আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়াতে হবে -সিটিও ফোরামের সেমিনারে বক্তারা

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়াতে হবে -সিটিও ফোরামের সেমিনারে বক্তারা


ব্যাংকার্স সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ ও অভয়া টেকনোলজি যৌথভাবে ৬ই মার্চ ঢাকার একটি হোটেলে ‘Faster Collaboration! Smarter Decision! Better Business for the Industry’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে। বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে ব্যাংকগুলো কী করে প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠতে পারে, প্রযুক্তি কী করে আর্থিক লেনদেনে সহজ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। এছাড়া অফিসে বসেই বিভিন্ন এজেন্ট কিংবা লোকাল জোন এমনকি দেশের বাইরে অফিসিয়াল কার্যক্রমে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় সে বিষয়ে অভয়া টেকনোলজির কর্মকর্তারা একটি গঠনমূলক উপস্থাপনা তুলে ধরেন সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের সামনে।
‘ফাস্টার কোলাবরেশন! স্মার্টার ডিসিশন! বেটার বিজনেস ফর দ্যা ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিসিটিও ফোরামের প্রেসিডেন্ট তপন কান্তি সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী নজরুল ইসলাম খান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর নাজনীন সুলতানা ও বিভাগীয় প্রধান, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ কায়কোবাদ।
বিসিটিও ফোরামের প্রেসিডেন্ট জনাব তপন কান্তি সরকার সেমিনারের সূচনা বক্তব্যে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “পৃথিবীর সব দেশে যখন অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয় তখন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশেও, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের cost of fund কমাতে আর return on Investment বাড়াতে নেমেছে প্রতিযোগীতায়। দেশের এ অবস্থায় কম্পিউটার প্রযুক্তিবিদদের বিরাট ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বলে যোগ করেন তপন কান্তি সরকার।
এ প্রসঙ্গে অভয়া টেকনোলজির সঞ্জয় আহুজা, এমডি হায়াত, অরুণ শেঠী ও দর্শন ওয়াতওয়ে একটি আলোচনা তুলে ধরেন। সঞ্জয় আহুজা অভয়া টেকনোলজির কি নোটসগুলো তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশের অনলাইন ব্যবহারকারীদের প্রায় ৩০ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। প্রায় প্রত্যেকেই ব্যবহার করেন মোবাইল ফোন। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাও কম নয় বলে জানান আহুজা। তিনি বলেন, অথচ মোবাইল ফোনের অনেক অ্যাপ্লিকেশনই ঠিকমত ব্যবহার করতে পারেন না। উদাহরণ হিসেবে তিনি জিপিআরএসের কথা তুলে ধরেন।
আহুজা বলেন, “এখন সময় আর্থিক খাতগুলো প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তুলা। এটি অনেকভাবেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে গতিশীল করবে।” আহুজা একই সঙ্গে তার কোম্পানি অভয়া টেকনোলজি কি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কনটাক্ট সেন্টার, নেটওয়ার্ক সলিউশিনসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে তার সার সংক্ষেপ তুলে ধরেন।
সেমিনারের বিশেষ অতিথি প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, অভয়ার উপস্থাপনা বেশ চমৎকার। মনে হচ্ছে এটি বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বুদ্ধ করবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে। একই সঙ্গে তিনি অভয়া টেকনোলজিতে বাংলাদেশের আইসিটি শিক্ষার্থীদের চাকুরির ক্ষেত্র সৃষ্টির কথা বিবেচনা করার কথা ভেবে দেখতে আহ্বান জানান। এ প্রসঙ্গে কায়কোবাদ বলেন, বাংলাদেশে অনেক মেধাবী আছে। যাদেরকে এ খাতে সুযোগ করে দেয়া যেতে পারে। তিনি বাংলাদেশের চার ছাত্রের গুগলে চাকরি করার কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি প্রমাণ করছে এখানে অনেক মেধাবী রয়েছে।
সেমিনারের আরেক বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা ব্যাংকগুলোতে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “প্রযুক্তির পণ্যগুলো প্রতিনিয়তই পরিবর্তন হচ্ছে। আপগ্রেড হচ্ছে। আজ সফটওয়্যার ব্যবহার হচ্ছে কিছুদিন দেখা যাচ্ছে সেটির নতুন ভার্সন কিংবা আপগ্রেড আসছে। এতে তার ব্যবহার পরিবর্তন হচ্ছে। সুযোগও বাড়ছে। আর তাই উচিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তির সুষ্ঠু ব্যবহার বাড়ানো।”
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নজরুল ইসলাম খান বলেন, “বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে সরকারের পশাপাশি কম্পিউটার প্রফেশনালদের ভুমিকা রাখতে হবে। -আইটি রিপোর্ট
এক প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বিসিটিও ফোরামের প্রেসিডেন্ট তপন কান্তি সরকারের। তপন কান্তি জানান, এর আগে আরও তিনবার বিসিটিও ফোরাম এ ধরণের সেমিনারের আয়োজন করে। এটি চতুর্থ। তপন কান্তির কাছে জানতে চাওয়া হয় ‘ফাস্টার কোলাবরেশন! স্মার্টার ডিসিশন! বেটার বিজনেস ফর দ্যা ইন্ডাস্ট্রি’ দিয়ে মূলত কি বুঝাতে চেয়েছেন?
তপন কান্তি বলেন, আসলে আমরা বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটা তথ্যই দিতে চেয়েছি। আর সেটি হল যখন অর্থনৈতিক ক্রাইসিস তৈরি হয় তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আইসিটি বেইজড ওয়ার্ক শুরু করেছে। টেকনোলজির দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “মার্কেটে ইন্ডিভিজ্যুয়াল কম্পিটিটিভ হয়ে কোন লাভ নেই। আর্থিক খাতকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে কোলাবরেটিভ কম্পিটিটিভ গড়ে তুলতে হবে। তপন কান্তি সরকার ব্যাংকার্স সিটিও ফোরামের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরবর্তীতে এ ফোরাম থেকে কি ধরণের আয়োজন থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সমপ্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেটওয়ার্কিংয়ের নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচিত। খুব শিগগিরই আমরা প্রযুক্তি নিরাপত্তার ওপর আরও একটি সেমিনারের আয়োজন করবো।
কবে নাগাদ?
এটি এপ্রিলের মধ্যে আয়োজন করা হবে।
বিসিটিও ফোরাম সম্পর্কে বলুন।
বিসিটিও ব্যাংকগুলোতে টেকনোলজি সাপোর্ট দিয়ে আসছে যারা তাদেরকে নিয়ে গড়ে তুলা একটি ফোরাম। তবে ভবিষ্যতে এখানে অন্যান্য
প্রতিষ্ঠানের আইসিটি ডিপার্টমেন্টের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভূক্ত করা হবে।
এটি অরাজনৈতিক অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান।
আপনাকে ধন্যবাদ।
(সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)

About mehdi

একটি উত্তর দিন