অনিশ্চয়তায় ৪জি তরঙ্গ নিলাম

অনিশ্চয়তায় ৪জি তরঙ্গ নিলাম

4gইমদাদুল হক: অপারেটর এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে চলমান ঠাণ্ডা লড়াইয়ে সময় মতো ৪জি তরঙ্গ নিলামে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। মোবাইল কোম্পানির বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঘোষিত নিলাম আহ্বানে অংশ না নেয়ার লিখিত অস্বিকৃতি বার্তা পাঠানোর পর এই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে তরঙ্গ নিলামের আগে মোবাইল কোম্পানিগুলোর নিষ্পত্তি করতে বৈঠকের উদ্যোগে নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিটআরসি। বৃহস্পতিবার আলোচনার প্রস্তবনা দিয়ে ১৮০০ এবং ২১০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ বরাদ্দ বিষয়ে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে।
বিটিআরসির উপপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে সমস্যাগুলোর সমাধানের মাধ্যমে তরঙ্গ নিলাম কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে করতে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিটিআরসির চেয়ারম্যান, এনবিআরের চেয়ারম্যান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মোবাইল কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের বৈঠককের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে বৈঠক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীর সময় চাওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১ মার্চ ‘ঝুলে থাকা সমস্যার সমাধান না করা হলে আগামী ৩০ এপ্রিলের তরঙ্গ নিলামে তাদের এ-দেশীয় অপারেটররা অংশ নেবে না’ বলে সরকারকে যৌথভাবে চিঠি দিয়েছিলো দেশের শীর্ষ চারটি মোবাইল কোম্পানির বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। মোবাইল অপারেটরদের পাঠানো ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তরঙ্গ নিলামের বিষয়টি অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে যায়।
অবশ্য গত বছর নভেম্বরে ২০১২ সাল থেকে রাজস্ব বোর্ড-এর দাবি করা ৩০১০.৯৯ কোটি টাকা থেকে সিম প্রতিস্থাপন কর ২০১৪ সালের নভেম্বরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা কমিয়ে দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত। রাজস্ববোর্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বলছে, গ্রামীণফোনের কাছে তাদের পাওনার পরিমাণ ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। বাংলালিংকের কাছে প্রতিষ্ঠানটির পাওনা ৭৬২ কোটি টাকা, রবির কাছে পাওনা ৬৪৭ কোটি টাকা ও এয়ারটেলের কাছে পাওনা ৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। প্রসঙ্গত, উদ্ভূত সমস্যায় নিলামে তরঙ্গ বিক্রি না হলে সরকারের কমপক্ষে পাঁচ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে হতে পারে।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন