অডিও ইন্ডাস্ট্রির অনলাইন যাত্রা

অডিও ইন্ডাস্ট্রির অনলাইন যাত্রা

পাইরেসির কবলে মুখ থুবড়ে পড়া অডিও ইন্ডাস্ট্রি এবার যাত্রা শুরু করছে অনলাইনভিত্তিক অ্যালবাম মুক্তির দিকে। পাইরেসি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে প্রযোজনা সংস্থাগুলো বাধ্য হয়েই ওয়েবসাইটে অ্যালবাম মুক্তির ব্যাপারে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

এর আগে ব্যক্তি উদ্যোগে দুয়েকজন শিল্পী অনলাইনে অ্যালবাম মুক্তি দিলেও বিভিন্ন অডিও প্রযোজনা সংস্থার এ পথে আসার চিন্তা করেনি এতকাল।

সম্প্রতি ‘মাশরুম এন্টারটেইনমেন্ট’ নামের একটি ডিজিটাল রেকর্ড লেভেল প্রতিষ্ঠান অনলাইনে অ্যালবাম মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মাশরুম এন্টারটেইনমেন্ট আন্তর্জাতিক সংগীত সম্প্রচার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘আই টিউনস’, ‘আমাজনস’, ‘রেডিও স্পটিফাই’ ও ‘ইউটিউব’ এ দেশীয় শিল্পীদের গান সরবরাহ করবে। আর বিনিময়ে শিল্পীরা পাবেন সম্মানী। সম্প্রতি এ প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূতও হয়েছেন ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ। গত ১১ জুন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। অনুষ্ঠানে শাফিন আহমেদ ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে ২২টি গানও হস্তান্তর করেন।

এমন পরিস্থিতিতে পিছিয়ে থাকতে নারাজ দেশের অন্যতম অডিও প্রযোজনা সংস্থাগুলো। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ওয়েবভিত্তিক অডিওবাজারে প্রবেশ করছে অডিও প্রযোজনা সংস্থা লেজার ভিশন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাযহারুল ইসলাম বাংলামেইলকে জানান, ‘অডিও ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান হতাশাজনক পরিস্থিতিতে এ ছাড়া আর কোনো উপায় আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। সরকার এগিয়ে আসছে না। আমরা ওয়েবে অর্থের বিনিময়ে অ্যালবাম মুক্তির ব্যাপারে ইতিমধ্যেই ‘আইটিউন’ এর সঙ্গে আলাপ করেছি। আরো আলাপ চলছে। আশা করছি আগামী ছয়মাসের মধ্যেই আমরা ওয়েবে অ্যালবাম মুক্তি দেব।’ এর মাধ্যমে শিল্পীরা যথাযোগ্য সম্মনী পাবেন বলেও তিনি জানান।

ইমপ্রেস অডিও ভিশনও এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথেই এগোচ্ছে। ইমপ্রেস অডিও ভিশনের হেড অব ডিরেক্টর আসাদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে বাংলদেশে ভিইউ মোবাইল, গ্যাক মিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের অ্যালবাম দিয়েছি। সেখানে আমাদের অ্যালবাম পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি আমাজন, আইটিউনসসহ ভালো ভালো ওয়েব মাধ্যমে আমাদের অ্যালবামগুলো মুক্তি দেয়ার। শিগগিরই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়টি জানাবো।’

গানচিলের উপদেষ্টা আসিফ ইকবাল বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা আছে। কিন্তু আমরা এর বাস্তবতা খুঁজে পাচ্ছি না। যেখানে মানুষ ওয়েবে খুঁজলেই ফ্রি গান পেয়ে যাচ্ছে, সেখানে কীভাবে মানুষ ওয়েব থেকে টাকা দিয়ে অ্যালবাম কিনে নেবে? আমার মনে হয় সরকারের উচিত এমন কোনো টেকনোলজি ডেভেলপ করা যাতে স্বত্বটা টিকে থাকে, অন্যরা গান কপি না করতে পারে। তাহলে আমরা সরাসরি ওয়েবে মুক্তির ব্যাপারে ভাববো। আমরাও ওয়েবে গান মুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী।’

ওয়েবে অ্যালবাম মুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত থাকলেও, প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এ সময়ে ওয়েবেই অ্যালবাম মুক্তি দেয়া উচিৎ বলে মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রির বিশ্লেষকরা। তবে পাশাপাশি গান পাইরেসির সঙ্গে জড়িত ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্টদের ব্যাপারে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তবে যে অডিও শিল্প যে মাধ্যমের দিকেই যাক না কেন, সরকার পাইরেসি বন্ধে পদক্ষেপ না নিলে এ সমস্যার সমাধান কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন শিল্পীদের অনেকেই। পাশাপাশি শ্রোতাদেরও সৎ ও সচেতন হতে আহবান জানিয়েছেন তারা।

সূত্র: বাংলামেইল

About কমজগৎ ডেস্ক

একটি উত্তর দিন