আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী জাহিদের পাশে বেসিস

আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী জাহিদের পাশে বেসিস

বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী বর্ষসেরা ফ্রিল্যান্সার পুরস্কারপ্রাপ্ত সফল আইটি প্রফেশনালস জাহিদুল ইসলামের চিকিৎসা সম্পর্কিত সকল খরচ বহন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। এছাড়া জাহিদসহ শারিরিকভাবে অক্ষম তরুণ-তরুণীদের সহায়তার জন্য ‘বেসিস ওয়েলফেয়ার ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রশিক্ষিত করার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

বৃহস্পতিবার জাহিদের উন্নত চিকিৎসা সহায়তা ও বেসিস ওয়েলফেয়ার ফান্ড সম্পর্কিত বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান বেসিস সভাপতি শামীম আহসান। দুপরে বেসিস মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসিসের জোষ্ঠ সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান, মহাসচিব উত্তম কুমাল পল, নির্বাহী পরিচালক সামি আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, পরিচালক সামিরা জুবেরি হিমিকা, আরিফুল হাসান অপুসহ অসুস্থ জাহিদুল ইসলাম।

এসময় বেসিস সভাপতি বলেন, আমরা যারা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টর, বেসিস ও আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছি তারা অনেকেই জাাহিদুল ইসলামকে চিনি। তিনি তার স্বীয় দক্ষতা ও চেষ্টার ফলে ২০১৩ সালে ঢাকা জেলা ক্যাটাগরিতে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন। পরিবারের বোঝা হয়ে না থেকে সকল প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন। তিনি বাংলাদেশের শারিরিক প্রতিবন্ধি মানুষের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বাবা-মার অসীম ত্যাগ ও জাহিদের মেধা ও শ্রম যখন তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো, ঠিক তখনই তিনি ‘ঝঈঙখওঙঝওঝ’ (মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে যাওয়া) রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বসে ক¤িপউটার ব্যবহার করার ফলে জাহিদের মেরুদন্ড ৫৫ ডিগ্রী বাঁকা হয়ে গেছে। ফলে এখন পিঠে ও ঘাড়ে প্রচন্ড ব্যাথা এবং বাঁকা মেরুদন্ড হার্টে আঘাত করছে। এতে প্রচন্ড বুকে ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তিনি এখন ১০ মিনিটও বসে থাকতে পারেন না। বিষয়টি জানার পর আমরা বেসিসের পক্ষ থেকে তার সুচিকিৎসার জন্য পদক্ষেপ নিই। দ্রুততার সঙ্গে আমাদের সকল বেসিস সদস্যদেরকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করি। সদস্যদের পাশাপাশি বেসিস কার্যনির্বাহী কমিটিও বড় অংকের অর্থ জমা দিয়েছে।

শামীম আহসান আরও বলেন, শুধু তার চিকিৎসার খরচ নয়, তার প্লেন ভাড়া, পাসপোর্ট, ভিসা এমনকি দেশে ফিরে আসার পর যে ধরণের খরচ রয়েছে সেটিও বেসিসের পক্ষ থেকে বহন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলবো।

বেসিসের জোষ্ঠ সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, বেসিস সফটওয়্যার ও আইটিএস ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি আইটি প্রফেশনালসদের সঙ্গে সবসময় আছে। শারিরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা স্বত্বেও জাহিদ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের একজন উজ্জল দৃষ্ঠান্ত। বেসিস শুধু টাকা দিয়ে তাকে সাহায্য করাকে বড় মনে করে না। তাই জাহিদকে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়া হবে। সুস্থ করে তোলার পাশাপশি তার উজ্জল ভবিষৎ এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে সে সবাইকে উৎসাহিত করতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, শুধু জাহিদ নয় আগামীতে শারিরির প্রতিবন্ধি তরুণ-তরুণীরা সহায়তার জন্য ‘বেসিস ওয়েলফেয়ার ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে। এই ফান্ডের থেকে জাহিদকেই প্রথম সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তাদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রশিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব ছিলো। ঠিক সেই সময় বেসিস এগিয়ে এসেছে। তার কারণেই আজ আমার উন্নত চিকিৎসা হতে চলেছে। আমিসহ আমাদের পরিবার বেসিসের কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবে।

About অঞ্জন দেব

একটি উত্তর দিন