আইটি ব্যক্তিদের সম্বন্ধে জানতে দেখুন – টিউন্টারভিউ গেস্ট

আইটি ব্যক্তিদের সম্বন্ধে জানতে দেখুন – টিউন্টারভিউ গেস্ট

হাসিন হায়দার, দেশের ওয়েব এপ্লিকেশন ডেভলপমেন্টে এক উজ্জল নক্ষত্র । তার অনুপ্রেরণায় পিএইচপি (PHP) কোডিংয়ের জগতে ডুব দিয়েছেন অগণিত মানুষ । দেশের প্রথম ZCEআন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রোগ্রামিং বইয়েরলেখক, বাংলা দেশের সবচেয়ে বড় PHP গ্রুপ, PHPXpert এর পরিচালক, দেশের প্রথম বাংলা ইউনিকোড পার্সারের ডেভোলোপারদের অন্যতম, জনপ্রিয় ফেসবুক এপ্লিকেশন Miproapps/thruSocial এর প্রবর্তক এবং আন্তর্জাতিক মানের Startup Leevio এর এই প্রতিষ্ঠাতার কথা আজ জানবো টেকটিউনস টিউন্টারভিউ এর মাধ্যমে।

টেকটিউনস: কম্পিউটার ও কোডিং জগতে আপনার শুরুটা কিভাবে হলো ?
হাসিন হায়দার:
 আমি যখন রাজশাহী বিআইটিতে (বতর্মানে রুয়েট) ভর্তির কোচিং করতাম তখন সেখানে একটা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার ছিল । ক্লাসের পর প্রতিদিনই আমি সেখানে অনেক সময় ব্যয় করতাম । প্রথম প্রথম শুধু গেমিং, তারপর আঁকাআঁকি ইত্যাদি । এরপর আমার মাথায় একটা প্রশ্ন আসলো যে এই এপ্লিকেশনগুলো কিভাবে কাজ করে । আমি আমার বাবাকে বেসিক কম্পিউটার শেখার একটা বই এনে দিতে বললাম । তিনি যেহেতু কম্পিউটারের ব্যাপারে অভিজ্ঞ ছিলেন না তাই তিনি এক দোকান থেকে মাইক্রোসফট এক্সেলের একটা বই নিয়ে এলেন । এক্সেলে ফর্মুলা লেখা, ম্যাক্রো প্রোগ্রামিং আমার আবেগকে প্রজ্বলিত করল এবং আমি Foxpro এর উপর একটি বই কিনলাম, এভাবেই আমার প্রোগ্রামিং জীবনের শুরু ।

টেকটিউনস: আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড সিভিল ইন্জিনিয়ারিং । সেখান থেকে প্রোফেশনাল কোডিং জগতে চলে আসার গল্পটা শুনব ।
হাসিন হায়দার: যেহেতু আমি FoxPro ও Qbasic এ প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী ছিলাম এবং শিখছিলাম, তাই আমাদের নিউমারিক্যাল এনালাইসিস ক্লাসের সমস্যাগুলো সলভ করতে অনেক ভালো লাগত । বিআইটিতে একটি বিশাল কম্পিউটার রুম ছিল, 256 এবং 356 মেশিনে পূর্ণ একটি DOS এর জগৎ । তখন আমার এক বন্ধু বাংলা ডিকশনারী, বাংলা টেক্সট টু স্পিচ এর মত বাংলা এপ্লিকেশন তৈরীতে ভীষণ আগ্রহী ছিল । আমরা একসাথে অনেক সময় কাটিয়েছি । তখন আমি বাংলা একটা এপ্লিকেশন তৈরীর পরিকল্পনা করলাম যা দিয়ে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে সহজে বাংলা লেখা যাবে । তখন আমি এবং চারজন জুনিয়র, ইমন, সুমন, আবিদ ও সুমি মিলে বাংলা ইন্টারফেস অর্ক (Orko) তৈরী করলাম । এটা ক্যাম্পাসে ভীষণ জনপ্রিয় হল এবং ব্যবসায়িকভাবেও সফল ছিল । এটিই আমাদের বাণিজ্যিক এপ্লিকেশন তৈরীতে ক্যারিয়ার গঠনে উদ্বুদ্ধ করল ।

টেকটিউনস: পেজফ্লেক্স আর সামহোয়্যার ইনে তো একটা ব্যস্ত সময় পার করেছেন, ওটা নিয়ে কিছু বলুন ।
হাসিন হায়দার: সামহোয়্যার ইনে আমি টিম স্পিরিটের ব্যাপারে অনেক কিছু শিখেছি । সামহোয়্যার ইনের CEO অরিল্ড ক্লকারহগ সেই সময় আমার মেন্টর ছিলেন । তিনি আমাকে শিখিয়েছেন সাফল্য এমন কিছু যা সবার সাথে মিলে উৎযাপন করতে হয় এবং রঙ্গীন মূহুর্ত (colorful moments) বলতে আসলে কি বোঝায় । সামহোয়্যার ইনে আমি বেশ কিছু চমৎকার ডেভেলপার সাথে পরিচয় হয়েছে । আমার সময় সামহোয়্যার ইনে দেশের সেরা কিছু ডেভলপাররা কাজ করতেন । আমরা একসাথে অনেক কিছু শিখেছি । পেজফ্লেক্স এর ব্যাপারটাও অনেকা একই রকম । শিপলু বাহ, ওমর আল জাবির মিশো এবং অন্যান্য সহকর্মীরা সত্যি খুব উৎসাহ প্রদায়ক ছিলেন । এবং আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আমি পেজফ্লেক্সে থাকাকালীন শিখেছি, তা হলো এপ্লিকেশনের ভার্সন কন্ট্রোল টুলের ব্যবহার এবং স্কেলযোগ্য বৃহৎ আকারের এপ্লিকেশন তৈরী ।

টেকটিউনস: আপনার লেখা বেশ কিছু বইও বাজার মাতিয়েছে একসময় ।
হাসিন হায়দার: জ্বী, আমি এই পর্যন্ত চারটি বই লিখেছি ।

টেকটিউনস: আপনি তো বাংলাদেশের প্রথম ZCE (Zend Certified Engineer ), আপনার ZCE হওয়ার গল্পটা শুনতে চাই।
হাসিন হায়দার:
 আমি যখন ZCE হওয়ার পরিক্লপনা করছিলাম তখন এই বিষয়ে রিসোর্স খুজে পাওয়া অনেক কষ্টের ছিল । এবং মানুষজন এমনভাবে তাকাতো যেন আমি ভীনগ্রহের কোন এলিয়েন ! অনেক খোজাখোজির পর নেট থেকে এই বিষয়ের কিছু বই পেলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম পরীক্ষাটা দেয়ার । তিন চার মাসের বেতনের টাকা জমিয়ে পরীক্ষার ফি জোগাড় করলাম । তখন আমি একটা চাকরি করছিলাম এবং ওটাই আমার একমাত্র আয়ের উৎস ছিল । উপার্জনটা কষ্টের ছিল এবং ফেল করার ভার বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না । তাই আমি অনেক desperate ছিলাম । আর কোন কিছুতে প্রথম হওয়ার আনন্দের ব্যাপারটাও মাথায় ছিল । দেশে তখন কেউ ZCE ছিল না এবং এটা আমার কাজে ব্যবহৃত টুল PHP এর সাথেও সামন্জস্যপূর্ণ ছিল । তাই আমি ZCE পরীক্ষায় অংশ নিলাম ।

টেকটিউনস: TRIPART, SOMEWHEREIN, সহ আপনার কাজ করা বেশী ভাগ প্রতিষ্ঠানই সোসিয়াল নেটওয়ার্কিং নিয়ে এটা কি কাকতালীয় ?
হাসিন হায়দার: না, আমি দীর্ঘদিন ধরেই সোসিয়্যাল এপ্লিকেশন ডেভলপমেন্টের কাজ করছিলাম এবং এই বিষয়ে কাজ করছে এমন কোম্পানি ও ডেভলপারদের সাথে কাজ করতে আমি স্বাছ্যন্দ বোধ করি । কারণ এটাতে আমার ও অন্যদের জন্য কমিউকেশনে সহজ এবং আমরা একই অবস্থানে থাকতে পারি।

টেকটিউনস: চাকরী ছেড়ে entrepreneurship এ চলে আসা কেন ?
হাসিন হায়দার: সত্যি বলতে কি আমার কিছু বেশ কিছু অদ্ভুত আইডিয়া ছিল যেগুলোতে হয়ত আমার চাকরীদানকারী কোম্পানি ফান্ডিং করতে আগ্রহী হতো না। তাই আমাকে নিজেকেই ওগুলো বাস্তবায়নে উদ্দোগী হতে হতো । এটাই আমার Entrepreneurship Spirit ছিল এবং এর কারণেই আমরা Leevio শুরু করি।

টেকটিউনস: আপনি পাচঁ সন্তানের পরিবারের একমাত্র ছেলে, আপনাকে নিয়ে নিশ্চয়ই সবার বিরাট প্রত্যাশা । এগুলো ক্যারিয়ারকে কিভাবে প্রভাবিত করেছে ?
হাসিন হায়দার: আমি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে যেখানে আমার বাবা খুবই কষ্টে উপার্জন করতেন । তাই আমি অর্থে মর্ম জানতাম এবং অর্থ উপার্জনে কত কষ্ট করতে হয় তাও জানতাম । মাত্র একজন পুত্র সন্তানের আশায় আমাদের পরিবারে পর পর চারজন কন্যা সন্তান হয়ে ছিল, তাই আমার উপর দায়িত্বটাও বেশী ছিল । এই জিনিষগুলো আমাকে আমার সাফল্যের ব্যাপারে ফোকাসড হতে সাহায্য করে । আমাকে এটা করতেই হতো, তাছাড়া অন্যকোন পথ ছিল না (হাসি) । এবং আপনি যখন কোন কিছু নিয়ে থাকেন তখন আপনার জন্য চ্যালেন্জ নেয়া সহজ হয়ে যায় ।

টেকটিউনস: আমরা যদি গ্লোবালী দেখি তবে আমাদের সামনে তিনজন সেরা Entreprenuer আছে, বিল গেটস, স্টিভ জবস আর হালের মার্ক জাকারবার্গ । আপনার পছন্দের কে ? আপনার Entrepreneurship দর্শনটা কি ?

হাসিন হায়দার: বিল গেটস এবং স্টিভ জবস । আমার জীবনের বড় একটা সময় আমি ভিজুয়্যাল বেসিকে কাজ করেছি , যা মাইক্রোসফটের একটা চমৎকার প্রোগ্রাম। তারপর আমি পথ পরিবর্তন করে LAMP এবং তারপর Mac এ এপ্লিকেশন ডেভলপিং শুরু করি। স্টিভ জবস ও তার চমৎকার গেজেটগুলো আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছে।

টেকটিউনস: Leevio নামটার ইতিহাস কি?
হাসিন হায়দার: বিভিন্ন নেম জেনারেটরে আমরা ভালো কিছু নাম খুজছিলাম, এই নাম ওভাবেই পাওয়া । আমরা আরো তিনটা নাম বাছাই করে ভোটাভোটি করলাম । Leevio বন্ধুদের কাছ থেকে সরব্বোচ্চ নম্বর পেলো এবং আমরা সেইটাই গ্রহণ করলাম । Leevio এর কোন অর্থ নেই, এটা আরেকটা ভালো দিক । তাছাড়া এটা Life এর মতো শোনায়।

টেকটিউনস: Leevio এর Miproapps হঠাৎ i2We এর ThruSocial হয়ে গেল কিভাবে ?
হাসিন হায়দার: আমরা Miproapps এর ৮০% শেয়ার i2we এর কাছে বিক্রি করে দেই । তারা বুঝতে পারলো এর উপর ভিত্তি করেই সোসিয়্যাল ডেভলপমেন্টের নতুন সূচনা হতে পারে । তাই তারা এর নাম পরিবর্তন করে thrusocial দেয় এবং এই এপটিই পুরো কোম্পানির মূল আর্কষন হয়ে দাড়ায়।

টেকটিউনস: Leevio এর ব্যবসায়িক সাফল্য কিভাবে মূল্যায়ন করবেন ? এর মূল সোর্স কোনটি ?
হাসিন হায়দার: প্রথম দিকে যখন আমরা MiproApps তৈরী করছিলাম তখন আমরা ক্লায়েন্টদের কাজ ও করতাম । যে অর্থ আমরা উপর্জন করছিলাম তা ইন হাউজ ডেভলপমেন্টের কাজে লাগত । এখনও আমরা উপার্জিত আয়ের বড় একটা অংশ রিসার্চ ও ডেভলপমেন্ট ও ইন হাউজ ডেভলপমেন্টে খরচ করে থাকি।

টেকটিউনস: অনেকের মতে এখন আমরা internationally স্টার্টআপের বাবলের (startup bubble) মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, আপনার মতামত কি ?
হাসিন হায়দার: খারাপ না, Entrepreneurship স্পিরিট খুবই ভালো । তবে একটা কথা, আপনাকে আগে একজন ভালো টিম প্লেয়ার হতে হবে নিজের টিম পরিচালনা করতে । তাই আপনি যদি দুই তিন বছর কোন ভালো টিমের সাথে কোন কোম্পানিতে চাকরী করতে পারেন তবে তা নিজের স্টার্টআপ চালু করতে বেশ সহায়ক হবে।

টেকটিউনস: আপনকে inspire করে বা আপনার ক্যারিয়ারে অবদান আছে এমন কিছু ব্যক্তির নাম আমাদের যদি জানাতেন ।
হাসিন হায়দার: আমি এই বিষয় নিয়ে একটি পোষ্ট লিখেছি । সেটা দেখতে পারেন । ( http://hasin.wordpress.com/2009/01/19/hats-off-to-you-who-are-behind-the-scene/ )

টেকটিউনস: যারা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের এই ক্ষেত্রে আসার আগে কি কি প্রস্তুতি নেয়ার পরার্মশ দিবেন ?
হাসিন হায়দার: এটার উত্তর আগেই দিয়েছি, প্রথমে ভালো টিম প্লেয়ার হতে হবে।

টেকটিউনস: ক্যারিয়র শেষে নিজেকে কোথায় দেখতে চান ? কোন ব্যক্তিগত লক্ষ্য ?
হাসিন হায়দার: আমি শুধু নিজের মন যা চায় তাই করে বেড়ানো মত সময় চাই । যেমন ১০দিনের মাছ শিকার করা, একটি বই লেখা বা পাহাড়ের চূড়ার বসবাস করা। তেমন বড় কিছু না :-) ।

টেকটিউনস: আপনার পরিবারের সদস্য নিয়ে কিছু বলুন।
হাসিন হায়দার: আমি আমার বাবা মাকে নিয়ে গর্বিত। আমার মা আমার পাচঁ বছর বয়স থেকে প্যারালাইজড। তবুও তিনি আমার বাবার সাথে মিলে সকল ঝক্কি ঝামেলা সহ্য করে গেছেন। আমাদের পড়ালেখা খরচ ও খাবার জোগাড় করার উদ্দ্যেশে টিউশিনির মত বাড়তি কাজও করেছেন। আমার ইচ্ছে করে আমি যদি তাদের মত হতে পারতাম। আমি আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ভীষণ ভালোবাসি। তারা আমার অনুপ্রেরণার উৎস। আমার বোনরা, যদিও আমাদের মাঝে দারুন ঝগড়া হতো, তবুও আমরা একে অপরকে খুব ভালোবাসি।

টেকটিউনস: আপনার দুই সন্তানদেরও কী প্রোগ্রামার বানানোর ইচ্ছা না অন্য কোন পরিকল্পনা আছে?
হাসিন হায়দার:
 না আমি একজন লিবারেল মানুষ । আফিফ এবং ইভানকে তাদের নিজের জীবন গড়তে দিব । আমি তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য ও নিদের্শনা দিব কিন্তু কখনও ক্যারিয়ারের ব্যাপারে চাপ দিব না।

টেকটিউনস: Titanium প্লাটফরমে আইফোন app বানানো নিয়ে আপনারা বেশ কিছু কাজ করেছেন। এটা সম্বন্ধে কিছু বলুন।
হাসিন হায়দার: ১৭ তারিখে JSCON2011 তে আসুন এবং নিজেই দেখে নিন :) ।

টেকটিউনস: Leevio এর সুদূর প্রসারি কোন চিন্তা বা ভবিষ্যতে কি কি প্রোডাক্ট আসতে পারে ?
হাসিন হায়দার:
 সিক্রেট :-) ।

টেকটিউনস: Leevio থেকে বাংলা লেখার টুল স্লেট বেরিয়েছে । দেশের জন্য আরো কোন কিছু করার পরিকল্পনা কী Leevio এর আছে?
হাসিন হায়দার: আমি বাংলা এপ্লিকেশন তৈরীতে আগ্রহী । দেখা যাক নতুন আর কি আইডিয়া আমার মাথায় আসে, আমরা সেগুলো নিয়ে অবশ্যই কাজ করব যদি না এটা আমার স্কিলের বাইরের কিছু হয়।

টেকটিউনস: PhpXpert গ্রুপ কিভাবে শুরু । এর প্রোগ্রামগুলোর পিছনে Intention কি ?
হাসিন হায়দার: সবাইকে সচেতন করা এবং এই অসাধারণ ভাষাটাকে সবার কাছে পৌছে দেয়া । আরেকটা বড় কারণ যার কারণে আমরা ওয়ার্কশপ, সেমিনার আয়োজন করি হচ্ছে একটা কমিউনিটি গড়ে তোলা এবং দিক নির্দেশনা প্রদান করা ।

টেকটিউনস: টেকটিউনস কেমন লাগে? টেকটিউনস সম্বন্ধে আপনার মতামত ও পরামর্শ জানতে চাচ্ছি।
হাসিন হায়দার: আমি টেকটিউনস অনেক পছন্দ করি । টেকটিউনসের নির্মাতা, পরিচালক, CEO & CTO – মেহেদী হাসান আরিফ একজন চমৎকার মানুষ এবং আমরা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরকে চিনি। আপনার মত এবং অন্যান্যরা টেকটিউনসকে পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবন্ত রাখছেন। শুধু একটা জিনিষ আমার অপছন্দ যে এখানে অনেক কপিরাইটেড ম্যাটেরিয়াল শেয়ার করা হয় । আমি ব্যাক্তিগতভাবে পাইরেসী পছন্দ করি না এবং একে এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করি । আমাদের “পাইরেসীকে না বলুন” – এ ধরণের সচেতনতা তৈরী করা উচিত । আপনার সময়ে জন্য ধন্যবাদ , JS Conference এ দেখা হবে।

Leevio অফিস ফটোট্যুর

24
23
22
21
20
19
18
17
16
15
14
13
11
10
9
8
7
6
5
4
3
2
1

হাসিন হায়দার একজন অমায়িক ব্যাক্তিত্ব । নিজের মূল্যবান সময় খরচ করে দেশের প্রোগ্রামিং জগতের উন্নয়নে ২০০৪ সালের ৩১ অক্টোবরে তিনি দেশের পিএইচপি প্রেমীদের এক অভিন্ন কমিউনিটি গড়ার লক্ষ্যে PHPXpert গ্রুপ তৈরি করে তাঁর বন্ধুদের সাথে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। PHPXpert গ্রুপ দেশের অন্যতম সক্রিয় ও জনপ্রিয় টেকি গ্রুপ। আগামী ১৭ তারিখ Software Freedom Day 2011 (SFD 2011) উপলক্ষে বেলা ৩টা থেকে AIUB Auditorium -এ জাভাস্ক্রিপ্ট প্রেমীদের জন্য বিশেষ টেক কন্ফারেন্সের JSCON2011 এর আয়োজন করেছে PHPXpert.

যাতে হাসিন হায়দার সহ দেশের প্রায় ১২ জন খ্যাতনামা জাভাস্ক্রিপ্ট এক্সপার্টরা অংশ নিবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। আপনিও চাইলে PHPXpert এর এই JSCON2011 টেক কন্ফারেন্সে যোগ দিতে পারেন।

হাসিন হায়দারের আত্মবিশ্বাসী পথচলা স্বপ্ন দেখায় বড় কিছু করার। তাঁর ব্যক্তিগত ব্লগ পাবেন http://hasin.wordpress.com/

————————————————————————————————-

 

বাংলাদেশে বাংলা ব্লগিং চালু করার মূল কারিগর সামহোয়্যার ইন লিমিটেড । এর প্রতিষ্ঠাতা নরওয়ের নাগরিক অরিল্ড ক্লকারহগ । যিনি বেশ কিছু বছর ধরে বাংলাদেশে আছেন, বাংলায় পুরোপুরি কথা বলতে পারেন । তার সহধর্মিনী সামহোয়্যার ইনের হেড অফ এলায়েন্স সৈয়দা গুলশানা ফেরদৌস জানা । ২০০৫ সালে সামহোয়্যার ইন লিমিটেডই নিয়ে আসে প্রথম বাংলা ব্লগিং প্লাটফরম “সামহোয়্যার ইন ব্লগ” ।

টেকটিউনস: “সামহোয়্যার ইন” শুরুটা কিভাবে হলো ?
অরিল্ড: আমি আছি এখানে ১৭ বছর । আমি আর জানা বিয়ে করি সাড়ে নয় বছর আগে । আমরা যখন এই কোম্পানি সেটআপ করেছি তখন চেষ্টা করেছি সোসিয়্যাল মিডিয়া নিয়ে কাজ করতে । আমরা দুইজনই GP তে কাজ করেছি, আমি আরেকটা MIS সফটওয়্যারটিম এর সাথেও কাজ করেছি ৩ বছর । টিম এপ্রোচ খুবই ইন্টারেস্টিং লেগেছে যদিও ওটা আমার সাবজেক্ট না । মনে হয়েছে এটা খুব ভালো লাইন হতে পারে এখানে বাংলাদেশে । কারণ ২০০৪ এ এখানে ছোট ছোট কোম্পানি কাজ করছিল । বেশিরভাগ আউটসোর্সিং করতে আর কিছু লোকাল মার্কেটে কাজ করেছে । CD বার্ণ করে সেল করেছে, পাইরেসী করেছে ইত্যাদি । ওই সময় অনলাইন কমিউনিটি অনেক বেড়ে গিয়েছিল ইউটিউব, হাই ফাইভ ইত্যাদি । আমরা দেখেছি যে বাংলাদেশের জন্য এটা অনেক ভালো হতে পারে ।

এখানে unbelievable মোবাইল রেভুলুশ্যন হয়ে গেছে । কেউ ভাবে নাই এরকম হবে কিন্তু হয়ে গেছে, এটা ভবিষ্যতে আরো বড় হবে । এটা new way of communication । এটা একটা চমৎকার সুযোগ । আমরা মনে করি মোবাইল হচ্ছে একজন থেকে আরেকজন আর সোসিয়্যাল মিডিয়া হচ্ছে অনেকজন থেকে অনেকজন । প্রথমে ইন্টারেষ্ট ছিল একটা ব্লগ কমিউনিটি একটা পাবলিশিং প্লাটফরম হবে যেখানে যে কেউ নিজের লেখা পাবলিশ করতে পারবে, নিজে আলোচনা করতে পারবে । তখন জানা বলল এখানে কিছু করতে হলে বাংলায় করতে হবে, বাংলা ভাষা থাকতেই হবে । কিন্তু তখনও ওয়েবে এটা সম্ভব ছিল না । আমরা দেখেছি যে, কিছু ডেস্কটপ সালুশন চলে এসেছে । সামহোয়্যার ইন শুরু করেছে আউটসোর্সিং দিয়ে কিন্তু আমাদের মূল লক্ষ্য সোসিয়্যাল মিডিয়াই ছিল । ২০০৫ সালের ডিসেম্বারে আমরা ভেবেছি একটা ব্লগ কমিউনিটি তৈরীর চেষ্টা করব ১৬ ই ডিসেম্বারের মধ্যে । তখন হাসিন হায়দার আমাদের সাথে ছিল ও দায়িত্ব নিয়েছে কিভাবে ফনেটিক বা কোনভাবে বাংলা লেখা যায় । ও বলেছে পারব যেভাবেই হোক পারব । আমাদের ইমরান হাসান প্রথম খুব সিম্পল একটা প্লাটফরম তৈরী করে ।

ওই সময় ৫০-১০০ জন বাংলাদেশী ব্লগার ছিল । ওরাও ইংরেজীতে লিখছে । ৩-৪জন হতে পারে বাংলা লিখছে, ওরা ওয়ার্ডপ্রেস বা ব্লগার এডাপ্ট করতে পেরেছে । কিন্তু সাধারণ মানুষের কোন উপায় নেই । এরপর আমরা সামহোয়্যার ইন ব্লগ চালু করি । যারা ব্লগে ছিল তাদের ইনফর্ম করি, ২ মাসের মধ্যে আমরা ১০০০ সদস্য পাই ।

শুরুতে বলতে হবে যে ১৭ তারিখ অগাষ্ট ২০০৫ সালে যখন জেএমবি বিভিন্ন স্থানে বোমা ফাটায় তখন আমরা সবাই কনফিউজড, কেউ কোন খবর দিতে পারছিল না । তখন আমরা চিন্তা করেছি যদি একটা সিটিজেন মিডিয়া থাকত বা একটা ব্লগ কমিউনিটি থাকত তবে সবার জন্যই ভালো হত ।

টেকটিউনস: আপনার বাংলাদেশে আসাটা কিভাবে হলো ?
অরিল্ড: আমি বাংলাদেশে আসি ১৯৮৬ সালে । কিছু NGO এর মাধ্যমে, তাছাড়া এখানে কিছু ফ্রেন্ড ছিল, বাংলাদেশের প্রতি ইন্টারেস্ট ছিল । ৮৬ তে এসে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা ঘুড়েছি বেশ ভালো লেগেছে । আমি সেটেল হই ১৯৯৪ সালে ।

টেকটিউনস: “সামহোয়্যার ইন” ব্রান্ড নামটা কিভাবে মাথায় আসে ?
অরিল্ড: সবাই, সবকিছুই Belong করে Some where । ম্যাপে আমি পিন রাখতে পারি যে এটা আমার বাসা, এটা আমার অফিস । যেকোন অফিস হোক সার্ভিস হোক সবই একটা লোকেশন । আমরা দেখেছি যে অনেক সার্ভিস পুরো ওয়ার্ল্ড কভার করে কিন্তু লোকাল কমিউনিটি তেমন কিছু পাচ্ছে না । আমরা যেখানে প্রত্যহ জীবন নির্বাহ করি সেখানে তেমন অনলাইন সার্ভিস নাই । এই জন্য আমরা চেয়েছি “সামহোয়্যার ইন” একটা সার্ভিস হবে যেটা পাওয়ারড বাই লোকাল কমিউনিটি । যেমন সামহোয়্যার ইন বাংলাদেশ , সামহোয়্যার ইন আফ্রিকা বা সামহোয়্যার ইন নরওয়ে ।

টেকটিউনস: “সামহোয়্যার ইন” এর বর্তমান সাফল্য নিয়ে কি আপনারা সন্তুষ্ট ?
অরিল্ড: হ্যা এবং না । কোম্পানিটা হয়েছে ৬ বছর, ব্লগটা হয়েছে সাড়ে ৫ বছর । আমাদের সামহোয়্যার ইন ব্লগ এটা চমৎকার সফল । ব্লগারদের এনগেজমেন্টটা যে হয়েছে, এরপর আরো অনেক কমিউনিটি হয়েছে । ট্রেন্ডসেট করেছি । আমরা একটা নতুন অপর্চুনিটি এনেছি । একটু সেটিসফাই যে পপুলার হয়ে গেছি । আর ওয়েবে বাংলা ভাষার Pioneer হয়েছি । কিন্তু কোম্পানি হিসেবে ফাইনেন্সিয়ালি আমরা স্ট্রাগাল করেছি ।

কোম্পানি হিসেবে অনেক কিছু কঠিন ছিল । আমাদের এখানে খুব ভালো একটা সেটাপ, এখন ভালো অবস্থানে আছি । এটাও একটা রেসপন্সিবিলিটি । এখন ২০১১ এখানে এখনো অনলাইনে আয় করা যাবে না । অনলাইন কমিউনিটি থেকে বাংলাদেশে আয় করাটা মোটামুটি অসম্ভব । এখানে ইকমার্সের ঘাটতি, পেমেন্ট সাল্যুশনের ঘাটতি । আরো অনেক কোম্পানি বাংলাদেশে থাকতে পারত যদি এটা ফাইনেন্সিয়ালি ভায়েবল হতো । আমরা আউটসোর্সিং করে সাসটেইন করি । ২০০৮ পূর্যন্ত আমরা এটা ভালো পেরেছি । কিন্তু ২০০৮ সনে যখন গ্লোবাল রিসেশন হয়েছে তখন আমরা অনেক কাষ্টমার হারিয়েছি ।

টেকটিউনস: Red Herring Asia Tech Startup পুরস্কার কতোটা প্রভাব ফেলেছে সামহোয়্যার ইনে ?
অরিল্ড: গ্লোবালী আমরা রিকগনিশন পেয়েছি । এখানে আমরাই প্রথম এটা পেয়েছি । এই আওয়ার্ডটা খুবই সম্মানজনক । এখানে এটা এতোটা পরিচিত না । কিন্তু অনলাইন কমিউনিটিতে এটা অনেক সম্মানজনক । ব্যবসার ক্ষেত্রে এটা তেমন কোন প্রভাব ফেলেনি । আমাদের পার্টনারদের জন্য এটা একটা সাইন অফ কোয়ালিটি । কিন্তু সরাসরি কোন প্রভাব নেই । তবে আমরা খুবই খুশী এই সম্মান পেয়ে ।

টেকটিউনস: এই ৬ বছরে কখনও কি মনে হয়েছে বাংলাদেশে সেটেল হওয়াটা একটা ভূল স্বীদ্ধান্ত ছিল ?
অরিল্ড: আমি এখানে বাস করছি । আমার ফেমিলি এখানে আছে । জব না করে আমি ঠিক করেছি আমি ক্রিয়েট করব । আমি একজন ক্রিয়েটিভ মানুষ । আমি কিছু কনট্রিবিউট করতে চাই । সামহোয়্যার স্টার্ট করার পর আমাদের ভালো কিছু লোক জয়েন করেছে এটা একটা সেটিসফেকশন । আমি কখনই চিন্তা করিনি এটা একটা ভূল ডিসিশন । তবে অবশ্যই এটা একটা স্ট্রাগ্রাল ছিল এবং থাকবে । তবে এখান থেকে যাওয়ার কোন প্লান নেই ।

টেকটিউনস: বাংলাদেশের ব্লগার ও অন্যান্য দেশের ব্লগারদের মধ্যে পার্থক্য কোথায় ?
অরিল্ড: বিশাল পার্থক্য আছে । বাংলাদেশ পৃথিবীর এক নম্বর ব্লগ কমিউনিটির দেশ । অন্য দেশে আর এমন নেই যেখানে ব্লগ কমিউনিটি এতটা স্ট্রনগ । এখানে বেশীর ভাগ ব্লগার ওয়েব কমিউনিটিতে belong করে । অন্যান্য দেশের বেশীরভাগ ব্লগার পারসোনাল ব্লগ মেইনটেইন করে । এখানে আমরা ইউনিটি ফিল করি, যে আমরা সবাই ব্লগার, বাংলায় শেয়ার করি ।

আমরা দেশের জন্য কন্ট্রিবিউট করতে চাই । আমরা বিভিন্ন সাবজেক্ট নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করি । এটা দেশের জন্য ইমপ্রুভমেন্ট । অন্য দেশের ব্লগারদের এভারেজ বয়স অনেক কম । এখানে ব্লগারদের এভারেজ বয়স বেশী । আমাদের এজ গ্রুপ হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৪ । অন্যান্য দেশে সেটা হচ্ছে ১৫ থেকে ২২ ।

টেকটিউনস: আমাদের ব্লগাররা কি আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠেছে ?
অরিল্ড: অনেক ক্ষেত্রে আমাদের ব্লগাররা খুবই স্কিলড । আমাদের খুবই স্ট্রনগ ও ক্লিয়ার এনালাইটিক ইনফরমড । একদিকে এখানের ব্লগাররা খুবই মেচিউরড । যারা ব্লগ করে তারা ইন্টার নেটের আরলি এডাপ্টর । এখানে ২-৩% পপুলেশন একটিভ ইন্টারনেট ইউজার । যারা এখানে ইন্টারনেট ইউজ করে তারা ভালো অফিসে কাজ করে well educated যদি এগুলো ধরি তবে আমাদের ব্লগাররা খুবই ম্যাচিউরড । তবুও আমি একটু মিস করি হার্ড ডেপথ এনালাইসিস । অন্যান্য দেশে যেমন আছে । ভালো হতো যদি ব্লগার গ্রুপ থাকত যারা পলিটিকাল, ইকোনমিকাল এনালাইসিস লেখা হতো, ডিবেট হতো।

টেকটিউনস: সামহোয়্যার ব্লগের মডারেশন নিয়ে অনেক জনপ্রিয় ব্লগারই অসন্তুষ্ট । ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের মধ্যে বিভেদ করা হচ্ছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন । এ ব্যাপারে কি মন্তব্য কি ?
অরিল্ড: আমাদের মডারেশন অনেকে ক্রিটিসাইজ করে । এটা বিরাট একটা ব্লগিং প্লাটফরম । প্রতিদিন ৭০০-৮০০ পোষ্ট আসে, ৮-১০ হাজার কমেন্ট আসে । আমাদের মডারেশন এখনও in house । আমাদের কমিউনিটি মডারেশন নাই । আমরা ফাইনেনসিয়ালী অনেক স্ট্রাগাল করি । আমাদের মডারেশন ক্যাপাসিটি অনেক কম, অনেক পোষ্ট আমাদের চোখে পড়ে না বা ফলো করতে পারি না । অনেকে বাইরে থেকে দেখে ভাবে এই পোষ্ট থাকছে কিভাবে, এই পোষ্ট সরাচ্ছে না কেন । বা ওই পোষ্ট সরিয়েছে আর এই পোষ্ট সরাচ্ছে না । এটা হচ্ছে আমাদের লিমিটেড ক্যাপাসিটি বা উইকনেস । আমাদের যদি আরো রিসোর্স থাকত ব্লগ থেকে আরো আয় হতো তবে মডারেশন আরো স্ট্রনগ হতো ।

টেকটিউনস: ব্লগের কনটেন্টের ব্যাপারে কি কখনো সরকারের কোন হস্তক্ষেপ ছিল ?
অরিল্ড: না । কখনও না ।

টেকটিউনস: সামহোয়্যার ইন ব্লগ বা আওয়াজ কি এখন ফাইনেনসিয়ালি সফল ?
অরিল্ড: সামহোয়্যার ইন ব্লগ চালাতে স্যালারী, অফিস রেন্ট, ইন্টারনেট সব মিলিয়ে আমাদের মাসে ৩-৪ লক্ষ টাকা খরচ হয় । আর শুরু থেকে এই পূর্যন্ত মোট এক কোটি টাকার উপর হবে । কিন্তু লনজ রানে এটা সেল্ফ সাসটেইন হবে । এটা খুবই পপুলার একটা প্লাটফরম । যদি আমরা ভালো মার্কেটিং করত পারি তাহলে আরো ভাল হবে । তাছাড়া আওয়াজ এখনো ছোট । এটা মোবাইল দিয়ে আরো ফাস্ট স্প্রেড হতে পারে, তখন রেভিনিয়ু আসবে । এখনো আওয়াজ থেকে কোন রেভিনিয়ু পাই না ।

টেকটিউনস: সামহোয়্যার ইন” এর সোশিয়াল প্লাটফরম “আওয়াজ” এর বতর্মান ব্যবহারকারী সংখ্যা সম্বন্ধে যদি একটু ধারণা দিতেন ?
অরিল্ড: আওয়াজে প্রায় ৩০ হাজার রেজিস্টার্ড ইউজার আছে । দৈনিক একটিভ ইউজার ১ হাজারের কাছাকাছি হতে পারে । দৈনিক আমরা ১৫০০-১৬০০ সাউট (shout) পাই, ৬-৭ হাজার কমেন্ট পাই ।

টেকটিউনস: আওয়াজের এপিআই বা এতে অটো পাবলিশ করার কোন প্লাগইন তৈরীর চিন্তা ভাবনা আছে কি ?
অরিল্ড: আমরা এগুলো নিয়ে অনেক চিন্তা করছি । এটা নিয়ে আমাদের অনেক প্লান আছে । আমাদের রিসোর্স লিমিটেড । ফাইনেন্সিয়ালি যদি আমরা স্ট্রনগ হতাম তবে বড় একটা টিম এর পিছনে লাগিয়ে দিতাম সামহোয়্যার ইন ব্লগে এবং আওয়াজে । এখনো একটা ছোট টিম এটা নিয়ে কাজ করে । ডেভপলপমেন্ট আরো হবে, API ও হবে । আওয়াজ একটা আড্ডা সিস্টেম প্লাটফরম । আরেকটু ডেভলপমেন্টের পর এটা এক্সপোর্ট করা যাবে । বিভিন্ন সাইটে লাগানোর জন্য ছোট Shout বক্স থাকতে পারে বা অন্য কোন কিছু ।

টেকটিউনস: “সামহোয়্যার ইন” এর সাবেক ডেভলপার হাসিন ভাই, ইমরান ভাইরা এখন নিজেরাই উদ্দোগতা এই সম্পর্কে আপনার মতামত কি ?
অরিল্ড: খুবই ভালো । আমরা খুবই লাকি । আমি খুবই প্রিভিলেজ ফিল করি যে “সামহোয়্যার ইন” একটা কোম্পানি যেটা বাংলাদেশের খুবই ভালো টেলেন্ট একট্রাকট করতে পেরেছি । তবে সবাইকে ধরে রাখতে পারি নাই । এক দিকে আমরা এক্সপেক্টও করি না যে সবাই আমাদের সাথে পাচঁ ছয় বছর থাকবে । তারপরও যাদের খুবই ভালো Entrepreneur স্পিরিট যেমন হাসিন, ইমরান, তারা আমাদের সাথে ছিল । এটা খুব ভালো একটা পার্টনারশীপ ছিল । এখনও খুব ভালো একটা টিম আমাদের সাথে আছে । আমরা খুবই খুশি যে “সামহোয়্যার ইন”তে তাদের Entrepreneur ডেভলপমেন্ট হয়েছে, পারসোনাল ডেভলপমেন্ট হয়েছে । এখানে প্রথম দিন থেকেই কিভাবে আমরা entrepreneur হই, কিভাবে বিজনেস অপর্টুনিটি দেখতে হয় । কেউ যদি এটা নিজের কাজে লাগায়, আমরা যদি কারো ইনসপেরেশন হতে পারি তবে আমি খুব খুশি । আমি তাদের success দেখতে চাই ।

টেকটিউনস: “সামহোয়্যার ইন” দিয়েই বাংলা ব্লগিংয়ের যাত্রা শুরু, এর সাবেক ব্লগাররাই নতুন অনেক প্লাটফরম দাড় করিয়েছেন এখন সামহোয়্যারের সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন, এটাকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন ?
অরিল্ড: এটা একটা কমপ্লিমেন্ট । যে আমরা তাদেরকে এনেবল করেছি ব্লগিং শুরু করতে । এখানে তাদের ব্লগিং নিয়ে ধারণা হয়েছে । তারা ভেবেছে আমরা ভিন্ন করতে চাই । যদি এখানে শুধু “সামহোয়্যার ইন” থাকত তাহলে অনেক বোরিং লাগত । এখন ব্লগাররা সিলেক্ট করতে পারবে কোথায় ব্লগ করবে । আগে আমরা একা ছিলাম, এখন ২৫-৩০টা ব্লগ বা ফোরাম প্লাটফরম । ব্লগাররা টেকটিউনস, “সামহোয়্যার ইন” বা প্রথম আলো ব্লগ যেখানে ভালো লাগবে সেখানে থাকবে ।

টেকটিউনস: আপনি সামহোয়্যার ইন ব্লগ রেগুলারলী ফলো করেন ? ব্লগারদের মধ্যে কোন পারসোনাল ফেভরেট ?
অরিল্ড: আমি চেক করি প্রতিদিন । কিন্তু আমি একটা কোম্পানি রান করি, এখানে অনেক ডেভপলপমেন্ট চলছে, আওয়াজের অনেক ডেভলপমেন্ট হচ্ছে । তাই তেমন পড়ার সময় পাই না, আমি শুধু একটু আপডেট নিতে চাই । ফেভরেটকে বলতে চাই না তবে এখানকার ব্লগারদের প্রতি আমি খুবই ইমপ্রেসড যে ব্লগ কমিউনিটির মধ্যে কত টেলেন্টেড, কত স্কিল, কত স্ট্রেনথ আমি খুবই ইমপ্রেসড ।

টেকটিউনস: “সামহোয়্যার ইন” এর ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি ? ভবিষ্যতে আরো কি কি প্রডাক্ট আসতে পারে ?
অরিল্ড: ফিউচার প্ল্যান নিয়ে তেমন কিছু বলতে চাই না । তবে “সামহোয়্যার ইন” এর প্রথম থেকে কিছু আইডিয়া ছিল, ওগুলো এখনো আছে । হয়ত আমাদের রিসোর্স বা টাইম নাই । আমাদের দুটি মূল প্রডাক্ট “সামহোয়্যার ইন” ব্লগ ও আওয়াজ এই দুটো আরো ভালো করতে চাই ।

টেকটিউনস: সামহোয়্যার ইন এর আউটসোসিং নিয়ে কিছু বলেন ।
অরিল্ড: “সামহোয়্যার ইন”-এ দুটি টিম । একটা ডেটা মাইনিং টিম ও একটা প্রোগ্রামিং টিম । ডেটা মাইনিং টিমটা খুব ভালো করছিল । কিন্তু রিসেশনের সময় অনেক ক্লায়েন্ট ছুটে গেছে । এখনও দুটো টিম আছে । আমরা এটা আরো গ্রো করতে চাই ।

টেকটিউনস: দেশের আইটি সেক্টরের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করুন ।
অরিল্ড: বাংলাদেশে মনে হচ্ছে এগুলো একটা ফ্যাশন ওয়ার্ড । যেকোন সরকারের কাছে IT একটা ফ্যাশন ওয়ার্ড। যে আমরা আইটি সাপোর্ট করব, প্রোগ্রামিং ডেভলপমেন্ট এক্সপোর্ট সাপোর্ট করব, ডিজিটাল বাংলাদেশ করব ইত্যাদি । তবে ভালো যে একটু ধারণা আছে । আমি মনে করি সরকার ও ইনভেস্টরদের কাছ আইটি সেক্টরটা নেগলেগটেড । আইটি সেক্টর ডেভলপ করার জন্য যা দরকার তা এখনো দেখতে পাচ্ছি না । বিজনেস লিডারসরাও এখন ট্রেডিশনাল ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে আছে, খুব কম ইনভেস্টমেন্ট বাইরে থেকে আসছে । আমরা এখন IT সেক্টরে যা দেখছি তারা ছোট উদ্দোগতা । আরো অনেক চমৎকার সব সুযোগ আছে এখানে ।

টেকটিউনস: বাংলাদেশে আইটি ব্যবসার মূল অসুবিধাগুলো কি কি ?
অরিল্ড: পাওয়ার (বিদ্যুৎ) , ইন্টারনেট , দেশের ব্রান্ডিং ইত্যাদি । যারা বাইরের ইনভেস্টর বা আউটসোর্সিং নিয়ে কাজ করে তারা চিন্তা করে আমরা কোন দেশে যাব ভারতে, চায়নায় না ভিয়েতনামে । এই লিস্টে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক নিচে । এই ক্ষেত্রে আরো কাজ করতে হবে, পজিটিভ দিকগুলো আরো তুলে ধরতে হবে । তাছাড়া যারা চাকরি চায় তাদের টেলেন্ট আছে কিন্তু সেল্ফ গ্রোথটা শক্তিশালী না । রেলিভেন্ট এডুকেশন বা প্রাকটিস খুব কম । ভবিষ্যতে টেলেন্টের অভাব হতে পারে । এখন ঢাকায় কোম্পানি যদি ন্যাশনালী রেসপেক্টেড হতে চায়, প্রতিষ্ঠিত হতে চায় তবে অনেক খরচ করতে হবে। ভালো ইন্টারনেট লাইন লাগবে, ভালো অফিস লাগবে ।

টেকটিউনস: আপনার ক্যারিয়ার গোল কি ? শেষ জীবনে নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান ?
অরিল্ড: আশা করি “সামহোয়্যার ইন”-এ যাতে সারা জীবনই কাজ করতে পারি । আমরা যাতে সোসিয়্যাল মিডিয়া লোকাল কমিউনিটি হিসেবে সারা বাংলাদেশে গ্রো করতে পারি । তারপর হতে পারে অন্য কোন দেশে । তাহলে আমরা খুবই খুশি হতাম যে এটা আমাদের কনট্রিবিউশন ।

টেকটিউনস: পুরো পুরো কি বাংলাদেশেই থেকে যাবেন, না কখনো স্থায়ীভাবে নরওয়ে চলে যাবার পরিকল্পনা আছে ?
অরিল্ড: বাংলাদেশ আমার বাড়ি । এখানে আমার ফ্যামিলি আছে । অব্যশই নরওয়েও আমার দেশ । ওখানে বাবা মা আছে । আমরা এভাবে সেটআপ করেছি যে এখানে থাকি, কিন্তু নরওয়ের সাথেও যোগাযোগ আছে । বছরে ২-৩ বার যাই নরওয়েতে ।

টেকটিউনস: টেকটিউনস কি আপনি ভিজিট করেন?
অরিল্ড: টেকটিউনস আমি ভিজিট করি কিন্তু ওখানেও তেমন পড়তে পারি না । বাংলা পড়তে আমার এখনো কষ্ট হয়, সময় লাগে । মাঝে মাঝে ওখানের লিংক পাই, পোষ্ট পাই, ইন্টারেস্টিং লাগে । আমি চেষ্টা করি, কমেন্ট বা আলোচনাগুলোও পড়ি । ওখানে আমার একাউন্ট নেই তবে আমি খুবই ইমপ্রেসড । সামহোয়্যার নিয়ে অনেক কন্ট্রোভার্সি আছে তবু ওটা সবচেয়ে বড় প্লাটফরম কিন্তু টেকটিউনস নিয়ে কোন কন্ট্রোভার্সি নেই ।

টেকটিউনস: টেকটিউনস নিয়ে আপনার কোন পরামর্শ ।
অরিল্ড: ব্লগাররা টেকটিউনস ভিজিট করে, টেকনোলজি সম্বন্ধে জানতে চায় । অনেক হেল্প পায়, টেকটিউনস থেকে উত্তর পায় । তবে আমি মনে করি আপনারা এত বড় যে দেশের টেকনলজী নিয়ে আরো সাবজেক্ট কভার করতে পারবেন । আরো বেশী কোম্পানি যারা টেক সেক্টরে আছে বা ইউনিভার্সটিগুলো আছে তাদের সাথে ক্লোজ হন তাহলে সবার ইন্টারেস্ট আরো বাড়বে ।

টেকটিউনস: জনাব অরিল্ড ক্লকারহগ, টেকটিউনসকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।
অরিল্ড: 
টেকটিউনসকেও অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

[ঈষৎ সংক্ষেপিত ও সম্পাদিত]

সামহোয়্যার ইন অফিস ফটোট্যুর

SAMu15
SAMu14
SAMu13
SAMu12
SAMu11
SAMu10
SAMu5
SAMu9
SAMu8
SAMu7
SAMu6
SAMu4
SAMu3
samu1
SAMu2
————————————————————————————————

অমি আজাদ । বাংলা ভাষাকে ই-জগতে প্রতিষ্ঠিত করার পিছনের গুটিকয়েক কারিগরের একজন । তার নামের সাথে আছে দেশের প্রথম Microsoft Most Valuable Professional (MVP) পুরস্কার অর্জনের গৌরব । বর্তমানে মাইক্রোসফটের ডেভলপার ইভানজেলিস্ট পদে থাকা অমি আজাদের শুরু থেকে সব গল্প জানব আজ ।

টেকটিউনস: শুভ অপরাহ্ন । প্রথমেই আপনার নিজের সম্বন্ধে কিছু শুনব ।
অমি আজাদ: আমার জন্ম দিনাজপুরে। অনেকে মনে করে গ্রামে জন্ম আমার, আসলে ওটা একটা ভালো শহর। বাংলাদেশের আর দশটা শহর যেমন থাকে তেমনই শহর। আমাদের অপার্চুনিটি বলতে ঢাকার মতন তেমন কিছু ছিল না; এটা উপলব্ধি হলো যখন ঢাকায় আসলাম, মনে হলো এক বিশাল সমুদ্রে এসে পড়লাম। ছেলেমেয়েদের মধ্যে যে স্মার্টনেস যে নলেজ, তা আমাদের মধ্যে ছিল না। তারপরেও যেটা স্বীকার করবো যে ফ্যামিলি থেকে আমরা হিউজ সাপোর্ট পেতাম। উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার জন্ম; পরিবারের পক্ষ থেকে কখনই কোন কমপ্লেইন ছিল না, যে এটা করছ কেন ওটা করছ কেন। শুধু একবার একটাই কমপ্লেইন হয়েছিল, আমি বলেছিলাম যে চারুকলায় পড়ালেখা করব; আব্বা আমাকে মেরে ফেলার জন্য বন্দুক বের করেছিলেন :)

পরিবার থেকে ভীষণ সাপোর্ট পেয়েছি আমি; একটু বলি, ১৯৯৪ সালে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় ডায়াল করতাম ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য, সেসময় মিনিটে বিল উঠত ৪০ টাকা। এই STD কল করে ইন্টারনেট ব্যবহার করতাম প্রতিদিন আধা ঘন্টা ২০ মিনিটের মত; মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা ফোনের বিল আসতো এবং আব্বা এই ফোনের বিলটাও বেয়ার করতেন কিন্তু কিছু না বলে। এমন না যে আব্বার ঘুষের টাকা ছিল, তিনি এই সাপোর্টটা দিতেন যে ছেলে কিছু করতে চায়। আমার মনে হয় না এখনকার বাবারা এরকম সাপোর্টট দিবে! শুধু বাবা না, আমি প্রচন্ড সাপোর্ট পেয়েছি বাবা, মা, ভাই, বৌ সবার কাছ থেকে। ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডটা এরকমই।

আমরা দুই ভাই, দিনাজপুরে ISP করার মধ্যে দিয়ে আইটি ফিল্ডে এন্ট্রি। অনেকেই হয়ত নাম জানে- দিনাজপুর অনলাইন। দিনাজপুর অনলাইনে কাজ করার পাশাপাশি বাংলা নিয়ে কাজ করার একটা প্যাশন ছিলো। তখন একুশে নামের একটা প্রজেক্টেও কাজ করতাম আর এরই মধ্য দিয়ে তখন পরিচয় হয় ডঃ রবিন আপটনহাসিন হায়দারের মতন মানুষের সাথে। হাসিন আমাকে উৎসাহ দেয় যে বাংলা নিয়ে কাজটা আমি প্রফেশন হিসেবে নিচ্ছিনা কেন এবং সিসটেক ডিজিটালের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। আমি দিনাজপুর অনলাইন ছেড়ে ঢাকায় চলে আসি। ইন্টেলের নববাংলা নামের একটা প্রজেক্ট ছিল সিসটেক ডিজিটালের সাথে, সেখানে কাজ শুরু করলাম, বাংলা নিয়ে কিছু রিসার্চের কাজ করছিলাম তখন আর এর মধ্য দিয়ে আমার ক্যারিয়ার শুরু।

তারপর অলোম্যাচ নামের ফ্রান্সের একটা কোম্পানির অফশোর অফিস চালাতাম। চার-পাঁচ জন ডেভলপার নিয়ে, খুব ভালো একটা টিম ছিল। আমার কপাল ভালো যে সবসময় সব টিমই ফ্র্রেন্ডলি ছিল আমার সাথে। আমাদের Systech এ ম্যানেজার ছিলেন রাশেদুল হাসান, ফ্যান্টাস্টিক গাই। অলোম্যাচ থেকে চলে গেলাম দাউদ আইটিতে। ওখানে আমরা ডেনমার্কের এডমিরাল আইটির প্রজেক্টে কাজ করতাম। তারপর চলে গেলাম সিদ্দিকি টেলিমার্কেটিংএ সেখানে ইনফ্রাটেল-এর কাজ করতাম।

এর মাঝখানে কনসাল্টেন্ট হিসেবে World Bank, USAID, CIDA, UNDP এর সাথে কাজ করা হয়েছে। ন্যাশনাল আইডির যে প্রোজেক্ট ছিল, ওটাতেও সম্পৃক্ত থাকার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। গভর্নমেন্টকে কাছ থেকে জানার ভালো সুযোগ হয়েছে। মুনীর হাসান ভাইয়ের কথা ডেফিনেটলী বলব। মুনীর হাসান ভাই গভর্নমেন্টের সাথে কাজ করার একটা ভালো লিংক করে দিয়েছিলেন। এভাবেই ক্যারিয়ার চলতে চলতে আজ মাইক্রোসফটের ডেভলপার ইভানজেলিস্ট।

টেকটিউনস: সামাজিক বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও আইটি সেক্টরের ক্যারিয়ারে কিভাবে এলেন ?
অমি আজাদ: জানিনা, আমার মনেহয় প্যাশনেট হলে সবকিছুই করা সম্ভব। আমার মামার একটা কম্পিউটার ছিল ’৯২-তে। উনি কম্পিউটার সায়েন্সে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং করেন সিংগাপুর থেকে। উনি সিংগাপুরেই সেটেল ছিলেন, কিন্তু একটা পিসি কিনে রেখে গিয়েছিলেন দিনাজপুরে। ওটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করতাম। তখন গেম খেলতাম, এটা ওটা করতাম, বাংলায় একটা বই পেয়েছিলাম কিউবেসিক প্রোগ্রামিং এর, সেটা দেখে টুকটাক DOS এ ক্যালকুলেটর বানানো জাতীয় কাজ করতাম। তারপর FOXPRO, FORTAN (খুবই ক্রিটিকাল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ) নিয়ে নাড়াচাড়া করতাম। সেগুলো নিয়ে পড়ালেখা শুরু করে দেখলাম এটা এমন একটা মেশিন একে আমি যা বলব সেটাই করবে। আগ্রহটা কিন্তু ওখান থেকেই শুরু। আমি কিন্তু খুব critical দিকে যেতাম না। আমি এটাকে যতটুকু ফান হিসেবে নেয়া যায় ততটুকুই করতাম, এক্সপ্লোর করতাম।

এপ্লিকেশনেরতো কোন লিমিট নাই। ওয়েবের যে ব্যাপারটা, ওয়েবের মধ্যেই অনেক কিছু করা যায়। এখন হ্যান্ডহোল্ড ডিভাইসও চলে এসেছে । এগুলো লিমিট ছাড়া একটা জগত, ঢুকতে ঢুকতে ঢুকেই গেলাম। আর আমি ছাত্র হিসেবে খুব ভালো ছিলাম তাও না। আমি বাধ্য হয়েই শেষে সমাজ বিজ্ঞানে ভর্তি হয়েছিলাম। সারাক্ষণই কম্পিউটার নিয়ে থাকতাম, পড়ালেখা করব কখন? :) এই জিনিসটা একটা খারাপ দিক ছিল। আমি পাঠকদের বলব দুটোই একসাথে কন্টিনিউ করতে হবে। পড়ালেখাটা খুবই কাজের। ওটাও সিরিয়াসলী নিতে হবে।

টেকটিউনস: বাংলা কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করে গেছেন বেশ বড় একটা সময় । এর পিছনে অনুপ্রেরণা কি ছিল ?
অমি আজাদ: 
বিষয়টা হচ্ছে যে ২০০০ সালের দিকে, সবাই হতে লেখালেখি করত, আমি চিন্তা করেছিলাম যে হাতে লেখালেখি করব না। তখনও চিঠির প্রচলন, ইমেইল তেমন একটা নেই। প্রশিকা, বিজয়, লেখনী সহ আরো দুই একটা টুল ছিলো বাংলা লেখার জন্য। এখন যেমন সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে লেখতে পারে, তখন এই ফিলটা ছিল না। ফন্ট চেঞ্জ করতে হয়, সার্চ করা যায় না, বিভিন্ন ব্যারিয়ার। তাছাড়া অনেক টাকা দিয়ে সফটওয়্যার কিনতে হত। Windows এর ভার্সন বদলালে বা অফিসের ভার্সন চেঞ্জ হলে সফটওয়্যার কোম্পানিকে টাকা দিয়ে আবার ঠিক করাতে হত। ২০০০ বা ২০০১ সালের দিকে ঘাটাঘাটি করছিলাম ফ্রি সাল্যুশন কি কি আছে। অলট্রিুইস্ট ইন্টারন্যাশনাল নামের একটা প্রতিষ্ঠানের প্রোজেক্ট ছিল একুশে; ডঃ রবিন আপটন সেটা চালাতেন। একুশে একটা ম্যাক্রো এপ্লিকেশন যেটা অফিস এর সাথে কাজ করবে এবং এভেইলেবেল যে ফন্ট আছে তা দিয়েই কাজ করবে। যেমন প্রশিকার যে ফন্ট আছে ওটা দিয়ে বিজয়ে লেখা যায় না, কিন্তু একুশে সবগুলোতেই লেখা যায়। এভাবে শুরু তারপর আমি কিছু এক্সটেন্ডেড করেছিলাম এপ্লিকেশনটায়, যেমন প্রশিকায় লেখা ডকুমেন্ট বিজয়ে কনভার্ট করা, বিজয়ে লেখা ডকুমেন্ট প্রশিকায় কনভার্ট করা, বিজয়েরই আবার চার-পাচঁটা ভার্সন আছে – এক ভার্সন থেকে অন্যটায় কনভার্সন, এই কাজগুলোতে আমার ইনপুট আছে। এই কাজ করতে করতে ২০০১ এর শেষের দিকে মনে হলো দেখি উইন্ডোজের বা ইউনিকোডের অবস্থাটা কেমন।

ওই সময় পরিচয় হলো পল নেলসনের সাথে, তিনি ওই সময় মাইক্রোসফটের টাইপোগ্রাফিক ডিপার্টমেন্টের হেড ছিলেন। ওরা ওই সময় বাংলা নিয়ে একটা ঝামেলায় ছিলেন এবং কনট্রিবিউটর খুঁজছিলেন। তখন বাংলা, হিন্দি সহ Indic যে ভাষাগুলো আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করছিলেন প্রফেসর যোশী । উনি ও উনার মেয়ে অপূর্বা এক সাথে কাজ করতেন। উনারা কোন কারণে প্রজেক্ট ছেড়ে ব্যাক করেন ইন্ডিয়াতে , এই আনফিনিসড প্রোজেক্ট টা R&D করতে আমি কাজ শুরু করলাম মাইক্রোসফটের সাথে। শুরুতে Non Discloser Agreement সাইন করতে হলো এবং আমার কিছু সোর্সকোডে কন্ট্রিবিউট করার সুযোগ হয়েছিলো উইন্ডোজে usp10.dll নামের একটা ফাইলের।

এই প্রথম আমার সুযোগ হয় মাইক্রোসফটের কোন সোর্স কোড দেখার। সবচেয়ে ভালো লাগে যে প্রতিটা লাইনে ডেসক্রিপশন আছে, কোন লাইন কি কাজ করছে। সাধারণত যেটা আমাদের এনভার্নমেন্টে প্রোগ্রামারদের কমেন্ট লিখতে দেখা যায়না, ফলে যে কাজ করেছে, সে ছেড়ে গেলে অন্যরা চাপে পড়ে যায় এবং কূল কিনারা পায়না। আমি যে সোর্সে অনেক মডিফিকেশন করেছি তা না, অল্প কিছু করেছি। য-ফলা নিয়ে একটা ঝামেলা ছিল ওটা ঠিক করলাম। পরেতো ‘ৎ’ চলে আসলো। ৎ তে আমার একটা ইনপুট ছিল, চন্দ্রঁবিন্দুর পজিশন নিয়ে ঝামেলা ছিল, সেটা ঠিক করেছিলাম। অফিস ২০০০ ইউজ করে তারা এই সমস্যাগুলো এখনো দেখা যাবে যেগুলি পরে ঠিক করে ফেলা হয়েছে। Virinda ফন্টটাতে সরাসরি আমার অনেক ইনপুট আছে, হিন্টিং – টেস্টিং এর বহু কাজ ছিল । এভাবে মাইক্রোফটের সাথে ইনভলবমন্ট ২০০১ এর মাঝামাঝি থেকে।

তারপর উইন্ডোজ এক্সপি সাভির্স প্যাক টু আসলো, বাংলা সাপোর্ট অনেক ভালো হলো । এর মধ্যে উইনিকোডের সাথে অনেক ফাইট চলতে লাগল, ওই সময় খুব ভালো সাপোর্ট দিয়েছিল Microsoft থেকে পিটার কনস্টেবল এবং ভারতের হায়দ্রাবার ইউনিভার্সিটির ডঃ গৌতম সেনগুপ্ত। আমরা ভীষন ফাইট করে ‘ৎ’ পেলাম। অনেকে অনেক কিছু বলে, তবে সত্য কথা বলতে বাংলাদেশ থেকে কেউ তেমন কিছুই করেনি, একটা মেইলও করেনি কেউ। আমি ওই মেইল লিস্টে ছিলাম, কখনও দেখিনাই বাংলাদেশ থেকে একটা মেইল গেল। আমরা য-ফলার জন্যও কাজ করেছিলাম, পরে আর সময় দিতে পারিনি এবং এখনো কোন সমাধান হয়নি। এভাবে বাংলা কম্পিউটিং এর সাথে আমার সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরে যেতে থাকে। আর কাজগুলি যে আমি টাকার জন্য করেছি তা না। একটা ডেডিকেশন কাজ করতো, যে আজকে এগুলি ঠিক হয়ে গেলে সমস্থ বাংলা ভাষাভাষীরা এটা ব্যবহার করতে পারবে। একই সাথে লিনাক্সের জন্যও কন্ট্রিবিউট করেছিলাম তখন।

এখনো মাইক্রোসফটের সাথে বাংলা নিয়ে কাজ করা হয়। যেমন ওরা চিন্তা করছে উইন্ডোজ এইটে একটা ট্রানসিলারেট (যেটাকে পাবলিক ফোনেটিক বলে) লেআউট থাকবে । এটা নিয়ে কিছু ইনপুট দিয়েছি, আমি জানিনা শেষ পর্যন্ত প্রোডাক্ট টিম সেটা রাখবে কি-না।

কাজ করতে করতে একদিন ওরা বলল তুমিতো অনেকদিন ধরে কাজ করছ তোমাকে একটা রিকগনিশন দেয়া দরকার। তখন ২০০৪ বা ৫-এর দিকে ওরা আমাকে MVP করে।

টেকটিউনস: আপনি কি বাংলাদেশে প্রথম MVP নাকি জাবির আল মিশো ভাই ?
অমি আজাদ: একই বছর আমি সম্ভবত ২য় কোয়ার্টারে আর মিশো ৩য় কোয়ার্টারে ।

টেকটিউনস: MVP পুরস্কার পাওয়াটা কেমন অনুভূতির ছিল ?
অমি আজাদ: Awesome! বাংলাদেশে প্রথম, আর তখন আমি ঢাকাতেও থাকি না। অদ্ভুত এক অনুভূতি! মাইক্রোসফটের একটা সার্টিফিকেট।

টেকটিউনস: আপনি যে শ্রম দিয়েছেন তার যথাযথ স্বীকৃতি কি পেয়েছেন ?
অমি আজাদ: স্বীকৃতির জন্য কিছু করিনি। হ্যাঁ at the end of the day আমাকে জীবিকা আয় করতে হবে। স্বীকৃতির জন্য বা পয়সার জন্য কাজ আমি করিনি। এখন বাংলার জন্য যারা কাজ করছে যেমন মেহেদী, হাসিন, সিয়াম, রিফাত এরা কেউ পয়সার জন্য কাজ করছে না। আবার যখন কমার্শিয়ার সাপোর্ট লাগে তখন এদের ডাক পড়ে, এটাই ভালোলাগা বা সফলতা। যেমন সিয়ামের একটা উদাহরণ দেই, রবির যখন কমার্শিয়াল ফন্টের দরকার হলো, বা নিবার্চন কমিশনের ফন্টের দরকার হলো তখন ওকে ডেকেছে, সে পয়সাও পেয়েছে। এখন বাংলা নিয়ে কিছু হলে সচিবালয় থেকে বা মিনিষ্ট্রি থেকে আমাদেরকেই ডাকে, এটাই সফলতা। তবে গভর্নমেন্ট থেকে যদি আরো ভালো সাপোর্ট পেতাম তাহলে ভালো হত। ওনাদের এটেনশন আমাদের এক্সপেক্টেড লেভেলের না।

টেকটিউনস: এক সময় আপনার উপর মাইক্রোসফটের ফন্ট নিজের বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ করা হলো – আপনার বক্তব্য কি ?
অমি আজাদ:
 (হাসি) মাইক্রোসফটের ফন্ট আমি চালালে কি আমি আজকে মাইক্রোসফটে কাজ করি! কনট্রোভার্সি থাকবেই। অনেকেই আপসেট হয়ে যায় যে বাংলার জন্য কাজ করতে গেলাম কিন্তু এটা কি হলো। এটা আমি আসলে পারসোনালী নেই না। প্রফেশনালী কাজ করতে গেলে কমিউনিটি ডেভলপ করতে গেলে অনেক বেরিয়ার আসে, সেটা ইগনোর করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

টেকটিউনস: দেশের কিছু ব্যবহারকারী বাদ দিলে প্রায় সব পিসিই পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করে, এই ব্যাপারে মাইক্রোসফট বাংলাদেশের অবস্থান কি ?
অমি আজাদ: সবকিছুই পাইরেটেড তা নয়। সচেতনতার অভাব আছে। সাড়ে তিন হাজার টাকায় কিন্তু উইন্ডোজ পাওয়া যায় সাথে একটা এন্টিভাইরাস ফ্রি। বাজারে একটা এন্টি ভাইরাস ৯০০ টাকা। তাহলে দাম হয়ে গেল ২৫০০ টাকা। ২৫০০ টাকায় একটা ওএস হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত: আমাদের এখানে একটা মিস লিডিং কথা আছে, আমরা ২০১৩ পযর্ন্ত পাইরেটেড সফটওয়্যর ইউজ করলে কেউ কিছু বলবে না। আমি যতদূর জানি এটা যে দেশে কপিরাইট আইন নেই সেদেশে প্রযোজ্য, থার্ড ওয়ার্ল্ড, ফোর্থওয়ার্ল্ড বলে কোন লাভ নাই। গরীব দেশ ভাঙ্গায় আর কত? মানুষ ওপেন সোর্স ইউজ করুক, আমার কোন সমস্যা নেই, তবে পাইরেসী যেন না হয়।

শুধু মাইক্রোসফট না। সরকার কর্পোরেটসদের সাথে কাজ করে দাম অনেক কমিয়ে আনতে পারে। সব দেশের জন্য সব কোম্পানীর আলাদা দাম নির্ধারণ করা আছে, বাংলাদেশের নাই। বিল গেটসকে চিঠি দিয়ে কি লাভ, কথা বলতে হবে হাতের কাছে যাদের পাওয়া যায় তাদের সাথে। যেগুলো আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করি এমন কোম্পানির কাছে প্রস্তাব দিলে যখন বাল্ক সেল হবে তখন দাম কমেই যাবে। এটা মাইক্রোসফট হোক বা ওরাকল আর এডোবি হোক।

টেকটিউনস: মাইক্রোসফটের MSDNAA ও Student Partner প্রোগ্রামতো ভালই এগোচ্ছে, এর মূল লক্ষ্যটা কি ?
অমি আজাদ: MSDNAA এর কিছু গোল আছে। আমাদের প্লাটফরমে যা যা আছে তা দিয়ে আমরা স্টুডেন্টদের সাপোর্ট দেই। শেয়ারপয়েন্ট কি জিনিস অনেকেই জানে না। সকালে অফিসে একটা ফোন এসেছিল শেয়ারপয়েন্ট সার্ভার মেইনটেইন করতে হবে, সাড়ে তিন লাখ টাকার বেতন দেবে, দুইজন ছেলে দরকার। আমি জানি সারা বাংলাদেশ খুঁজলেও দু’জন পাওয়া যাবেনা। জিপিতে আধা ডজন ছেলে এসেছে ইন্ডিয়া থেকে শেয়ারপয়েন্ট কাজ করতে, আমাদের দেশে লোক নাই। আমরা এই সুযোগগুলি দেই যাতে স্টুডেন্টরা একটু এক্সপ্লোর করে ক্যারিয়ারে কি নিয়ে এগোলে বেশী লাভ, সেটা বুঝতে পারে।

এক ইউনিভারর্সিটির দুজন টিচারকে একদিন জিজ্ঞাস করেছিলাম, ডায়নামিক্স কি, উনারা উত্তর দিতে পারেননি। দোষ উনাদের না, এক বড় প্রতিষ্ঠানের এক টিচারের সাথে কাজ করেছিলাম, যে কিভাবে MSDNAA নিয়ে কাজ করা যায়। কিছুদিন পর উনি মেইল দিলেন যে উনি আমেরিকায় চলে গিয়েছেন স্কলারশীপ নিয়ে এবং অমুকের সাথে কথা বলতে বললেন। অমুকের সাথে কয়েকদিন কথা বললাম, কিছুদিন পর উনিও বলেন যে আমিতো স্কলারশীপ নিয়ে চলে যাচ্ছি দেখি আপনাকে কারো সাথে ট্যাগ করে দেয়া যায় কিনা। আমি জানিনা ওরা আর দেশে ফিরে আসবে কিনা, সবাইতো আর জাফর ইকবাল না। আর এখনকার স্টুডেন্ট টিচার সবারই এক সমস্যা। কেউ কিছু এক্সপ্লোর করেনা, টিচারের ধান্দা স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে যাবে, আর স্টুডেন্টদের ধান্দা কোনোমতে পাশ করলেই হবে। এর বাহিরে যে ইন্ডাস্ট্রি আছে, ক্যারিয়ার আছে কিচ্ছু বুঝতে যায়না!

MSDNAA করার ফলে যেই জিনিসগুলো পাও, এটলিস্ট নামটা জানো। সাড়ে তিন লাখ টাকা স্যালারি ইজ এ লট অফ মানি। কিন্তু আমাদের এখানে এমন ছেলেপেলে নাই। ৯০% ইন্ডাস্ট্রিতে আমাদের প্রোডাক্টগুলো ব্যবহার করে। এই মার্কেটটা ধরলেতো আর ক্যরিয়ার নিয়ে টেনশন করতে হয়না।

বাংলাদেশ নামে ছোট দেশ কিন্তু এখানে ৮২টা ভার্সিটি আছে, সব জায়গায় পৌছানো মাইক্রোসফটের পক্ষে সম্ভব না, এজন্য MSP নেয়া হয়। MSP দের একটা ভিজিবিলিটি আসে, অফিস ৩৬৫ এর মতন অনেক ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড জিনিসপত্র ব্যবহারের সুযোগ পায়, সার্টিফিকেশন করার সুযোগ পায়।

টেকটিউনস: GNU এর জনক Richard Stallman এর এক লেখায় পড়েছিলাম মাইক্রোসফট যে ফ্রি সফটওয়্যার দেয় এটা ঠিক তেমন যে সিগারেট কোম্পানি কলেজ ছাত্রদের ফ্রি সিগারেট দেয় । আপনার মত জানতে চাচ্ছি।
অমি আজাদ: ব্যাক্তিগতভাবে বললে ভদ্রলোক অনেক ইমোশনাল কথাবার্তা বলেন। ওনার অনেক ফলোয়ার আছে আমি জানি। একবার শুনলাম উনি ল্যানকার্ড ইউজ করা বন্ধ করে দিয়েছেন ওটাতে একটা কপিরাইট করা ফামর্ওয়্যার ছিল বলে। উনি কি সাধু দরবেশ টাইপের লোক নাকি! উনাকে মানুষ খাবার দিয়ে যায়, যা খেয়ে উনি চলেন? উনার ইনকাম সোর্স কি আমি জানি না। At the end of the day you have to make money. তুমি যাই কর না কেন, তোমাকে টাকা রোজগার করতে হবে এই পৃথিবীতে বাঁচতে হলে, তুমি যদি সুন্দরবনে যেয়ে থাকো তাহলে অন্য কথা। বা আমি সাধু-দরবেশ আমার সামনে সবাই ভোগ প্রসাদ রেখে যাবে সেটা খেয়ে, মানব কল্যাণ করব। একটু আগে আমি যে কথাটা বললাম ফ্রি সফটওয়্যার যদি আমি না দেই, তুমি শেয়ারপয়েন্ট কি জানলে না, সাড়ে তিন লাখ টাকার জবটাও পেলে না, লাভ কি আমার হলো না লসটা তোমার হলো? আমি জানি উনি অনেক সম্মানী ব্যক্তি এবং আমি উনার এগেইনস্টে কিছু বলছি না। উনার ওই সময় যা ঠিক মনে হয়েছে তিনি বলেছেন। কিন্তু এখন আমি সাত লাখ টাকা মাসে খরচ করতে রাজি হয়ে দু’টা ছেলে খুঁজছি, আমি পাচ্ছি না। এখন উনি এটার জবাব কি দিবেন?

টেকটিউনস: বাংলাদেশে Imagine Cup এর কাযর্ক্রম সম্পর্কে জানান ।
অমি আজাদ: Imagine Cup বাংলাদেশে হিউজ সাকসেস। দেশের ছেলেপেলের মধ্যে যে আগ্রহ যে স্পৃহা আমরা দেখলাম তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। ব্যাক্তিগতভাবে বলছি, এটা আমি কখনই ভাবিনি যে ১০টা ভার্সিটি নক করব আর ৯০০০ স্টুডেন্ট রেজিস্ট্রেশন করবে। আমরা আশা করছি যে, ২০১২’র ইমাজিন কাপ আরও ভালো হবে। কারণ এখন সবাই জেনে গেছে ইমেজিন কাপ কি। স্টুডেন্টপার্টনাররাও কাজ করছে, ফলে ছেলেপেলেরা মোটামুটি জানে।

এবার আমরা বড় কিছু করব। গতবার যেটা হয়েছে, পার্টিসিপেন্টরা সফটওয়্যার বানিয়েছে জাজরা দেখে রেজাল্ট দিয়েছে। এবার একটু চেঞ্জ হবে। এবার আমরা প্রথম ১০টার মত প্রজেক্ট বেছে নিয়ে একটা ভেন্যুতে শোকেস করব তিন চার দিনের জন্য। NSU বা ঢাকা ভার্সিটিতে হতে পারে, যেখানে স্টুডেন্টদের গেদারিং আছে। ইমেজিন কাপ নিউইয়র্ক ফাইনাল থেকে আমার যেটা লার্নিং, যখন ইন্টারভিউ করা হয় তখন টিমের ছেলেপেলে ঘাবড়ে যায়। Practice makes a man perfect, যখন বলতে বলতে মুখে ফেনা উঠে যাবে তখন ওদের এই প্রেকটিসটা হয়ে যাবে । ওরা চ্যাম্পিয়ন না হোক কিন্তু এই প্রেকটিসটা আজ হোক কাল হোক ইন্টারভিউ বোর্ডে গেলেও কাজে লাগবে। নভেম্বারে একটা প্রেস কনফারেন্স করব প্লাস প্রিভিয়াসলী যারা লোকালী ইন্টারন্যাশনালী পার্টিসিপেট করেছে তাদের নিয়ে মিট দা প্রেস করব । তারপর যথারীতি বুটক্যাম্প চলবে।

টেকটিউনস: ২০১২ এর ইমেজিন কাপের জন্য আগ্রহীরা কিভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে ?
অমি আজাদ: ইমেজিন কাপের একটা গ্লোবাল সাইট আছে ওটাতে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে । ফলে ওরা টাইম টু টাইম আপডেট পাবে। এবারো MDG এর চ্যালেজ্ঞগুলো থাকছে, ওগুলো নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। এই কাজগুলো এখন থেকেই করতে হবে যদি কম্পিট করার ইচ্ছা থাকে।

টেকটিউনস: ২০১১ সালে টিম ড়্যাপচারের পপুলার ক্যাটাগরী জয়টা কিভাবে মূল্যায়ন করবেন ?
অমি আজাদ: টিম ড়্যাপচার একটা দুর্দান্ত টিম। ওদের উদ্দ্যম, ওদের ক্রিয়েটিভিটি এবং ওদের মেন্টর নিয়াজ মোর্শেদের যা গাইডিং, সব অসাধারণ। আমি জানিনা অন্যান্য টিম এটা পেয়েছিল কিনা । অন্যান্য টিমের টিচাররা ওদের মেন্টর ছিল, কিন্তু ওরা হয়ত ওই গাইডেন্স পায়নি। যেরকম একটা টিম উইন্ডোজ ফর্মস দিয়ে খুব ক্রিটিকাল সব কাজ করেছিলো কিন্তু ওই টিম এটাই জানতো না যে WPF নামে একটা জিনিস আছে বা সিলভার লাইট বলে এটা জিনিস আছে । যেটা ওদের ছয় মাসের কাজ কমিয়ে দিত। টিম ড়্যাপচারের জুঁটিটা সুন্দর হয়েছিলো।

টেকটিউনস: আপনি দেশের আইসিটি ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি কী জরুরি করা বলে মনে করেন।
অমি আজাদ: আমার মনে হয় বাংলাদেশে সব কিছুই আছে। শুধু যেটা নেই সেটা হলো আওয়ার্নেস । যেমন গার্মেন্ট সেক্টর, এরা এটা জানেনা যে কিভাবে আইটিকে কাজে লাগিয়ে পরিধি আরো বড় করা যায়। আর সফটওয়্যার ডেভলপামেন্ট যে কোম্পানি আছে, তাদের এই আওয়ার্নেস নাই যে এরা গার্মেন্টস সেক্টরকে কিভাবে ইমপ্রুভ করতে পারে সেই বিষয়ে এডুকেটেড করা। ইন্ডিয়াতে কিন্তু খুব বড় মার্কেট, আগে কিন্তু ছিল না। একদম রুট লেভেলে কথা বলি, আগে কিন্তু মানুষ গাছর নিচে ঘুমাতো, ঘর ছিল না। যে ঘর আবিস্কার করেছে সে কিন্তু যে গাছের নিচে ঘুমায় তার কছে আইডিয়াটা সেল করেছে। বিষয়টা এরকম। মার্কেটটা তৈরী থাকেনা, প্রয়োজনটাকে দেখাতে হয় আঙ্গুল দিয়ে যে এটা তোমার প্রয়োজন। আমাদের আইটি সেক্টরে বেটার মার্কেটিং লোক দরকার, যে প্রয়োজনাকে ফিল করাতে পারবে।

টেকটিউনস: রাজধানীর মানুষ এখন ওয়াই ম্যাক্স ব্যবহার করছে কিন্তু পুরো দেশের মানুষ এর সুফল ভোগ করবে?/দেশের ওয়াই ম্যাক্স নিয়ে কিছু বলুন।
অমি আজাদ: এগুলোর খুবই বাজে অবস্থা । এই যে আমাদের ওয়াইমেক্স বা গোটা টেলিকম ইন্ডাস্ট্রি, এদের আসলে কে কন্ট্রোল করে? কিছুদিন আগে ব্যবহারকারীরা দেখি খুবই আপসেট কারণ ওরা Fair use policy এপ্লাই করেছে। এপ্লাই করার ফলে ৩৫ জিবির বেশী ডাউনলোড হলে স্পিড কমিয়ে দেয়। সে স্পিড আবার সহজে বাড়ে না, বিলিং সাইকেল চলে গেলেও না। ফোন করে চিল্লিচিল্লি করে বাড়াতে হয়। এই FUPতো একটা পলিসি এটা কে এপ্রুভ করল? BTRC এপ্রুভ করেছে? ওরা কি একবার কি জিজ্ঞাস করেছিল কেন এই পলিসি? ব্লগে দেখি এদের বিরুদ্ধে লেখা ভরা। BTRC কি একবার বলেছে যে এত kbps এর নিচে স্পিড দেয়া যাবে না। ওরা বলে upto one mbps, তাহলে down to কত? একটা ইউজার মিনিমাম কত পাবে?

টেকটিউনস: প্বার্শবর্তী দেশ ভারতে 3G সেবা খুব ভাল মত চলছে আমাদের দেশে 3G চালু হলে তার সুফল মানুষ কতটুকু পাবে?
অমি আজাদ: আমি মন থেকে চাই 3G আসুক, কারণ বাংলাদেশে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ডিস্টেন্স অনেক বেশী। একটাই সুবিধা 3G বা ওয়াইমেক্স এর সেটা হলো দুরদুরান্তে high speed ইন্টারনেট দিতে পারব তার পাশাপাশি অন্য অনেক সার্ভিস ও চলে যাবে।

অমি আজাদের আমন্ত্রণে ইন্টারভিউ পূর্ব লান্চে (সাথে আছেন শামীম আহমেদ, একাউন্ট ম্যানেজার, পাবলিক সেক্টর, মাইক্রোসফট বাংলাদেশ)

টেকটিউনস: আপনার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে পরিকল্পনা কি কি আছে ? Entrepreneurship এ যাবার কোন পরিকল্পনা আছে ?
অমি আজাদ: আমার ক্যারিয়ারতো কমিউনিটি নিয়ে। আপাতত ইন্ট্রারপেনারশীপে যাওয়ার কোন ইচ্ছা নেই। মাইক্রোসফটের হয়ে আমি অনেকগুলো কাজ শুরু করেছি এবং অনেকগুলো চিন্তাধারা কে কাজে লাগাচ্ছি। যেমন আমি আসার আগে ইমেজিন কাপ বাংলাদেশে ছিলই না, তারপর MSDNAA, স্টুডেন্ট পার্টনারশীপ। এগুলো নিয়ে আমার লংটার্ম ভিশন আছে । আরেকটা নতুন প্রোগ্রাম আনছি ফ্যাকাল্টি কানেকশনস। এগুলো নিয়ে আমার ভিশন যেগুলো আছে ওগুলো ছেড়ে আমি কালই ইন্ট্রারপেনারশীপে যেতে পারবো না। তবে কেউ যদি করতে চায় তাহলে আমি সব ধরণের সাপোর্ট দিতে রাজি আছি। মাইক্রোসফটের বিভিন্ন প্রোগ্রাম আছে বা বুদ্ধি দিয়ে জ্ঞান দিয়ে হোক হেল্প করতে রাজি আছি। কিন্তু এই মুহূর্তে আগামী এক দুই বছর এরকম কিছু চিন্তা করছি না। তবে লংটার্মে হয়ত মুভ করতে হবে, we all have to move on ।

টেকটিউনস: আপনার পরিবার সমন্ধে কিছু বলুন।
অমি আজাদ: আমার পরিবার খুব ছোট । আমি, আমার বউ আর আমার বাচ্চা। ছেলের বয়স ছয় বছরও কেজিতে পড়ে মাইলস্টোন স্কুলে। আমার বউ হাউজ ওয়াইফ, আগে টিচার ছিল মাইলস্টোন স্কুলেই। ও বাসায় থাকতে বা ঘর গোছাতেই বেশী পছন্দ করে। আমার মায়ের সাথে খুব ক্লোজ রিলেশন ছিল, আম্মা আমাদের খুব ভালোভাবে গড়ে তুলেছেন, যার কারণে এই পূর্যন্ত আসতে পারা এবং এগিয়ে যাওয়া। আমি চাই না আমার ছেলের সাথে মা’র কোন গ্যাপ থাকুক। তাই আমিও এনকারেজ করি না বাইরে জব করুক। তবে everyone has their freedom.

টেকটিউনস: টেকটিউনস কেমন লাগে ?
অমি আজাদ: টেকটিউনসের ইনফো খুবই সুন্দর । সাইটা যদি আমি এক কথায় বলি খুবই প্রোফেশনাল । CNet এর কোন বাংলা ভার্সন যদি চিন্তা করতাম তাহলে এর থেকে ভালো কিছু হতে পারত না। কিন্তু একটা জিনিস খারাপ, পাইরেসী। টেকটিউনসে সফটওয়্যার বা মুভি পাইরেসীগুলো ঠিক না। এটা যদি বন্ধ করে দেয় তাহলে কিছু ভিজিটর কমে যাবে, কিন্তু awareness টা শুরু করতে হবে। পাইরেসী নিয়ে আমাদের অনেক সমস্যা। টেকটিউনস আশা করি একটা রেভুলুশন শুরু করতে পারে। কারো ব্লগ পোষ্ট মুছে দেয়ার দরকার নাই, কিন্তু সচেতনতাটা আরম্ভ করতে হবে।

টেকটিউনস: প্রযুক্তির ক্ষেত্রে টেকটিউনসের আর কী কী করা উচিত বল আপনি মনে করেন।
অমি আজাদ: টেকটিউনস থেকে আশা করি, যে বেশ কিছু অপার্চুনিটিস আমাদের সামনে আছে। যেমন Javascript conference হয়ে গেল, phpXpert সেমিনার আছে, dotNET ওপেন ডে হলো, সামনে ইমেজিন কাপ আছে । টেকটিউনস আমাদের সাথে কাজ করতে পারে, শুধু মাইক্রোসফট না, সবার সাথে। যাতে অনলাইন সেক্টরে জিনিসগুলো ফোকাস পায়। যেমন ইভেন্টগুলো প্রোফেশনাল ডকুমেন্ট থাকে না, কেউ একজন দায়সারা কিছু লিখলো, কিন্তু প্রোফেশনাল ডকুমেন্ট দরকার আছে । ইভেন্টগুলোতে ৯০% ই একই অডিএন্স আসে, প্রোফেশনাল ডকুমেন্টেশন থাকলে নতুনরা জানতে পারত।

টেকটিউনস: টেকটিউনসের পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
অমি আজাদ: টেকটিউনসকেও অনেক ধন্যবাদ।

মাইক্রোসফট বাংলাদেশ লিমিটেড এর অফিস ফটোট্যুর

SAM_0478
SAM_0449
SAM_0455
imaginecupbd2011
SAM_0458
SAM_0479
SAM_0464
SAM_0448
SAM_0456
SAM_0461
SAM_0468
SAM_0469
techtunes tuneterview omiazad_featured
————————————————————————————————-

 

About বিদ্যুৎ বিশ্বাস

একটি উত্তর দিন