অনলাইন আউটসোর্সিং ও ফ্রিলান্সিং

অনলাইন আউটসোর্সিং ও ফ্রিলান্সিং

outঅনলাইন আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকা আরেকটি শব্দ হলো ফ্রিলান্সিং (Freelancing)। ফ্রিল্যান্সিং বলতে ‘মুক্ত পেশা’ বোঝানো হয়। এখান থেকেই ফ্রিলেন্সার বা মুক্ত পেশাজীবী কথাটা এসেছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে না করে ব্যক্তিগতভাবে যখন কেউ আউটসোর্সিংয়ের কাজ করেন তখন তাদের ফ্রিল্যান্সার বলা হয়। তবে এটা যে কোনো পেশার ক্ষেত্রে হতে পারে। সাধারণত যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করে তাদের ফ্রিল্যান্সার বলে। আসলে মুক্ত বা স্বাধীনভাবে কাজ করার মাধ্যমই হলো ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিলান্সাররা দেশ-বিদেশের সবার সঙ্গে কাজ করে সম্পূর্ণ নিজের স্বাধীনতায়। কেউ তাকে বাধা বা কাজ বিঘ্নিত করতে পারে না। গতানুগতিক চাকরির বাইরে নিজের ইচ্ছামত কাজ করার স্বাধীনতা থাকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে। ফ্রিল্যান্সার হচ্ছেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি ছাড়া কাজ করেন। এখানে একদিকে যেমন রয়েছে যখন ইচ্ছা তখন কাজ করার স্বাধীনতা, তেমনি রয়েছে কাজের ধরন বাছাই করার স্বাধীনতা। হতে পারে তা ওয়েবসাইট তৈরি, থ্রিডি এনিমেশন, ছবি সম্পাদনা, ডাটা এন্ট্রি বা শুধু লেখালেখি করা। অর্থাত্ গতানুগতিক ৯টা-৫টা অফিস সময়ের মধ্যে ফ্রিল্যান্সারদের স্বীমাবদ্ধ থাকতে হয় না। ইন্টারনেটের কল্যাণে ফ্রিল্যান্সিং নির্দিষ্ট স্থানের সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত নয়। আপনার সঙ্গে যদি থাকে একটি কম্পিউটার আর একটি ইন্টারনেট সংযোগ তাহলে যে কোনো জায়গাতে বসেই আপনি ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের কাজগুলো করতে পারেন। এরই মধ্যে এ ধরনের একটা জনশক্তি দাঁড়িয়ে গেছে বাংলাদেশে। বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি। এদের অর্ধেকই নিয়মিত আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে থাকে। এদের মধ্যে অনেকে রয়েছে যারা পড়ালেখা শেষ করে কোনো চাকরিতে যোগ না দিয়ে সরাসরি অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করছেন। অনেকে আবার অন্যদের জন্য কর্মক্ষেত্র সুষ্টি করছেন।
তবে এখনও বিষয়টা বেশিরভাগের কাছে পরিষ্কার না হওয়ায় আউটসোর্সিংয়ের বিশাল বাজারে ভারত বা ফিলিপাইনের মতো আমরা সেভাবে প্রবেশ করতে পারিনি। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং ডাটা এন্ট্রির কাজ করে প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার ডলারের মতো আয় করে থাকেন।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন