকতময় জমজম কূপ ও তার ইতিহাসঃ ২য় পর্ব!

এটি একটি ধারাবাহিক পোস্ট। আমার এই পোস্ট এর প্রথম পর্ব (আল্লাহ্‌র অপার রহমতের বরকতময় জমজম কূপ ও তার ইতিহাসঃ ১ম পর্ব!)  যারা পড়েননি এখানে ক্লিক করে পড়ে নিতে পারেন।  এই পোস্টে আমি জমজম কূপ -এর ইতিহাস এবং জমজম এর পানির বরকত ও ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। পৃথিবীর সকল পানির চেয়ে উত্তম জমজম কূপের পানি ।

ঐতিহাসিক আজরিক মন্তব্য করেন, হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর পরে অনেক গোত্র গোষ্টি ও সম্প্রদায় মক্কায় বসবাস শুরু করে। তারা জমজম কূপের দেখাশোনা করতো। ঠিক ঐভাবেই জুবহাম গোষ্টির লোকেরা জমজম কূপের দেখাশুনার দায়িত্ব লাভ করে। জুবহাম গোত্রের লোকেরা হযরত বিবি হাজেরা (আ.) এর সাথে একটি চুক্তিসাপেক্ষে জমজম কূপের পানি ব্যাবহার করতো।

ইতিহাসের পালাবদলে আস্তে আস্তে তারা কাবাঘরের পবিত্র মালামাল চুরি ডাকাতি করা শুরু করলো। এবং তারা বিভিন্য রকম পাপকার্যে লিপ্ত হতে শুরু করলো। এর জন্যে আল্লাহ্‌র হুকুমে এক সময় জমজম কূপের পানির উৎস শুখিয়ে গেলো। পরিচর্যার অভাবে একটি সময় জমজম কূপের সেই জায়গা ভরাট হয়ে গেলো। মানুষ এই জমজম কূপের বরকত, রহমত ও কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়ে গেলো। খৃস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীর শুরুর দিকে হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর বংশধরের মধ্যে একজন দৃঢ়চেতা, আত্মপ্রত্যয়ী পুরুষের নেতৃত্বে কাবাঘরের দেখাশুনা ও পরিচালনার দায়িত্ব কুরাইশরা ফিরে পায়। তাদের চতুর্দশ পুরুষ আবদুল মুত্তালিব জন্মগ্রহণ করলেন। যিনি ছিলেন হজরত মুহাম্মদ (স:) এর দাদাজান। তখন আবদুল মুত্তালিব জমজম কূপ অনুসন্ধানে আগ্রহী ও উদ্যোগী হয়ে উঠেন এবং তার এক পুত্র যায়েদকে সঙ্গে নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যান। অতপর তিনি এক রাতে স্বপ্নের মাধ্যমে জমজম কূপের চিহ্ন পেয়ে যান, এবং জমজম কূপটি দেখতে পান।

স্বপ্নে দেখা চিহ্ন অনুযায়ী আব্দুল মোত্তালিব তার পুত্র হারেসকে সঙ্গে নিয়ে ( জমজম ) কূপ খনন শুরু করেন এবং সত্যি সত্যি জমজম কূপ পেয়ে যান । সে সময় থেকে আবার মানুষ এ কূপের ( জমজম ) পরিচর্যা শুরু করে। জমজম কূপ পৃথিবীর সবচাইতে পবিত্রতম, বরকতময়, রমহমতের কূপ ব পানির উৎস । এই জমজম কূপের পানি পৃথিবীর সর্বোত্তম ও সুস্বাদু পানি। বিভিন্ন হাদীসে এ পানির কল্যাণ ও ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক হাদীসে বর্ননা করা হয়েছে, জমজমের পানি যেই নিয়তে (নেক উদ্দেশ্যে) পান করা হোক তা পুর্ন হবে। জমজমের অশেষ কল্যাণ, বরকত ও ফজিলতের কথা অনেক হাদীসে বর্নিত রয়েছে। হজরত আবুবক্কর সিদ্দিক (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) জমজম এর পানি সম্পর্কে বলেছেন, যে তা হচ্ছে বরকতময় এবং তৃপ্তিদায়ক। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রা:)  বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, পৃথিবীর সর্বোত্তম পানি হচ্ছে জমজম এর পানি।

http://www.central-mosque.com/fiqh/zam_Wadi-Ibrahim-catchment2.jpg

রাসূল (সা.) নিজ হাতে জমজম এর পানি উঠাতেন এবং পান করতেন। জমজম এর পানি শুধু তৃষ্ণাই মিটায় না, এর মধ্যে রয়েছে ক্ষুধা দূর যোগ্যতা। এ জমজম এর পানি মানুষের শরীরের স্বস্তিও প্রবৃদ্ধি করে এবং হজমে সহাক হিসেবেও কাজ করে। এছাড়াও জমজম এর পানির বাহ্যিক বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ পানি পরিপুর্ণ জীবাণু মুক্ত। জমজম কূপের আরো একটি অন্যতম অসাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এ থেকে লাখ লাখ লিটার পানি উঠালেও এর পানিতে কখনো স্বল্পতা বা শূন্যতা দেখা যায় না। জমজম কূপ হচ্ছে মহান আল্লাহ্‌ তায়ালারই একটি কুদরতি নিদর্শন। হজ করতে যাওয়া হাজীগণ প্রতি বছর লাখ লাখ টন পানি পান করেন এবং সাথে নিয়েও আসেন। কিন্তু কোনদিন পানি ফুরিয়ে যায়নি বা শুখিয়ে যায়নি । একথা একেবারেই স্পষ্ট সত্য যে, জমজম কূপ পৃথিবীর মানুষের জন্যে বিশেষ করে হাজীদের জন্য আল্লাহর এক অপূর্ব নিয়ামত, অশেষ রহমত ও বরকতময় উপহার।

About আহমাদুল্লাহ মুক্ত

আহমাদুল্লাহ মুক্ত

৪ comments

  1. imtiyaz Bin Ahmed

    এমন তথ্য বহুল আর্টিকেল আরও দেখতে চাই । অশম্ভব ভালো লাগলো ভাই । আপনার পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় থাকলাম ।

একটি উত্তর দিন