অনলাইনে জমির নকশা দেখা, খাজনা ও নামজারির সুবিধা!

অনলাইনে জমির নকশা দেখা, খাজনা ও নামজারির সুবিধা!

molঅনলাইনে জমির খাজনা ও নামজারি ফি প্রদান প্রক্রিয়া চালু করতে যাচ্ছে ভূমি মন্ত্রণালয়। শিগগির ঢাকার একটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হবে। এ কার্যক্রম চালু হলে মানুষ হয়রানি ও দুর্নীতির হাত থেকে রেহাই পাবে। একই সঙ্গে এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে। ভূমি রেজিস্ট্রেশনের কাজ আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে ন্যস্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ কাজটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া হলে রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদানও অনলাইনের আওতায় আনা হবে। এতে ভূমি মালিকরা একটি জায়গা থেকেই সব সেবা পাবেন।
সূত্র জানায়, ভূমি রেজিস্ট্রেশনের কাজ আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে হয়ে থাকে; কিন্তু কাজটি সম্পূর্ণরূপে ভূমি-সংক্রান্ত হওয়ায় তা ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার জন্য আইনমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন ভূমিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এ কাজটি ভূমি মন্ত্রণালয়কে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছেও দাবি জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। শিগগির এ ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হবে।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, জমির নামজারি ও খাজনা পরিশোধে অনলাইন সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি চালু হলে মানুষ হয়রানি থেকে রেহাই পাবে। দুর্নীতির শিকারও হতে হবে না। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব বেড়ে যাবে। তিনি বলেন,
ভূমি রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে ন্যস্ত করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
সূত্র জানায়, ভূমির কাজ ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনেই থাকবে। দীর্ঘদিন ধরেই ভূমি মমন্ত্রণালয় ভূমি রেজিস্ট্রেশনের কাজটি নেওয়ার চেষ্টা করে আসছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ভূমি রেজিস্ট্রেশনের কাজটি এখন পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা সম্ভব হয়নি। কাজটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলেই রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, খাজনা পরিশোধসহ অন্যান্য সেবা দিতে এ মন্ত্রণালয় হবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস।
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালক এম এ মান্নান বলেন, শিগগির পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর বারিধারায় অনলাইনে জমির খাজনা পরিশোধের প্রক্রিয়া চালু হবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে খাজনা পরিশোধ ও নামজারির ফি পরিশোধের অনলাইন প্রক্রিয়া চালু হবে। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলার তহসিল অফিসের রেজিস্ট্রার বুক-২ কম্পিউটারাইজড করা হবে। এরপর নিজস্ব সফটওয়্যারে অনলাইন পদ্ধতি চালু করা হবে। জমি ক্রয়-বিক্রয়, বায়নাপত্র, চুক্তিপত্রসহ নানা ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন করা হয়।
সূত্র জানায়, ডিজিটালাইজেশনের আওতায় এরই মধ্যে ২ লাখ ৪ হাজার মৌজা ম্যাপের মধ্যে সিএস এবং এসএ জরিপের ১ লাখ ১৫ হাজার ম্যাপ কম্পিউটারাইজড করা হয়েছে। এখন যে কেউ ৩১০ টাকা ফি জমা দিয়ে ১৫ মিনিটেই নিতে পারবেন ম্যাপ। দেশের আরও আরএস জরিপের ৮৯ হাজার ম্যাপ ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। একইভাবে খাজনা ও নামজারি ফি প্রদানও ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হচ্ছে।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন